ব্যারিস্টার জাইমা রহমান: নতুন প্রজন্মের রাজনীতিতে সম্ভাবনার প্রতীক

প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম

প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম © ফাইল ফটো

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় ব্যারিস্টার জাইমা রহমান একটি কেন্দ্রীয় এবং কৌতূহলোদ্দীপক চরিত্রে পরিণত হয়েছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাতনি এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একমাত্র কন্যা হিসেবে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার অত্যন্ত শক্তিশালী। তবে কেবল পারিবারিক পরিচয় নয়, বরং তার উচ্চশিক্ষা, মার্জিত ব্যক্তিত্ব এবং আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে। 

দীর্ঘ সতেরো বছরের প্রবাস জীবন শেষে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেয়। মনে রাখতে হবে- ক্ষমতা কেবল উত্তরাধিকার নয়, বরং লক্ষ্য ও দায়িত্ব। George Orwell বলেছেন-“Political power is not a means; it is an end.”

বিশ্ব রাজনীতিতে পারিবারিক নেতৃত্ব বা ‘পলিটিক্যাল ডাইনেস্টি’ কোনো একক অঞ্চলের ঘটনা নয়; বরং এটি একটি স্বীকৃত বৈশ্বিক বাস্তবতা। নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব যখন শিক্ষা, আধুনিকতা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে, তখন তা একটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। জাইমা রহমানের সম্ভাব্য নেতৃত্বকে এই বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। 

কানাডার Justin Trudeau এই ধারার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। তাঁর পিতা Pierre Trudeau ছিলেন দেশটির প্রভাবশালী নেতা। জাস্টিন ট্রুডো দীর্ঘ সময় সরাসরি রাজনীতির বাইরে থেকে নিজেকে প্রস্তুত করেন এবং পরে তারুণ্যের নতুন এক রাজনৈতিক ঢেউ তৈরি করেন। এখানে দেখা যায়, পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক শিক্ষা ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির সংযোগ জনমনে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে—যা জাইমা রহমানের ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিকভাবে আলোচিত হচ্ছে। 

সিঙ্গাপুরের Lee Kuan Yew এবং তার পুত্র Lee Hsien Loong-এর উদাহরণ দেখায় যে পারিবারিক নেতৃত্ব তখনই কার্যকর হয়, যখন তা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। লি সিয়েন লুং উচ্চশিক্ষা ও প্রশাসনিক দক্ষতার মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে জাইমা রহমানের আইনশিক্ষা ও ব্যারিস্টারি পটভূমি ইঙ্গিত দেয় যে তিনি কেবল উত্তরাধিকার নয়, দক্ষতা-নির্ভর নেতৃত্বের দিকেও এগোতে পারেন। পাকিস্তানের Benazir Bhutto-এর জীবনও একটি গুরুত্বপূর্ণ তুলনামূলক দৃষ্টান্ত। পিতা Zulfikar Ali Bhutto-এর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করতে গিয়ে তাকে নির্বাসন, সংগ্রাম ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তবুও উচ্চশিক্ষা ও রাজনৈতিক দৃঢ়তার মাধ্যমে তিনি মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। জাইমা রহমানের দীর্ঘ প্রবাসজীবন এবং পারিবারিক রাজনৈতিক বাস্তবতা পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা এই তুলনাকে প্রাসঙ্গিক করে তোলে।

ভারতের ক্ষেত্রে Indira Gandhi এবং তার পুত্র Rajiv Gandhi-এর নেতৃত্ব রাজনৈতিক ডাইনেস্টির একটি শক্তিশালী উদাহরণ। Jawaharlal Nehru-এর উত্তরাধিকার থেকে শুরু করে গান্ধী পরিবারের ধারাবাহিক নেতৃত্ব ভারতীয় রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। ইন্দিরা গান্ধী নিজস্ব রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও সিদ্ধান্তগ্রহণ ক্ষমতার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন, যা দেখায় যে উত্তরাধিকার থাকলেও ব্যক্তিগত সক্ষমতাই নেতৃত্বকে টেকসই করে তোলে। 

