দেশে তরুণদের নিয়ে অবিশ্বাস্য অপরিকল্পনা, ঔদাসীন্য

০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:৩৯ AM
দেশে তরুণদের নিয়ে অবিশ্বাস্য অপরিকল্পনা, ঔদাসীন্য

দেশে তরুণদের নিয়ে অবিশ্বাস্য অপরিকল্পনা, ঔদাসীন্য © ফাইল ছবি

বাংলাদেশের সম্ভবত একটা গিনিস রেকর্ড আছে। যেটা কেউ খেয়াল করছে না। পৃথিবীতে একটা বিশ্ববিদ‍্যালয় আছে। যার স্টুডেন্ট স‍ংখ‍্যা প্রায় ত্রিশ লক্ষ। সে বিশ্ববিদ‍্যালয়ের নাম জাতীয় বিশ্ববিদ‍্যালয়! নামটা অসম্ভব সুন্দর। একসাথে ‘জাতীয়’ ও ‘বিশ্ব’ দুটাই ধারণ করে।

দুনিয়ার বহু দেশে ত্রিশ লক্ষ মানুষ নেই। কিন্তু আমাদের একটা বিশ্ববিদ‍্যালয়ে ত্রিশ লাখ স্টুডেন্ট। তাদের নিয়ে আমাদের কর্তাদের চুলসম মাথাব‍্যাথা আছে বলে আমার কখনো মনে হয়নি।

একটা বিশ্ববিদ‍্যালয়ে কখনো এতো স্টুডেন্ট থাকতে পারে না। সে মানের ম‍্যানেজম‍্যান্ট আমাদের নেই। সে পরিমান রিসোর্চ আমাদের নেই। সেই পরিমান যোগ‍্য শিক্ষক আমাদের নেই। সেই পরিমান অবকাঠামোগত সাপোর্ট নেই। গণহারে কতোগুলো সাবজেক্ট দিয়ে রাখা হয়েছে। এবং গণহারে স্টুডেন্ট ভর্তি চলছে বছরের পর বছর।

এতো এতো স্টুডেন্টদের ভবিষ‍্যত কি—সে বিষয়ে কেউ সুস্পষ্ট কোন ধারণা দিতে পারবে না। সাথে লক্ষ লক্ষ স্টুডেন্ট সেশন জটের শিকার। হতাশায় নিমগ্ন। একটা দেশের তরুণদের নিয়ে এতো বড়ো অপরিকল্পনা, এতো ঔদাসীন‍্য—অবিশ্বাস‍্য। এই তরুণদের গড়ে তোলার যুগপোযোগী ব‍্যবস্থা না থাকলে দেশ গড়ে উঠে কি করে? ওরা না পাচ্ছে যুগপোযোগী আধুনিক শিক্ষা, না পাচ্ছে যথা সময়ে সনদ!

রউফুল আলম

দেশের রাজনীতিবিদ, আমলা আর পয়সাওয়ালাদের বাচ্চারা যদি ওখানে পড়তো—তাইলে দেখতেন সবই ঠিকমতো চলতো।

লেখক: গবেষক, যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির কর্মী

আরও পড়ুন: শিক্ষাব্যবস্থায় অসঙ্গতি রয়েছে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য

নোট

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি-বেসরকারি কলেজ আছে ২ হাজার ২৭৪টি। এর মধ্যে ২৭৯টি সরকারি কলেজ। স্নাতক (সম্মান) পড়ানো হয় ১৮১টি সরকারি কলেজে। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৮-৩০ লাখ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রেডিং পদ্ধতির রুলস-রেগুলেশন অনুযায়ী বছরে ৩৬৫ দিনের ২১০ দিন ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় এর চার ভাগের এক ভাগও হয় না। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার কয়েক মাসে আগে গাইড বইয়ের সাজেশন ফলো করে মুখস্থ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

এভাবে চারটা বর্ষ শেষ করে মাস্টার্সে ওঠেন। মুখস্থবিদ্যায় গড়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। এখানে নেই কোনো গবেষণা। করোনা মহামারির কারণে এখন পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাসের মুখ দেখেননি। ক্লাসের সিলেবাস শেষ না করেই গড়িমসি করে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, যা বাস্তবে অলিখিতভাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আদতে একটি ‘পরীক্ষাকেন্দ্র’ হিসেবে তৈরি করেছে।

নিম্নমধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার থেকে উচ্চশিক্ষায় আসা সর্বোচ্চসংখ্যক ছাত্রদের আশ্রয়স্থল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। অনেক শিক্ষার্থী আছেন, যাঁরা টাকার অভাবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে নামতে পারেন না। আর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া তো অনেক দূরের কথা। তাই বাধ্য হয়ে অবহেলা আর উদাসীনতার শিকার হয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন।

কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সংকটের কারণে এখানকার প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন হতাশায় নিমজ্জিত। দেশের প্রতিটি স্তর সংকটে ভরপুর, এর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট যেন তলানিতে পড়ে আছে।

১৯৯২ সালে উচ্চশিক্ষায় সেশনজট নিরসনের কথা বলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছিল। দীর্ঘ ২৯ বছরে পা রেখেছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যয় যত বেড়েছে, ভোগান্তিও বেড়েছে তত বেশি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল সমস্যা কী? ২০১৪ সালের পরে সেশনজট নিরসন হয়েছে। কিন্তু পুরোনো সংকট নতুন রূপে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করেন না। কেন ক্লাসে আসেন না? এই প্রশ্ন নিয়ে ছাত্র-শিক্ষকের ভিন্নমতও আছে।

আত্মসমর্পণ করলেন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল…
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
৩০০ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল ইসি
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
১২ তারিখে ভোট হবে কি না—এ নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে: তথ্য উপদেষ…
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
আমরা গণভোটে ‘না’ ভোট দেব, জনগনকেও উদ্বুদ্ধ করব: জিএম কাদের
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
পে স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজন ৮০ হাজার কোটি টাকা, বরাদ্দ আছে …
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ১৫ নেতাকে অব্যাহতি, শোকজ ৩
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9