শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন কারিকুলাম: সবাইকে ঘাড় ধরে এক বানানোর চেষ্টা

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:০১ PM
কামরুল হাসান মামুন

কামরুল হাসান মামুন © সংগৃহীত

২০২৩ সাল থেকে নতুন পাঠ্যসূচীতে নবম ও দশম শ্রেণির নতুন কাররিকুলাম অনুসারে সব শিক্ষার্থীকে দশটি বিষয় পড়তে হবে৷ অর্থাৎ বিষয় পছন্দ হউক বা না হউক, বিষয় পারুক বা না পারুক সবাইকে ১০টি বিষয়ই পড়তে হবে। বর্তমান চলমান পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা কিছুটা অন্তত বাছাই করার সুযোগ পেত। যদি কেউ গণিত ও বিজ্ঞান বেশি পছন্দ সে তখন বিজ্ঞান বিভাগে যেতে পারে, কেউ গণিতে একটু দুর্বল বা অপছন্দ হলে সে মানবিক বা কলা বিভাগে যেতে পারে আর যারা নিশ্চিত ভবিষ্যতে ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পড়বে সে কমার্স বিভাগে যেতে পারে। এখন এই সুযোগ টুকু পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এখন ঘাড়ে ধরে সবাইকে এক বানানোর চেষ্টা। পৃথিবীর কেউই এক রকম না। বৈচিত্রতাই পৃথিবীর সৌন্দর্য্য। নতুন নিয়ম এই বৈচিত্রতাকে কেড়ে নিয়ে সবাইকে এক বানানোর নিয়ম করেছে। এইটা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বনাশ করে ছাড়বে বলে দিচ্ছি।

ওটুকুও যেন শেষ না। সাথে আগের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগুরুত্বপূর্ণ করে নতুন অনেক অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঢুকানো হয়েছে। যেই ১০টি বিষয় নবম ও দশম শ্রেণীতে পড়ানো হবে সেগুলো হলো বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা, জীবন ও জীবিকা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, ভালো থাকা, এবং শিল্প ও সংস্কৃতি। তার মানে কি? এর মানে হলো বর্তমানের তিনটি আলাদা আলাদা বিষয়, যেমন পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান- এই ৩ বিষয় থেকে তিন ভাগের ১ ভাগ করে নিয়ে একটি বিষয় বানানো হবে। যার নাম হবে বিজ্ঞান। অথচ সারা পৃথিবীতে নবম শ্রেণি থেকেই মৌলিক বিজ্ঞানের এই ৩টি বিষয়কে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলাদা বিষয় হিসাবে পড়ানো হয়। কোথাও এর ব্যতিক্ৰম নেই। কোথাও না।

নতুন নিয়মে আর কি পরিবর্তন আনা হবে? সেখানে জীবন ও জীবিকা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, ভালো থাকা, এবং শিল্প ও সংস্কৃতি নামে নতুন ৪টি বিষয় যোগ করা হয়েছে। মৌলিক বিজ্ঞানকে কেটেছেঁটে সেখানে জীবন ও জীবিকা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, ভালো থাকা দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে যেই শিক্ষা হবে সেই শিক্ষা কি যুগোপযোগী হবে? জীবন ও জীবিকা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, ভালো থাকা ইত্যাদি বিষয় পড়ানোর জন্য আমাদের আলাদা বোর্ড আছে। আমাদের কারিগরি বোর্ডের অধীনেই এই সব পড়ানো হয় বা পড়ানো যায়। মজার ব্যাপার হলো এই সব বিষয় পড়ানো হলেও এই সব বিষয়ে পরীক্ষা হবে না। আমাদের শিক্ষা চাকুরী ব্যবস্থা ফলাফল ও নম্বর ভিত্তিক। পরীক্ষাই যদি না থাকে এই সব বিষয়কে কেউ গুনবে? শুধু শুধু কেন তাহলে মৌলিক বিজ্ঞানের বিষয়গুলোকে অগুরুত্বপূর্ণ বানিয়ে ফেলা হলো?

