মাঠ না থাকলে কি মোবাইলে ভিডিও গেম খেলবো

ঢাবি
বক্তব্য রাখছে বালক   © সংগৃহীত

ব্যারন পিয়ারে দ্যা কুবার্তো বলেছেন, খেলাধুলা না করলে নিছক বিদ্যা অনুশীলনে যৌবনের উদ্যম, শক্তি ও কর্মক্ষমতার অপচয় ঘটবে ।

প্লেটোর মতে, শৈশবকালীন খেলা হচ্ছে পরবর্তী জীবনের জ্ঞানের ভিত্তি। খেলার প্রধান উদ্দেশ্য আনন্দ লাভ। কিন্তু শিশুর বিকাশের জন্য খেলা গুরুত্বপূর্ণ।

সাটনি স্মিথ বলেছেন, অনুকরণ, অনুসন্ধান, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং গঠন এই চারটি মূল প্রক্রিয়ায় আমরা পৃথিবী সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করি, শিশুর খেলা সেই চারটি প্রক্রিয়া নিয়েই গঠিত। শারীরিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে শিশুর মানসিক, সামাজিক, আবেগ বিকাশেও খেলাধুলার গুরুত্ব অনেক। খেলার মাধ্যমে শিশুর সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি, সামাজিক জ্ঞানবোধ, সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব এবং নেতৃত্বগুণ বিকশিত হয়।

এদিকে, একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, স্কুল পড়ুয়া ৭/৮ বছরের সেই বালক খেলার মাঠের প্রয়োজনীয়তার জানান দিচ্ছেন। তবে সেই বালকের বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা যায়নি। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে গেছে। নেটিজেনদের অনেকেই ছোট সেই বালকের প্রশংসা করছেন। কেউ কেউ তার মাঝে আগামী দিনের নেতৃত্ব দেখছেন। 

ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে ওই স্কুল-পড়ুয়া বালক বলছেন, আমরা যদি এই ময়দানে না-ই খেলবো! এই ময়দানে তো আমরা কোনোদিন খেলতেই পারি না। আমরা খেলা খেলবো না, তাহলে পড়ালেখার কি অবস্থা হবে। মোবাইল চালাবো, কম্পিউটার চালাবো, ভুলভাল খেলবো। তারপর ভুলভাল খেলে যখন মরবো তখন বলবেন তোমরা এখানে ভুলভাল খেলছিলা।

আরও পড়ুন : একই বিষয়ে পড়াশোনা করেও টিউশন ফি ভিন্ন

ওই বালক আরও জানাচ্ছেন, আপনারা কেন মাঠ বন্ধ করতেছেন, আমার বাবার বাবা মানে আমার দাদা পর্যন্ত এখানে খেলেছিলেন। এতো প্রাচীন এই মাঠ, এতো শত বছর আগের এই মাঠ, আপনারা এটাকে এখন কিভাবে ধ্বংস করবেন?

ইঞ্জিনিয়ার আক্তার হোসাইন নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন, প্রত্যেক সরকারি-বেসরকারি স্কুলে খেলার মাঠ থাকা বাধ্যতামূলক করে আইন করা হোক। ব্যাঙের ছাতার মত যেখান সেখানে ফ্ল্যাট ভাড়া করে স্কুল-মাদরাসা খুলে দিচ্ছে। সরকারের কোন কনট্রোল নেই।

মো. মাজেদ চেই নামে আরেক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন, সাবাস বেটা, তুমি তো আগামীর এই বাংলার গণমানুষের ন্যায্য অধিকারের বাংলাদেশ। দোয়া রইল।

আজিজ দাবি করেছেন, জোর যার মুল্লুক তার একটা প্রবাদ আছে রাষ্ট্রের মালিক যখন ভোররাতে ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে সিন্ডিকেট এবং দখলদার সেখানে ঢুকে গেছে এটাই বাস্তব এটাই প্রমাণিত

তিমির দে জানিয়েছেন, বাবু তোমার এই প্রতিবাদকে সমর্থন করি। আমরা আশাবাদী সরকার এই ছোট ছোট বাচ্চাদের প্রতিবাদকে যথাযথ মূল্যায়ন করবে।

মো আরিফুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, ছোট্ট শিশুটি অসাধারণ কথা বলেছে, এমন কথা আমাদের দেশের অনেক বড় বড় নেতারাও বলতে পারে না।

নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, আরব দেশে আমরা দেখেছি এলাকায় এলাকায় সরকারি খরচে মাঠ তৈরি করে দেয় খেলাধুলার জন্য। আর আমরা কি আজব দেশে বাস করি খেলার মাঠকে থানা বানাতে চায়। আমাদের এলাকায় ছেলেরা সন্ধ্যার পরে রাস্তায় দেখি খেলাধুলা করে, মাঠের অভাবে।


x

সর্বশেষ সংবাদ