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি রাজতান্ত্রিক ডাইনেস্টি না থাকলেও John F. Kennedy পরিবার এবং George W. Bush পরিবারের মতো রাজনৈতিক পরিবারগুলোর প্রভাব উল্লেখযোগ্য। George H. W. Bush এবং তাঁর পুত্র জর্জ ডব্লিউ বুশ—এই ধারাবাহিকতা দেখায় যে গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেও পারিবারিক রাজনৈতিক প্রভাব একটি বাস্তবতা হিসেবে বিদ্যমান। তবে এখানে যোগ্যতা, নির্বাচন ও জনসমর্থনই চূড়ান্ত নির্ধারক।

এই আন্তর্জাতিক উদাহরণগুলো থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়—পারিবারিক নেতৃত্ব তখনই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, যখন তা শিক্ষা, আধুনিকতা ও জনগণের সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে বিকশিত হয়। একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক পরিবারের নাম নিজেই একটি ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ তৈরি করে, যা জনগণের মধ্যে আস্থা জাগায়। পাশাপাশি, ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা দেখার সুযোগ উত্তরসূরিদের জন্য এক ধরনের জীবন্ত শিক্ষায় পরিণত হয়। তাছাড়া দক্ষিণ এশীয় সমাজ ব্যবস্থায় মানুষ শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিবারের ওপর আস্থা রাখতে পছন্দ করে, কারণ এই পরিবারগুলো সংকটের সময় দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারে। জাইমা রহমানের আগমন বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে নতুন নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণে সক্ষম হবে বলে অনেকে মনে করেন। 

জাইমা রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের মূলে রয়েছে জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মের দীর্ঘ সংগ্রাম এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা এমন এক পরিবেশে যেখানে রাজনীতি ছিল দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তার ব্যক্তিত্বে দাদা জিয়াউর রহমান, দাদী খালেদা জিয়া এবং পিতা তারেক রহমানের প্রভাব সুস্পষ্ট। জাইমা তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর রাজনৈতিক শিক্ষার প্রথম পাঠশালা ছিল তার ঘর। জাইমা তাঁর বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী চিন্তার কথা তুলে ধরেন। অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়ার স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং নারী শিক্ষার প্রসারে তার ভূমিকা জাইমার জন্য বড় অনুপ্রেরণা। জাইমা তার দাদীকে ‘দাদু’ বলে সম্বোধন করেন এবং তার স্নেহেই বড় হয়েছেন।

 দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনে তার পিতা তারেক রহমান যেভাবে প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৭ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে দলকে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন, তা কেবল একটি রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন নয়—বরং এক ধরনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত। 

প্রবাসে অবস্থান করেও তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ভার্চুয়াল মিটিং, সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক এবং প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংযোগ বজায় রেখেছেন। এই প্রক্রিয়া শুধু একটি দলের কার্যক্রম সচল রাখেনি, বরং একটি বিকল্প রাজনৈতিক বাস্তবতা নির্মাণ করেছে, যেখানে ভৌগোলিক দূরত্ব নেতৃত্বের প্রতিবন্ধক হয়ে ওঠেনি। এই পুরো সময়জুড়ে জাইমা রহমান অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তাঁর পিতার এই সংগ্রাম, শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক কৌশল প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর জন্য এটি কোনো তাত্ত্বিক শিক্ষা নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে অর্জিত এক ‘লিভিং পলিটিক্যাল স্কুল।’ প্রতিদিনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সংকট মোকাবিলা, দলীয় ঐক্য রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ—সবকিছুর মধ্যেই তিনি নেতৃত্বের জটিলতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে একটি গভীর উপলব্ধি অর্জন করেছেন। ফলে তার রাজনৈতিক চেতনা গড়ে উঠেছে সরাসরি পর্যবেক্ষণ, অংশগ্রহণ এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে।

অন্যদিকে, একই সময়ে বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে তার দাদী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় কারাবন্দি অবস্থায় ছিলেন। এই বাস্তবতা জাইমা রহমানের মানসিক জগতে এক গভীর প্রভাব ফেলেছে। পারিবারিকভাবে একজন প্রবীণ নেত্রীর কারাবরণ, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা এবং ব্যক্তিগত কষ্ট—এই সবকিছু মিলিয়ে তার ভেতরে এক ধরনের ট্রমা, সহমর্মিতা এবং প্রতিরোধের বোধ তৈরি হয়েছে। দাদীর প্রতি তার আবেগ, স্মৃতি এবং সংগ্রামের গল্পগুলো তার রাজনৈতিক মানসগঠনে একটি শক্তিশালী আবেগীয় ভিত্তি তৈরি করেছে। 

এই দ্বৈত বাস্তবতা—একদিকে প্রবাসে পিতার অবিরাম রাজনৈতিক সংগ্রাম, অন্যদিকে দেশে দাদীর কারাবাস—জাইমা রহমানের রাজনৈতিক চেতনায় একটি গভীর দ্বিমাত্রিক অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করেছে। এতে যেমন রয়েছে কৌশলগত নেতৃত্বের শিক্ষা, তেমনি রয়েছে মানবিক বেদনা ও প্রতিরোধের অনুভব। ফলে তার রাজনৈতিক উপলব্ধি কেবল ক্ষমতা বা নেতৃত্বের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ব্যক্তিগত ত্যাগের এক সমন্বিত বোধে পরিণত হয়েছে। এই অভিজ্ঞতাই তাকে একটি ভিন্নধর্মী নেতৃত্বের সম্ভাবনায় নিয়ে যায়—যেখানে রাজনীতি শুধু ক্ষমতার চর্চা নয়, বরং তা ব্যক্তিগত ইতিহাস, পারিবারিক সংগ্রাম এবং জাতীয় বাস্তবতার এক জটিল সমন্বয়।

২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর জাইমা রহমানের বাংলাদেশে ফিরে আসা কেবল একটি পারিবারিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল বিএনপির রাজনীতির জন্য এক বিশাল উদ্দীপনা। দীর্ঘ ১৭ বছর বা ৬,৩১৪ দিন পর জাইমা তাঁর শিকড়ে ফিরে আসেন। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাইমা তাঁর বাবা তারেক রহমানকে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে দেখেন। তারেক রহমান বিমান থেকে নেমে প্রথমে বাংলাদেশের মাটি ছুঁয়ে দেখেন এবং এক মুঠো মাটি হাতে তুলে নেন। দেশে ফেরার পরপরই জাইমা রহমান রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত করেন। 

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর তার দাদীর দাফন অনুষ্ঠানে তিনি বিদেশি কূটনীতিকদের সাথে কুশল বিনিময় করেন, যা তাঁর কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিচয় দেয়। তিনি তার বাবার সাথে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন। এই অংশগ্রহণগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি কেবল পারিবারিক সদস্য হিসেবে নয়, বরং একজন রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবেও নিজেকে প্রস্তুত করছেন। 

প্রধানমন্ত্রীর কন্যাকে অনেকেই বেগম খালেদা জিয়ার ‘প্রতিচ্ছায়া’ হিসেবে অভিহিত করেন। এর পেছনে মূলত তার পোশাক-পরিচ্ছদ, কথা বলার ধরন এবং জনসমক্ষে তার ধীরস্থির উপস্থিতি ভূমিকা রেখেছে। খালেদা জিয়ার মতো জাইমা রহমানের পোশাকেও এক ধরনের আভিজাত্য এবং সারল্যের সমন্বয় দেখা যায়। শাড়ি পরিধানের ধরন এবং তার হাঁটাচলার ভঙ্গিমা অনেক প্রবীণ নেতাকে নব্বইয়ের দশকের খালেদা জিয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়। তবে জাইমা কেবল বাহ্যিক রূপেই সীমাবদ্ধ নন, তার আচরণের সংযম এবং পরিশীলিত ভাষা তাকে নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। তিনি যখন কথা বলেন, তখন তার মধ্যে কোনো আস্ফালন থাকে না, বরং এক ধরনের গভীরতা লক্ষ্য করা যায়। জাইমা রহমান তার এক আবেগঘন বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর দাদীর কাছে নেতৃত্বের প্রথম শিক্ষা পেয়েছেন—নম্রতা, আন্তরিকতা এবং মন দিয়ে শোনার মানসিকতা।

