মা-হারা চার শিশু © সংগৃহীত
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার প্রত্যন্ত একটি গ্রাম রুইয়ার কুল। এখানেই বাড়ি সুদাষ ব্রক্ষ্মা নামে এক ব্যক্তির। সেখানেই নিদারুণ কষ্টে দিন পার করছে ৪ শিশু।
তাদের বয়স আনুমানিক ১১ মাস থেকে শুরু করে ১১ বছর পর্যন্ত। ছোট বোন খাওয়ার জন্য ছটফট করছে, বড় বোন খাইয়ে দিচ্ছে, এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে এখানে।
মাস দেড়েক আগে চার ভাই-বোন তাদের মাকে হারিয়েছে। সেই থেকে প্রতিদিন অনেকটা এমন দিন কাটে তাদের। প্রায় দেড় মাস আগে মা মারা যাওয়ার পর থেকে এভাবে নিদারুণ কষ্টে দিন পার করছে শিশুরা।
আরও পড়ুন: ফেসবুকে ক্রাশ অ্যান্ড কনফেশন পেইজ: বিনোদন নাকি বিড়ম্বনা!
বাবা সুদাষ ব্রক্ষ্মা বলেন, এক বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন স্ত্রী ঝর্ণা বিশ্বাস। দিনমজুর সুদাষের নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। তাই খুব একটা চিকিৎসা করাতে পারেননি স্ত্রীর। দেড়মাস আগে অনেকটা বিনা চিকিৎসায় মারা যান ঝর্ণা। মূলত এরপরেই দূর্বিষহ জীবন শুরু হয় সুদাষ ও তার চার সন্তানের।
তিনি বলেন, আমার তেমন কোনো সহায় সম্পত্তি নেই। কোনো রকম দিনমজুরি করে চলি। স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে চার সন্তানকে নিয়ে খুব শোচনীয় অবস্থায় আছি। না পারছি কাজে যেতে, না পারছি বাচ্চাদের খাবার দিতে। দুই ছেলে-মেয়ে স্কুলে যেত, তাও বন্ধ হয়ে গেছে।
৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সজল বলেন, আগে স্কুলে যেতাম। মা মারা যাওয়ার পর থেকে আর স্কুলে যাই না। আমি নিজেই ভাত তরকারি রান্না করি। কোনোদিন না খেয়েও থাকতে হয়। কি করব, আর তো কোনো উপায় নেই।
১ম শ্রেণির ছাত্রী স্বর্ণালী ব্রক্ষ্মা বলেন, স্কুলে যেতে ইচ্ছা করলেও পারি না। ভাই বোনদের সঙ্গে থাকি। আর থালা-বাসন ধুয়ে রাখি।
প্রতিবেশী পুতুল বিশ্বাস জানান, মা হারানোর পর থেকেই খুব করুণ অবস্থা তাদের। ঘরে খাবার নেই, টাকা-পয়সাও নেই। আমরা কোনোরকম সাহায্যে করি। এছাড়া বাড়ির চারপাশেই পানি, কখন কি ঘটে। তাই সুদাষ দা মাঝে মাঝে ওদের আটকে রেখে কাজে যায়। এভাবেই কাটছে তাদের দিন।
এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইয়েদা ফয়জুন্নেছা গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিরকে খাদ্য সহায়তা এবং শিশুদের জন্য দুধ কিনে দেওয়া হয়েছে। আমরা তাদের একটি ভিজিডি কার্ড করে দেব। এছাড়া আমি ওই এলাকায় গিয়ে সরকারি সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দেরও পরিবারটির পাশের দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছি।