জন্মের সময় হারানো ছেলে চার দশক পর ফিরে পেল মাকে  

২৮ আগস্ট ২০২৩, ০২:০৬ PM , আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০২৫, ০২:৫৯ PM
মা ও ছেলের প্রথম দেখা হওয়ার মুহূর্ত

মা ও ছেলের প্রথম দেখা হওয়ার মুহূর্ত © সংগৃহীত

পৃথিবীতে অবিশ্বাস্য কত কিছুই না ঘটে। বিচিত্র জীবনে ঘটনার ভিন্নতাও দেখা যায় অনেক। কখনো মানুষ হারিয়ে ফেলে মূল্যবান অনেক কিছু আবার কখনও এমন অনেক মূল্যবান কিছু পেয়ে যায় যা সে কখনও পাবে বলে আশায় রাখেনি। এমনি এক অকল্পনীয় ঘটনা ঘটেছে চিলির ভালদিভিয়াতে।

আজ থেকে বিয়াল্লিশ বছর আগে মারিয়া অ্যাঞ্জেলিকা গঞ্জালেজের জন্মের পরপরই মৃত সন্তান সম্প্রতি ফিরে এসেছে তার কাছে। ছেলে জন্মের পরপরই মারা গেছে বলে গঞ্জালেজকে জানায় হাসপাতালের কর্মীরা এবং এই কথা বলে ছেলেকে তাঁর কোল থেকে তুলে নেয় তারা। 

চার দশকেরও বেশি সময় আগে হাসপাতাল থেকে চুরি হয়ে যাওয়া সেই ছেলেটির নাম জিমি লিপার্ট থাইডেন। জন্মের পরপরই জিমি লিপার্ট থাইডেনকে বিক্রি করে দেয়ায় তিনি দত্তক নেয়া পরিবারের সাথেই এখন থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার অ্যাশবার্নে। এক পর্যায়ে জিমি তার দত্তক নেওয়ার কাগজপত্র থেকে তার কোনো আত্মীয় স্বজন জীবিত নেই বলে জানতে পারেন। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে মা এবং পাঁচ ভাই বোন থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন বলে বার্তা সংস্থা এপিকে জানান তিনি।

ছেলে জিমি লিপার্ট তাঁর মাকে খুঁজে বের করার অভিযান শুরু করেছিলেন চলতি বছরের এপ্রিলে। হারিয়ে যাওয়া পরিবার ও আত্মীয়দের খুঁজে দেয়া  চিলির অলাভজনক সংস্থা নোস বুসকামোসের সহায়তায় তিনি জানতে পারেন তার জন্ম হয়েছিল চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোর একটি হাসপাতালে। জন্মের পর তার মাকে বলা হয়েছিল, ছেলেটি বেঁচে নেই এবং তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে। 

জিমি থাইডেন বলেন, তিনি তার দত্তক নেওয়ার কাগজপত্রে তার জন্মস্থানের ঠিকানা ও মায়ের নাম ‘মারিয়া অ্যাঞ্জেলিকা গঞ্জালেজ দেখতে পান। পরে সেটি তার চাচাত ভাইকে পাঠান। এরপরই মূলত মাকে খুঁজে পাওয়ার পথ খুলে যায় জিমি থাইডেনের। খোঁজ পেয়ে স্ত্রী এবং দুই কন্যাসহ চিলিতে যান মায়ের সঙ্গে দেখা করতে। জন্মদাত্রী মায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যাপারে তাঁর দত্তক পিতামাতা কোনো আপত্তি করেননি। মাকে ফিরে পাওয়ার পর আবেগ আপ্লুত হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জিমি বলেন, আমি কোনোদিন আমার মাকে খুঁজে পাব, তা কল্পনাও করিনি; আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি মা।

মা মারিয়া অ্যাঞ্জেলিকা গঞ্জালেজ ছেলেকে সাদরে গ্রহণ করতে ৪২টি রঙিন বেলুন দিয়ে বাড়ি সাজান। মারিয়া অ্যাঞ্জেলিকা বলেন, আমি আমার ছেলের জন্য কত রাত যে কেঁদেছি। কত অশ্রু ঝরিয়েছি, তা কেবল আমি জানি।

এই বিষয়ে সহায়তাকারী সংস্থা নোস বুসকামোস জানায়, তারা মাইহেরিটেজ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ডিএনএ পরীক্ষা করে থাকে। জিমি লিপার্ট থাইডেনের ডিএনএ পরীক্ষা করে জানা গেছে, তিনি শতভাগ চিলির নাগিরক এবং তার চাচাত ভাইদের সঙ্গে তাঁর ডিএনএ মিলে গেছে।

নোস বুসকামোস আরও জানায়, তারা পুলিশের একটি তদন্ত প্রতিবেদন থেকে তারা জানতে পারে, ১৯৭০ ও ১৯৮০ সালের দিকে চিলির বিভিন্ন পরিবার থেকে কয়েক হাজার শিশু অন্য দেশে চলে গেছে এবং তারা আর কখনোই ফিরে আসেনি এবং প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, ওই শিশুরা চুরি হয়ে গেছে, যা তাদের মায়েরা জানতেন না। 
গত ৯ বছরে এ রকম দত্তক নেওয়া ৪৫০ জনকে তাদের পরিবারের কাছে পুনর্মিলনের ব্যবস্থা করেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক কনস্টানজা দেল রিও।

বিএনপির সেই প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের বাধা কাটল
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পে স্কেলের দাবিতে কর্মবিরতি চলছেই, শহীদ মিনারে সমাবেশের ঘোষ…
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কোনো আধিপত্যবাদ মানা হবে না: জামায়াত আমির
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে ১০০ বছর বাংলাদেশ সুন্দরভাবে চলবে: …
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নুরের আসনে বিলুপ্ত দুই উপজেলায় বিএনপির নতুন কমিটি
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বরগুনার দুই আসনেই জয়ের আভাস বিএনপির
  • ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