মহিলা লীগ নেত্রীর দখলে থাকা ৮ একর জমি ৮ বছর পর উদ্ধার করলেন প্রবাসী © সংগৃহীত
৮ বছরের আইনি লড়াই ও প্রতীক্ষার পর অবশেষে নিজেদের পৈতৃক ৮ একর ১৫ শতাংশ জমির দখল ফিরে পেয়েছেন প্রবাসী শরিফুল ইসলাম ও তার পরিবার। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এতদিন জমিটি দখলে রেখেছিলেন সাতক্ষীরা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন আরা রুবি এবং তার সহযোগীরা।
গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) স্থানীয় সর্বসাধারণের সহায়তায় দেবহাটা উপজেলার বালিথা মৌজার ‘ধাপার ঘের’ এলাকায় নিজেদের রেকর্ডভুক্ত জমিতে সীমানা চিহ্নিত করে চূড়ান্ত দখল বুঝে নেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
ভুক্তভোগী প্রবাসী শরিফুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের প্রভাব খাটিয়ে মহিলা লীগ নেত্রী রওশন আরা রুবি, তার ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জায়েদ বিন কাদের এবং তাদের সহযোগীরা জোরপূর্বক জমিটি দখল করে মৎস্য চাষ শুরু করেন। জীবননাশের ভয় ও ক্ষমতার দাপটের কারণে এতদিন তাঁরা প্রকাশ্যে এর প্রতিবাদ করতে পারেননি। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রবাসী শরিফুল ইসলাম দেশে ফিরে এসে সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছরের ৩ জুলাই স্বজনদের নিয়ে জমিতে গেলে রওশন আরা রুবি ও জায়েদ বিন কাদেরের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা করে এবং এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে।
পরবর্তীতে ঘটনাটির বিচার চেয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। পুলিশ সুপারের নির্দেশে দেবহাটা থানা বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিলেও অভিযুক্ত পক্ষ বৈঠকে উপস্থিত হয়নি। এমনকি জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ও সাতক্ষীরা জজ কোর্টের জিপির উপস্থিতিতে আয়োজিত সালিশী বৈঠকেও রওশন আরা রুবি ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে বের হয়ে যান।
আদালত সূত্রে জানা যায়, উক্ত জমি নিয়ে নিম্ন আদালত এবং জজ আদালত উভয় স্থানেই হেরে যান রওশন আরা রুবি। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে রিট করে তিনি নিজের পক্ষে রায় এসেছে বলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করলেও তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিন পর নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও এলাকাবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শরিফুল ইসলাম ও তার শরিকেরা। তবে জমি হাতছাড়া হওয়ার পর অভিযুক্ত জায়েদ বিন কাদের প্রবাসী শরিফুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দেওয়ার চক্রান্ত করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কোনো ধরনের মিথ্যা হয়রানি এড়াতে এবং পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত রওশন আরা রুবি ও তার ছেলে জায়েদ বিন কাদেরের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।