অন্যদিকে উচ্চমাধ্যমিকের বিজ্ঞানের বিষয়গুলো কিন্তু অপরিবর্তিত আছে। এইবার বলুন এই কম জানা শিক্ষার্থীরা যখন উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে উঠবে তখনতো তারা কুয়া থেকে একেবারে সমুদ্রে পরে যাবে। তারাতো কোনো কূল কিনারা পাবে না। একেবারে মাঠে মারা যাবে। এমনিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা যেই শিক্ষার্থীদের পাই তারা বিজ্ঞানে যথেষ্ট দুর্বল। কারণ স্কুল-কলেজে মানসম্পন্ন শিক্ষক দেওয়া হয় না। নতুন কারিকুলাম পড়ে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবে তাদের কি অবস্থা হবে আমিতো এখনই শংকিত।

প্রশ্ন হলো কাদের পরামর্শে, কাদের সাথে কথা বলে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে? তারা কারা? এত খারাপ একটা পরিবর্তন দেখেও দেশের অধিকাংশ শিক্ষক বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যাদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করা এবং মত প্রকাশের একটু হলেও স্বাধীনতা আছে। আমাদের স্কুল কলেজের শিক্ষকদেরতো সেটা নাই। তথাপি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আওয়াজ তুলছে না। কারণ রাজনীতি। এইজন্যইতো সরকার আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতি ইঞ্জেক্ট করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যতবেশি রাজনীতি থাকবে তত বেশি দলকানা শিক্ষক হবে এবং তা হলে ওই শিক্ষকরা যদি কথা বলতেই হয় বলবে বাহ্ খুব ভালো হয়েছে। সহমত হওয়া ছাড়া তাদের অন্য কোন অপসন নাই। দল করেও সমালোচনা করলে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠবে। এইভাবেই দেশটাকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে।

আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি এই নতুন পরিবর্তিত কাররিকুলাম কার্যকর হলে বাংলা মাধ্যমের কবর রচনা হবে। এই পরিবর্তন কার্যকর হলে শিক্ষার্থীরা দলে দলে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে যাবে। এটাই কি তাহলে আসল মতলব? ইংরেজি মাধ্যম আর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া বাড়িয়ে তাদের মালিকদের ব্যবসা বাড়ানোর ধান্দা? না এর সাথে আরো ধান্দা আছে। বই লেখা, বই ছাপানো, বিদেশে ট্রেনিং ইত্যাদি করে অনেকের পকেটে অনেক টাকা যাবে। বিনিময়ে দেশের শিক্ষাটার বারটা না শুধু ২৪টা বাজবে বলে দিলাম কিন্তু।

বিভাগ উঠিয়ে দিয়ে যা করা উচিত ছিল সেটা হলো যত ইচ্ছে বিষয় ঢুকান এবং সকল বিষয়কে ঐচ্ছিক করে দেওয়া। শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দ মত বিষয় যত সংখ্যক ইচ্ছে নির্বাচন করবে এবং সেটাই করা হয় ইংরেজি মাধ্যমসহ পৃথিবীর সকল উন্নত দেশে। কেউ যদি সংগীত, চারুকলা নিয়ে পড়তে চায় সেটাও যেন পড়তে পারে। বিভাগ উঠিয়ে দেওয়া মানে গলায় ফাঁস পড়ানো না। এক চিমটি পদার্থবিজ্ঞান, এক চিমটি রসায়ন ও এক চিমটি জীববিজ্ঞান দিয়ে এই স্যালাইন শিক্ষা জাতির ডায়রিয়া সারলেও পরিশেষে ক্যান্সারে আক্রান্ত করবে।

লেখক: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

অত্যাচারী স্বামী জামিন পাওয়ায় বিচারকের সামনেই বিষপান স্ত্রীর
  • ১০ মে ২০২৬
বাবা নেই, মা বিদেশে—৯৯৯-এ ফোন পেয়ে স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ…
  • ১০ মে ২০২৬
সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের জামিন মঞ্জুর
  • ১০ মে ২০২৬
টিনশেডের প্রশাসনিক ভবনে চলছে কার্যক্রম, ৬২ বছর পেরোলেও হয়নি…
  • ১০ মে ২০২৬
নবম পে-স্কেল নিয়ে সুখবর পাচ্ছেন চাকরিজীবী-পেনশনভোগীরা
  • ১০ মে ২০২৬
নেত্রকোনায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু 
  • ১০ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9