হরিজন কনের বিয়েতে জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া © সংগৃহীত
গাজীপুরের হরিজন (সুইপার) সম্প্রদায়ের মা-হারা এক কনের বিয়েতে উপহারসহ উপস্থিত হয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। শনিবার অনুষ্ঠিত ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে তিনি অতিথি হিসেবে যোগ দেন। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার এমন উপস্থিতিকে স্থানীয়রা মানবিকতা ও সামাজিক সমতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।
হরিজন সম্প্রদায় দক্ষিণ এশিয়ার একটি অনগ্রসর ও দলিত জনগোষ্ঠী, যারা ঐতিহ্যগতভাবে পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা সুইপারের পেশায় নিয়োজিত থাকার কারণে ‘মেথর’ বা ‘ডোম’ নামে পরিচিত। সেই হরিজন সম্প্রদায়ের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তার মানবিকতার প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, জেলা প্রশাসনের এমন উপস্থিতি সমাজের তথাকথিত উঁচু-নিচু ভেদাভেদ দূর করতে এবং সব পেশার মানুষকে সমান মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। জনপ্রতিনিধি বা উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ঘটনা দেশে খুবই বিরল।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কনে পক্ষের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কনে শ্রীমতী প্রীতি রানী বাসফোরের পিতা শ্রী রতন বাসফোর বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের গাজীপুর মহানগরের একজন কর্মী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার স্ত্রী স্বর্গীয়া সীমা রানী বাসফোর গাজীপুরে অবস্থিত ডুয়েটে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তারা তাদের কন্যা প্রীতি রানী বাসফোরকে শিক্ষিত করেছেন; তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।
জেলা প্রশাসকের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এলাকাবাসী বলেন, সমাজে উচ্চ অবস্থানের মানুষ বা জনপ্রতিনিধিরা যখন সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের অনুষ্ঠানে অংশ নেন, তখন তা সমতার বার্তা দেয়।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের সংবিধান অনুযায়ী ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে রাষ্ট্র সবাইকে সমানভাবে মর্যাদা দিয়েছে। আমরা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। গাজীপুরকে একটি সমতা ও ঐক্যের জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন আমাদের দায়িত্ব। কোনো পেশাই অমর্যাদার নয়, অসম্মানের নয় বা কম গুরুত্বপূর্ণ নয় এই বিশ্বাস সমাজের সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই।’