জাইমা রহমান নিজে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন। এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং নারীদের অনলাইন সুরক্ষাকে তাঁর রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের শীর্ষে রেখেছেন। তিনি প্রস্তাব করেছেন যে: সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর (যেমন ফেসবুক) স্থানীয় অফিস বাংলাদেশে থাকা প্রয়োজন যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে একটি ‘কোড অফ কন্ডাক্ট’ থাকতে হবে যাতে কোনো নারী সদস্য হেনস্তার শিকার না হন। স্কুল পর্যায় থেকেই সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।

এই নির্বাচনে জাইমা রহমান তার বাবার পক্ষে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালান, বিশেষ করে ঢাকা-১৭ আসনে। জাইমা রহমানের উপস্থিতি নির্বাচনী প্রচারণায় এক নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছিল। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চেয়েছেন এবং তাদের অভাব-অভিযোগের কথা শুনেছেন। তার এই ‘গ্রাসরুট’ বা তৃণমূল সংযোগ বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে সাহায্য করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাইমার এই আধুনিক প্রচারণা কৌশল তরুণ এবং নারী ভোটারদের বিএনপি-র দিকে আকৃষ্ট করতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি ২১২ টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পর জাইমা রহমানের জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডের পরিধি ব্যাপ্ত হয়েছে। ফলে একসময় হয়ত জনগণই বিএনপি’র নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য তাকে অনুরোধ ও দাবি জানাবে স্বাভাবিকভাবে।

জাইমা রহমান এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা এখন রাষ্ট্রের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অতীতে তার বিরুদ্ধে যে কুরুচিপূর্ণ ডিজিটাল হামলা হয়েছে, তা প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতে চেয়েছিল। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবেই, কিন্তু তা যেন ব্যক্তিগত আক্রমণ বা প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়। জাইমা রহমান, তারেক রহমান এবং ডা. জোবাইদা রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। অবশ্য আরাফাত রহমান কোকোর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অতীব প্রয়োজন।

ব্যারিস্টার জাইমা রহমান আজ কেবল একটি নামের পরিচয় নন, তিনি বাংলাদেশের রাজনীতির এক উদীয়মান নক্ষত্র। তাঁর মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার সেই অদম্য সাহস এবং জিয়াউর রহমানের উন্নয়নমূলক চিন্তার এক সমন্বয় ঘটেছে। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা তাকে একজন বাস্তববাদী এবং আধুনিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে। 

বাংলাদেশে যখন নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বের এক সংকটকাল চলছে, তখন জাইমা রহমানের উপস্থিতি নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। তরুণ প্রজন্মের সাথে তাঁর সংযোগ এবং আধুনিক নীতি নির্ধারণী চিন্তা প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল উত্তরাধিকার সূত্রে নয়, বরং তার যোগ্যতা এবং জনগণের দাবির প্রেক্ষাপটে নেতৃত্বের আসনে বসবেন একদিন। ২০২৬ সালের নির্বাচনের ফলাফল এবং পরবর্তী কর্মকাণ্ডে তাঁর প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। আগামী দিনে তিনি যদি দলের হাল ধরেন, তবে তা হবে মেধা, শিক্ষা এবং উত্তরাধিকারের এক অসাধারণ সমন্বয়। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে উঠে জাইমা রহমানের এই যাত্রাকে মূল্যায়ন করা আজ সময়ের দাবি, যাতে বাংলাদেশ একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।


লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক চেয়ারম্যান, থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

দুর্নীতির মামলায় তোফায়েল আহমেদের বিচার শুরু, সাক্ষ্য গ্রহণ …
  • ০৭ মে ২০২৬
এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা অনুমোদন
  • ০৭ মে ২০২৬
মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনা: ড. ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামল…
  • ০৭ মে ২০২৬
বদলির জন্য মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু কবে, জানালেন মা…
  • ০৭ মে ২০২৬
সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডিআইএ পরিচালককে
  • ০৭ মে ২০২৬
তিন হাসপাতাল ঘুরে ৫ মাস বয়সী সন্তানের মরদেহ নিয়ে ফিরলেন মা–…
  • ০৭ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9