শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি রোধের ভ্যাকসিন কি?

নেয়ামুল হাসান শান্ত

নেয়ামুল হাসান শান্ত © টিডিসি ফটো

দেখতে দেখতে প্রায় দেড় বছর! কোভিড-১৯ এর প্রকোপে শিক্ষার্থীদের জীবন যে টালমাটাল অবস্থায় জর্জরিত সেটার সমাধান যদি খুঁজতে চাই, তাহলে একবুক হতাশা ছাড়া আর কোন সমীকরণই মিলবে না। সেখানে সব থেকে বড় ক্ষতিকর যে দিকটি বিদ্যমান সেটি হলো বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের যারা রয়েছেন। কেনো সেটি বলছি? এটার উত্তরটাও খুবই সহজ।

আমরা যদি এই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া, বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অধিকাংশদের জীবন চক্রটা দেখি, তাহলে দেখবো তাদের মনস্তত্ত্বে বিদ্যমান একটা খোলা প্রাঙ্গণ, মুখরিত সবুজ চত্বর, আড্ডা, ব্যস্ততা, পড়াশোনা এগুলোই। এরই মাঝে রয়েছে ভালোবাসা, ত্যাগ, কষ্ট, সুখ সবকিছু। স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীদের থেকেও চাপের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদেরই অবস্থান বেশি থাকে। কারণ তাদের ম্যাচুরিটি অন্যদের থেকে আলাদা। চিন্তা ভাবনার ধরনটাও ভিন্ন৷ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ তারা। কারণ তাদের দিকেই তাকিয়ে থাকে পরিবার কিংবা রাষ্ট্র। আর এই প্রত্যাশার পথের বাঁধা গুলোই তাদেরকে যন্ত্রণা দগ্ধ করে রাখে নিরন্তর!

বিগত দেড় বছরে না এগিয়েছে দেশ, না এগিয়েছে এদের জীবনচক্রের স্বাভাবিকতা। আর তাইতো শেষ বর্ষের অভিশাপ নিয়ে, চাকরির আবেদন না করতে পেরে, সেশন জটের নির্মম খেলায় প্রতিরাতে দুশ্চিন্তা জন্ম দেয় নতুন কোন ডিপ্রেশনের৷ এদের কারো গল্প টিউশনি হারানোর৷ যে টিউশনির টাকায় চলতো মায়ের ঔষধ। এদের কারো গল্প ছোটখাটো ফ্রিল্যান্স কাজের, এদের কারো গল্প মুক্ত আকাশের মত, এদের কারো গল্প স্বপ্ন পূরণের। লকডাউনের পৃথিবীতে আজ সবাই ঘর বন্দি। কাছে থেকেও যেন কেউ নেই। ভার্চুয়াল সম্পর্কে স্পর্শ নেই, অনুভূতি নেই! আর এই এতকিছু নেই জন্ম দেয় ডিপ্রেশনের। আর সেই ডিপ্রেশন ঠেলে দেয় মৃত্যুর মুখে। সব মৃত্যুই দৈহিক হয়না৷ মানসিক অবস্থান, চিন্তা-চেতনা কিংবা স্পৃহারও মৃত্যু হয়। আস্তে ধীরে লড়াই করার মানসিকতা হারিয়ে যাচ্ছে, হারিয়ে যায়। কিন্তু সবাই যখন পৃথিবীর সুস্থতা নিয়ে ব্যস্ত, তখন ঘরের ভেতরে এই প্রাপ্ত বয়স্ক তরুণরা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ছে।

মানসিক স্বাস্থ্যের এত বিপর্যস্ত অবস্থা তাদেরকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। খাঁচায় বন্দি পাখি যেমন ডানা ঝাপটায় স্বাধীন হবার আশায়, ঠিক তেমনি হয়েছে জীবন৷ জীবনের এই নির্মম খেলায় করোনার ভ্যাকসিনের পাশাপাশি প্রয়োজন মানসিক স্বাস্থ্যেরও ভ্যাকসিন। যা হতে পারে একটুখানি সহযোগিতা, একটু খানি স্পর্শ, অনুভূতির সুযোগ তৈরি করার মাধ্যম। কর্মজীবনে প্রবেশের জন্য সুযোগ সুবিধা প্রদান কিংবা আর্থিক, অনার্থিক প্রণোদনা হয়তো কিছুটা স্পর্শ, অনুভূতির উদ্রেক ঘটাতে পারে৷ হাসিমুখ আনতে পারে একেকটি বিপর্যস্ত স্বত্বার। সেই হাসিমুখ আনার ভ্যাকসিন নিয়ে আসা আজকের দিনে সময়ের প্রয়োজন৷ দেশের ভবিষ্যতকে চাঙ্গা রাখা এখন দেশেরই দায়িত্ব। খুঁজে বের করা হোক মানসিক বিপর্যস্ততার ভ্যাকসিন। তবেই দেশ বাঁচবে, তবেই সম্ভব হবে একসাথে মহামারী মোকাবেলা।

লেখকঃ শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্বকাপে খেলবে ইরান, নিশ্চিত করলেন ফিফা সভাপতি
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
গাঁজা চাষ ও বিক্রির অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার, বিপুল মাদক উদ্ধ…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
ভিসির সঙ্গে ডাকসু নেতাদের সাক্ষাৎ, সিট বরাদ্দে নীতিমালাসহ ১…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
বাড়ি থেকে বের করে দিতে বৃদ্ধাকে নির্যাতনের অভিযোগ
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
‘শান্তির পৃথিবীতে সাগর তুই একাই থাক’ বলে দুই শিশুপুত্র নিয়ে…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
লক্ষ্মীপুরে মাদক ও পাইপগানসহ দুই ব্যক্তি গ্রেপ্তার
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence