বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় প্রকল্প প্রণয়নে বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় নিতে জাইকাকে ইউজিসি’র পরামর্শ 

২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৯ PM
ইউজিসি কার্যালয়ে জাইকার প্রতিনিধিদল

ইউজিসি কার্যালয়ে জাইকার প্রতিনিধিদল © সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় নিতে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-কে পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ। 

এজন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ করতে তিনি একটি যৌথ কমিটি গঠনেরও পরামর্শ দেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ইউজিসি কার্যালয়ে জাইকার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইউজিসি চেয়ারম্যান এ পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, প্রকল্প নকশা তৈরির আগে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রকৃত প্রয়োজন ও সক্ষমতা যাচাই করা জরুরি। এ লক্ষ্যে জাপান ও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়, ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অংশগ্রহণে একটি ত্রিপক্ষীয় সভা আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি।

জাইকা বাংলাদেশের প্রতিনিধি নিশি রিজুকির-এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়। 

সভায় ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মো. সাইদুর রহমান, প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) জেসমিন পারভিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে জাইকা জানায়, দেশের শীর্ষ দুটি বিশ্ববিদ্যালয়- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে, যা ২০২৮ সালে শুরু হতে পারে। প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে চলতি বছর একটি সমীক্ষা পরিচালনার কথা রয়েছে।

জাইকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ল্যাবভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে জাপানের উন্নত গবেষণাগারে কাজের সুযোগ, যৌথ ডিগ্রি কর্মসূচি, আন্ডারগ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানে ইন্টার্নশিপ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য পিএইচডি বৃত্তি এবং শিল্প-অ্যাকাডেমিয়া সংযোগ জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের আবাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দেশের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হলেও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ প্রকল্পের অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ পাবে বলে জাইকা প্রতিনিধি দল জানান।  

বৈঠকে জাইকার প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা দ্রুত বাড়বে। সেই চাহিদা পূরণে উচ্চশিক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি বলে তারা মনে করেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, জাইকার প্রস্তাবিত প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে গুণগত পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে ইউজিসি দেশের প্রায় ১৭০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধান করছে এবং মানসম্মত গ্র্যাজুয়েট তৈরি ও গবেষণা জোরদারে কাজ করছে। দেশে প্রায় ৫০টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে—এসব প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তামিম-মুশফিকের চোট নিয়ে যা বললেন অধিনায়ক শান্ত
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
বিদ্যুৎ সক্ষমতা আছে, তবু কেন সংকট কাটছে না বাংলাদেশে?
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
মাজার থেকে বঙ্গভবন- যে ইতিহাস কয়েক শতকের
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
প্রথম টেস্ট হারের পর দলে পরিবর্তন আনল অস্ট্রেলিয়া, দেখুন এক…
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ
  • ২১ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে ৩৪ পদে বিশাল নিয়োগ
  • ২১ আগস্ট ২০২৬