এনটিআরসিএ © ফাইল ছবি
বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে মাঠে নামার পরিকল্পনা করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। সংস্থাটির সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের মান যাচাইয়ে এ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে এনটিআরসিএ। শিগগিরই এ সংক্রান্ত রূপরেখা তৈরি করা হবে। তবে শিক্ষকদের মান যাচাই করতে গিয়ে তাদের যেন হয়রানির শিকার না হতে হয়, সেটি আগে নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কোন কোন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হবে, শিক্ষকদের কোন বিষয়গুলো যাচাই করা হবে সে সংক্রান্ত পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শিগগিরই বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।’
এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত একটি বিশেষ ও ১৮টি নিয়মিত শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়েছে সংস্থাটি। মোট ১৯টি নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছিলেন এক কোটি ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ২৯৬ জন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ সুপারিশ পেয়েছেন এক লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ জন। শতকরায় যা ১ দশমিক ৫১ শতাংশ।
নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একটি বিশেষসহ ১৮টি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৬ জন। সে অনুযায়ী নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণের হার ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। আর উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে নিয়োগ সুপারিশ পাওয়ার হার ২৪ দশমিক ০৮ শতাংশ। সুপারিশপ্রাপ্তদের শিক্ষকদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে মাঠে নামছে সংস্থাটি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একটি বিশেষসহ ১৮টি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৬ জন। সে অনুযায়ী নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণের হার ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ। আর উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে নিয়োগ সুপারিশ পাওয়ার হার ২৪ দশমিক ০৮ শতাংশ। সুপারিশপ্রাপ্তদের শিক্ষকদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে মাঠে নামছে সংস্থাটি।
সূত্রের তথ্য বলছে, প্রাথমিকভাবে রাজধানী ঢাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করা হবে। সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা পাঠদানে কেমন করছেন, জাল সনদধারী রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম পরিদর্শনের বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটর করবে। পরিদর্শন শেষে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে সেটি জমা রাখা হবে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে এনটিআরসিএর এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মূলত জাল সনদধারী এবং শিক্ষকদের মান যাচাইয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন করা হবে। কোনো শিক্ষকের সনদ জাল হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে। এছাড়া কোন শিক্ষক কেমন পাঠদান দিচ্ছেন সেটিও তদারকি করা হবে।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে প্রতিবেদন
এনটিআরসিএ’র গঠিত বিশেষ পরিদর্শন টিম সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে। শিক্ষকরা কীভাবে ক্লাস নিচ্ছেন, পাঠ পরিকল্পনা কেমন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ও অংশগ্রহণের মাত্রা কতটুকু, এসব বিষয় নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
পরিদর্শনের সময় সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পাঠদানের রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্রও যাচাই করা হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শন শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করে কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হবে, যা ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণ ও পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়ক হবে বলে মনে করছে এনটিআরসিএ।
ধরা হবে জাল সনদ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে জাল বা ভুয়া সনদধারী শিক্ষকদের শনাক্ত করা। এনটিআরসিএ সূত্র জানিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়ে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পরিদর্শনের সময় শিক্ষকদের সনদপত্র, একাডেমিক রেকর্ড এবং নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা হতে পারে। কোনো শিক্ষকের সনদ জাল প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে। এতে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলা ও অঞ্চলে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি কেন্দ্রীয় টিম সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করবে এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। পরিদর্শন থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনটিআরসিএ’র এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষকদের প্রকৃত মান যাচাই করা এবং কোনো অনিয়ম থাকলে তা চিহ্নিত করা। কেউ জাল সনদ ব্যবহার করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি কোন শিক্ষক কেমন পাঠদান করছেন সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।’
আরও পড়ুন:
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। শিক্ষকদের মধ্যে জবাবদিহিতা বাড়বে, পাঠদানের মান উন্নত হবে এবং শিক্ষার্থীরা আরও মানসম্মত শিক্ষা পাবে। একই সঙ্গে জাল সনদধারীদের শনাক্ত করা গেলে পুরো ব্যবস্থার ওপর আস্থা বাড়বে।
তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে পরিদর্শন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত না হলে হয়রানির অভিযোগ উঠতে পারে। এছাড়া সীমিত জনবল, সময় এবং প্রশাসনিক জটিলতা কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
এ বিষয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত ইতোমধ্যে তাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। তবুও মান যাচাইয়ের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে শিক্ষকদের মান যাচাই করতে গিয়ে তাদের হয়রানির শিকার যেন না হতে হয়, সেটি আগে নিশ্চিত করতে হবে।
জাল সনদধারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিলে সেটিকে সাধুবাদ জানানো হবে জানিয়ে এ শিক্ষক নেতা আরও বলেন, জাল সনদে চাকরি করা ব্যক্তিরা দেশের শত্রু। তাদের ধরতে সরকার কিংবা কোনো দপ্তরের যে কোনো উদ্যোগে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট সহযোগিতা করবে।