নিশ্বাসে টানছেন বিষ

০৫ মার্চ ২০২০, ০৬:৫৯ PM

© ফাইল ফটো

বিশুদ্ধ বায়ু পরিবেশের আত্মা। বায়ুতে সাধারণত ২১ শতাংশ অক্সিজেন, ৭৮ শতাংশ নাইট্রোজেন, দশমিক ৩১ শতাংশ ভাগ কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং নির্দিষ্ট অনুপাতে ওজোন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি থাকে। যদি কোনো কারণে বাতাসে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়ে অন্যান্য গ্যাসের ঘনত্ব বেড়ে যায় কিংবা বালুকণার হার বেড়ে যায় তবে সেটি দূষিত হয়ে যায়।

বায়ুদূষণ যেন নগরজীবনের একটি স্থায়ী সমস্যার নাম। বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। বাসা থেকে বেরোলেই এ বায়ুদূষণ হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারেন রাজধানীবাসী। ধুলায় আচ্ছন্ন শহরটি যেন কুয়াশা মতো ঢেকে থাকে সারাক্ষণ। বায়ুদূষণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়ায় প্রতি তিনজনের দুইজনই মারা যায় বায়ু দূষণজনিত রোগে।

বাতাসে ভাসছে বিষ। রাজধানীবাসীর প্রাণভরে নিশ্বাস নেওয়ার কোনো সুযোগ আসলে নেই। কারণ নিশ্বাসের সঙ্গে বিষ ঢুকে যায়। বর্তমানে ঢাকার বাতাসে বিষই উড়ে বেড়াচ্ছে। এ বিষের উৎস হলো গাড়ি, আশপাশের শিল্পাঞ্চল, ইটভাটা ও নাগরিক বর্জ্য।

সিএনজিচালিত যানবাহন থেকে বের হয় ক্ষতিকারক বেনজিন। এই বেনজিনের কারণে ঢাকায় ক্যানসারের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে বহুলাংশে। এ ছাড়া সালফার ও সিসাযুক্ত পেট্রল, জ্বালানি তেলে ভেজাল ও ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিনের কারণে গাড়ির ধোঁয়ার সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড, অ্যালডিহাইডসহ সিসার নিঃসরণ বাতাসকে দূষিত করছে।

নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালু, সিমেন্ট ফেলে রাখা হচ্ছে রাস্তার পাশে। আবার নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও অনেক নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় ধুলাবালুর পরিমাণ বাড়ছে অনেক গুণ। বিশাল অঞ্চলজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলে দীর্ঘদিন ধরে এবং তা বিভিন্নভাবে চারদিকে ছড়িয়ে সৃষ্টি করছে প্রকট ধুলাদূষণ। বায়ূদূষণ রোধে পদক্ষেপনা নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অসুস্থ জাতি হিসেবে বেড়ে উঠবে। করোনা কিংবা ডেঙ্গুর চেয়ে বায়ুদূষণ দেশের জন্য শতগুণ বেশি হুমকি।বায়ুদূষণ এতোটাই প্রকট আকার ধারণ করেছে যা মাস্ক দিয়ে আর প্রতিরোধ সম্ভব নয়।

মারাত্মক বায়ুদূষণের কারণে ঢাকা শহরের মানুষ প্রতিনিয়ত অ্যাজমা (হাঁপানি), ক্রনিক অবসট্রাক্টিভ পালমোনারি রোগ (সিওপিডি) ও ফুসফুসের ক্যানসারসহ মারাত্মক সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

কীভাবে বায়ুদূষণের জন্য হাঁপানি হয়?

হাঁপানি ফুসফুসে বারবার হয়ে চলা একটি প্রদাহজনিত অবস্থা, যাতে কিছু উদ্দীপক প্রদাহ তৈরি সাময়িকভাবে শ্বাসনালি সরু করে দেয়। এর ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। রাস্তাঘাটে প্রতিনিয়ত যে ধুলা উড়ছে, তা হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের প্রধান কারণ। ধুলাবালু মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে শ্বাসযন্ত্রে ঢুকে শ্বাসকষ্টের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। শহরে দূষিত বায়ুর কারণে এ রোগের রোগীর সংখ্যা আরও বাড়ছে। ফ্রি র‍্যাডিক্যাল দেহকোষগুলোর ক্ষতি করে। দূষিত বায়ু ফুসফুসে ঢোকার পর সেখানে ফ্রি রেডিক্যালের সৃষ্টি হতে পারে। দেখা গেছে শ্বাসতন্ত্রের অসুখ সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে এসব ফ্রি র্যাডিক্যাল।

কীভাবে সিওপিডি হয়?

