নির্বাচনে চার প্রার্থী © সংগৃহীত
দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় জেলা বরগুনায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। শহরের অলিগলি থেকে গ্রাম-গঞ্জ, হাটবাজার ও চরাঞ্চলে প্রার্থী ও সমর্থকদের সক্রিয় উপস্থিতি চোখে পড়লেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে রয়েছে একধরনের নীরবতা। তবে এই নীরব ভোটাররাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘদিন পর বরগুনায় তুলনামূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি এসেছে। একাধিক দলের অংশগ্রহণে ভোটের সমীকরণ জটিল হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় বরগুনার দুই সংসদীয় আসনেই বিএনপি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
বরগুনা-১ আসন: সাংগঠনিক শক্তিতে এগিয়ে বিএনপি
আমতলী, তালতলী ও বরগুনা সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৬০ জন। এই আসনে বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা দলীয় সাংগঠনিক শক্তি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও শক্তিশালী কর্মীসমর্থকদের ওপর ভর করে ধারাবাহিক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় বিএনপির ভোটব্যাংক আরও সুসংহত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ধর্মভিত্তিক একটি নির্দিষ্ট ভোটার গোষ্ঠীর সমর্থন পেলেও সামগ্রিক ভোটের সমীকরণে বিএনপি এগিয়ে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নদীভাঙন—এই ইস্যুগুলোতে বিএনপি প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে বিশ্লেষকদের মত।
বরগুনা-২ আসন: অভিজ্ঞতার পাল্লায় ভারী বিএনপি
বামনা, পাথরঘাটা ও বেতাগী উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা-২ আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪৪ জন এবং এবারের নির্বাচনে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই আসনে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ নুরুল ইসলাম মনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তির কারণে তিনি মাঠে স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তার বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদসহ একাধিক দলের প্রার্থী থাকায় ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বিএনপির পক্ষেই যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নদীভাঙন, জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা এবং জেলে ও কৃষকদের জীবনসংগ্রাম—এসব ইস্যুতে বিএনপির অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রতি ভোটারদের আস্থার ইঙ্গিত মিলছে মাঠপর্যায়ের আলোচনায়।
শেষ মুহূর্তে নীরব ভোটারই ফ্যাক্টর
বরগুনার দুই আসনেই ভোটাররা প্রকাশ্যে অবস্থান জানাতে অনাগ্রহী হলেও ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ, শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং নীরব ভোটারদের রায়ই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করবে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলেও সাংগঠনিক শক্তি, অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ও ভোট বিভাজনের কারণে বরগুনার দুই আসনেই বিএনপির জয়ের আভাস মিলছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের রায়েই নির্ধারিত হবে কারা হাসবেন শেষ হাসি।