গ্রামের একটি কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে © সংগৃহীত
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভবনগর গ্রামে হঠাৎ কুকুরের আক্রমণে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত তিন দিনে প্রায় অর্ধশত মানুষ কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন। গ্রামটিতে প্রায় তিন হাজার মানুষের বসবাস, আর এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সবাই।
স্থানীয় কৃষক জামাতা আলী প্রতিদিনের মতো মাঠে যাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ পেছন দিক থেকে একটি কুকুর ঝাঁপিয়ে পড়ে তার ওপর। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুকুরটি তার পায়ের মাংস ছিঁড়ে নেয়।
আরেক ভুক্তভোগী জিন্নাত আলী জানান, তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়া মাত্রই কুকুরের আক্রমণের শিকার হন। তিনি বলেন, ‘কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুকুরটি আমার পায়ের মাংস ছিঁড়ে ফেলে। হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে হাতেও কামড় দেয়। পরে আশপাশের লোকজন লাঠি নিয়ে এসে কুকুরটিকে তাড়ালে আমি রক্ষা পাই। বর্তমানে তিনি বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’
এমন পরিস্থিতিতে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। বের হলেও আত্মরক্ষার জন্য হাতে রাখতে হচ্ছে লাঠি।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানান, শিশু সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় লাগছে। কখন যে কুকুর আক্রমণ করে, সেই আশঙ্কায় থাকতে হচ্ছে।
স্থানীয় নার্গিস খাতুন বলেন, ‘বয়স্ক মানুষ ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন। আমরা খুবই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।’
এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রাণী হত্যা না করে কুকুরগুলোকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। খুব দ্রুতই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হেলেনা আক্তার নিপা কুকুরে কামড়ের পর করণীয় সম্পর্কে সচেতন করে বলেন, আক্রান্ত স্থান দ্রুত সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নিতে হবে।