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, ক্রমবর্ধমান পরিবেশদূষণ এবং মানুষের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অসংক্রামক ব্যাধি। ফুসফুসের একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ রোগ, যাতে ভুগছে এ দেশের লাখো মানুষ, তা থেকে যাচ্ছে পর্দার অন্তরালে। ইংরেজিতে রোগটির নাম সিওপিডি। বাংলা করলে দাঁড়ায় ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসরোধক রোগ। এটি ফুসফুসের এমন একটি রোগ যার ফলে শ্বাসপ্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত হয় এবং রোগী শ্বাসকষ্টে ভোগেন। এটি ক্রনিক অবসট্রাক্টিভ লাং ডিজিজ (সিওএলডি), ক্রনিক অবসট্রাক্টিভ এয়ারওয়ে ডিজিজ (সিওএডি), ক্রনিক এয়ারফ্লো লিমিটেশন (সিএএল) ও ক্রনিক অবসট্রাক্টিভ রেসপিরেটরি ডিজিজ (সিওআরডি) নামেও পরিচিত।

ফুসফুসের শ্বাসরোধক প্রক্রিয়াটি ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং তা মূলত হয়ে থাকে দূষিত বাতাস গ্রহণের কারণে, ফুসফুসে সৃষ্ট প্রদাহের জন্য। এই প্রদাহের জন্য ফুসফুস দুইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়-

এক. ফুসফুসের ছোট ছোট শ্বাসনালির ভেতরের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, স্থায়ীভাবে সংকুচিত হয় এবং সেখানে অতিরিক্ত শ্লেষা তৈরি হয়ে বায়ুরোধক প্রক্রিয়াটি বাড়িয়ে দেয়।

দুই. ফুসফুসের বায়ুকুঠুরির অস্বাভাবিক প্রদাহের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে এর সংকোচন-প্রসারণক্ষমতা নষ্ট হয় এবং রক্তে অক্সিজেনের প্রবাহ কমে যায়।

কীভাবে বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসের ক্যানসার হয়?

বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড ও সালফার ডাই-অক্সাইডের প্রাবল্য দিনে দিনে মানুষের ফুসফুসের প্রদাহ বাড়াচ্ছে। দূষিত বায়ু ফুসফুসে ঢোকার পর সেখানে ফ্রি রেডিক্যালের সৃষ্টি হতে পারে। দেখা গেছে, ফুসফুসের ক্যানসার সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে এসব ফ্রি র‍্যাডিক্যাল।

বায়ুদূষণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঠেকাতে কি করনীয়?

ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফলমূল বা শাকসবজি খেলে বায়ুদূষণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঠেকানো যায়। যাঁরা ফুসফুসের জটিল রোগে ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এ কথা বিশেষভাবে প্রযোজ্য। লন্ডন হাসপাতালের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিষয়টি উঠে এসেছে। গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, হাঁপানি এবং সিওপিডি রোগে যাঁরা ভুগছেন তাঁদের রক্তে ভিটামিন সির মাত্রা কমে গেলে বায়ুতে দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সময় শ্বাসকষ্টে ভোগার ঝুঁকি বাড়ে।

লেবু, আমলকী, পেয়ারা, জাম্বুরা, আনারস, আমড়া, আম, আঙুর, কাঁচা মরিচ, জলপাই, বরই, কামরাঙা, টমেটো, বাঁধাকপি, কমলালেবু ইত্যাদি ভিটামিন সির গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এসবই সহজলভ্য। এ ছাড়া ভিটামিন সি আমাদের দেহে লোহা বা আয়রন শোষণে সাহায্য করে। মাছ বা মাংস অর্থাৎ আমিষজাতীয় খাবার খাওয়ার সময় সঙ্গে লেবু খেলে দেহের লৌহ শোষণক্ষমতা বাড়ে।

লেখক: অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, বক্ষব্যধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসাল্টেশান সেন্টার, লালবাগ, ঢাকা।

শিশু অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, দুদিন পর ডোবায় মিলল লাশ
  • ১১ মে ২০২৬
শিক্ষক মা বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরে দেখেন এইচএসসি পড়ুয়া ছেলে …
  • ১১ মে ২০২৬
ডকইয়ার্ডের নৌযানে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রঙমিস্ত্রির মৃত্যু
  • ১১ মে ২০২৬
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রান্সক্রিপ্ট প্রদান বন্ধ, ভোগান্তিত…
  • ১১ মে ২০২৬
ঢাবিতে দেড় শতাধিক মন্ত্রী-আইন প্রণেতা, ভিসি-শিক্ষাবিদ, গবেষ…
  • ১১ মে ২০২৬
কুকুরের ধাওয়া খেয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ল হরিণ
  • ১১ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9