শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ হোক স্বচ্ছতার সঙ্গে

০৯ মে ২০২৬, ১২:৩১ PM
টিডিসি সম্পাদিত

টিডিসি সম্পাদিত © টিডিসি

রাষ্ট্রের কাছে দাবি করা যেকোনো নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু কেউ যদি অন্যায় দাবি তোলে? চুরি, ডাকাতি করার অধিকার চায়? অন্যায় করে, দালালি- দুর্নীতি তথা টাকা দিয়ে পদ কিনতে চায়, তাকেও আমরা গণতান্ত্রিক অধিকার বলব। দুর্নীতির অবাধ সুযোগ চেয়ে কেউ যদি যোগ্য প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের বিরোধিতা করে, তাকে জায়গায় ব্রেক দেওয়া রাষ্ট্র তথা সমাজের দায়িত্ব। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগে পরীক্ষা পদ্ধতির বিরোধিতা করে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তারা এনটিআরসিএর নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরিবর্তে সাবেক অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে দাবি তুলেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগ যোগ্যতার ভিত্তিতে দিতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে বেশ পথও অতিক্রম করেছে নির্বাচন প্রক্রিয়া। গত ১৮ এপ্রিল প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষক প্রতিষ্ঠানপ্রধান হওয়ার জন্য ঢাকায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। ৮০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষায় ফলাফলও প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বিষয়টি তদারকি করছেন। এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত কিংবা এ-সংক্রান্ত খোঁজখবর রাখা ব্যক্তি মাত্রই স্বীকার করবেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় মাইলফলক হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগে দলীয়করণ আর আর্থিক লেনদেন দিবালোকের মতো স্পষ্ট ছিল। রাজনৈতিক দলের ইচ্ছামাফিক কমিটিকে মোটা পরিমাণ টাকা উৎকোচ না দিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান হয়েছিল, এমন লোক হাতেগোনা দেশে। ফলে  প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অধিকতর যোগ্য কেউ পদে বসতে পারিনি দীর্ঘকাল ধরে। বর্তমান সরকার সেই পথে না হেঁটে যোগ্যদের পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সেই পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে পুরাতন দালালগুলো। সরকারের স্বদিচ্ছাকে চেলেঞ্জ করে পুরাতন পথে হাঁটতে চাইছে তারা।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে গিয়ে না ফেরার দেশে বুয়েট শিক্ষক আফিফা

এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একদল লোক। এদের বিষয়ে সরকারকে সচেতন হতে হবে। খোঁজ নেওয়া দরকার, এরা কারা। কার এজেন্ডা বাস্তবায়নে নেমেছে এরা? এ দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পেছনে টানতে উদ্যোগ নিয়েছে কার স্বার্থে? মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী যে বিষয়টা দেখভাল করছেন, সেখানে পরীক্ষাবিহীন নিয়োগের দাবি করা লোকজন নিশ্চয়ই শুভ পথের অন্তরায়। এদের থামানো দরকার। 

২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এনটিআরসিএ ইতোমধ্যে নিজেদের সক্ষমতা প্রকাশ করেছে। ৭টি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যথাযথ যাচাই-বাছাই করে লক্ষাধিক শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে, যা সর্বমহলে সমাদৃত হয়েছে। শিক্ষক হতে চাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভরসার জায়গায় উপনীত হয়েছে এ প্রতিষ্ঠানটি। আরও লক্ষাধিক শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার জন্য তৈরি হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ প্রক্রিয়া সমাপন এখন দেশের সচেতন ব্যক্তিমাত্ররই দাবি। এ পথ থেকে ফিরে আসার দাবি তোলাই অন্যায়। যেকোনো ধরনের অন্যায় রোধ করে সুষ্ঠু পদ্ধতিতে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে, এটা দেশের সচেতন ব্যক্তির দাবি। এর বিপরীতে অন্য পথ অবলম্বন করলে সরকার প্রচণ্ড সমালোচনায় পড়বে। সরকার সেটা করবে বলে মনে করি না।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, নাজিউর রহমান কলেজ, ভোলা

স্ত্রী-সন্তানের ফেলে যাওয়া প্রবাসী জামাল মারা গেছেন, গ্রামব…
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে পাঠদানরত অবস্থায় শিক্ষকের মৃত্যু
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছনার অভিযোগে শিক্ষা বোর্ড সচিবের বিরুদ্ধে …
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
বুটেক্সে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় ২ নেতাকে …
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
বিক্ষোভ শুরুর আগেই সেই মাহদী হাসানসহ আটক ৩
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
আজ মাঝারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হতে পারে যেসব বিভাগে
  • ১৮ আগস্ট ২০২৬
nextjobzimage