৩য় ধাপেও জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত হওয়া দেশের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গত ৬ দিন ধরে রাজপথে অবস্থান করছেন। অবস্থানরত শিক্ষকরা বলছেন বঞ্চিত বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোকে তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ করা হোক।
প্রেস ক্লাবের উত্তর দিকের ফুটপাতের উপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় অবস্থান করছেন শিক্ষকরা। সেখানে নারী, পুরুষ উভয়ই রয়েছেন। বর্ষাকালে হঠাৎ রোদ, বৃষ্টির আনাগোনা থেকে বাঁচতে অল্প-স্বল্প জায়গায় টাঙিয়েছেন পলিথিন। ফুটপাতজুড়ে কেউ ভাব-লেশহীনভাবে সেখানে পড়ে আছেন। অনেকে সংঘবন্ধভাবে অবস্থান নিয়েও আছেন। আবার কেউ কেউ মাউথ-পিস হাতে নিজেদের দাবি-দাওয়ার কথা বলছেন। দাবি-দাওয়ার জন্য অবস্থান নিলে সাধারণত সবাই প্রেস ক্লাবের সামনেই নেয়। তবে তাদের ঠাঁই সেখানে হয়নি।
জাতীয় করনের দাবিতে গত ছয় দিন তারা এখানে অবস্থান করছেন। এতে ১৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারা হলেন- সুভন্দ্রা বৈরাগী, ছালেহা খাতুন, আসমা খাতুন, রিনা বেগম, আকলিমা, মো. এনামুল হক, ধরনী মহন রায়, মো. সানাউল হক, মো. ফজলুল হক, মশিয়ার রহমান, লায়লা পারভীন, সেকেন্দার ও মিনা আক্তার।
আন্দোলনকারীরা জানান, গত বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৮ দিন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন করেন তারা। তাদের অনশনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাতীয়করণ হালনাগাদের জন্য তথ্য চাওয়া হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি দায়সারা তথ্য দিলে আমাদের এ বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত হয়।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তাই বাধ্য হয়ে এ বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছি। মরতে হয় মরব, তবু জাতীয়করণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না।
এর আগে ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছিলেন বলেও জানান আন্দোলনকারীরা।