গ্রামে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা

ডাক্তারদের কাছে ‘জাহান্নাম’, আর গ্রামীণ স্বাস্থ্যকর্মীরা জেলা-উপজেলার ‘ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার’

গ্রামবাসীর টার্গেট ফ্রি গ্যাসের ঔষধ আর ভিটামিন-ক্যালসিয়ামের বড়ি

২৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৩০ PM , আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৩২ PM
গ্রামের মসজিদে চিকিৎসাসেবারত লেখক

গ্রামের মসজিদে চিকিৎসাসেবারত লেখক © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

ঈদে নানার বাড়ি বেড়াতে যেয়ে আত্মীয় স্বজন ও এলাকার কিছু মানুষকে একটু কমফোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম মসজিদে বসে।‌ যোহর নামাজ থেকে মাগরিব পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন রোগী দেখেছি। অনেকের অনেক সমস্যা। চেষ্টা করেছি অল্প সময়ে শোনা ও সাধ্য অনুযায়ী পরামর্শ দেওয়ার। বেশিরভাগ মানুষ ক্রনিক রোগে ভুগছে। এসব ডিজিজের প্রিভেনশন ও কন্ট্রোল বিষয়ে তাদের জ্ঞান সীমিত। স্ক্রিনিং নাই কোনো।

দেখা যাচ্ছে হাই ব্লাড প্রেশারের রোগী বহুদিন রোগে ভুগছে কিন্তু জানেই না। সাইলেন্ট কিলার, হুট করে সর্বনাশ করে ফেলছে। কেউ কেউ জানে তার হাইপারটেনশন আছে, কিন্তু প্রেশারের ঔষধ খায় অনিয়মিত ও মর্জিমাফিক। বিড়ি খেয়ে কুল পায় না, এদিকে একাধিকবার হার্ট এটাক হয়েছে। এখন হাজার হাজার টাকার ঔষধ লাগে মাসে‌।‌ ডায়াবেটিস ৩/৪ বছর ধরে, কিন্তু সেই প্রথমে যে ঔষধ শুরু হয়েছিল সেটাই এখনো চলে। আর কখনো পরীক্ষা বা ফলোআপ করেনি। অথচ নানারকম কমপ্লিকেশন ডেভেলপ করছে। রেটিনোপ্যাথি হয়েছে, কিন্তু চোখের ডাক্তার দেখানোর কোনো তাড়া নাই।

মহিলাদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশের সাইকোলজিক্যাল হেলথের ইভালুয়েশন ও এড্রেস করা জরুরি। ফাংগাল ইনফেকশন, প্রসাবের ইনফেকশনে বহুদিন ধরে ভুগছে কেউ কেউ এবং ম্যালট্রিটেড। অল্প টাকায় যে রোগ ভাল হয়, তা ভাল করতে এখন হাজার টাকা লাগবে, রোগী ও ডাক্তারের ঘাম ছুটবে। বাচ্চাদের কিছু রোগ যেমন এডিনয়েড, আনডিসেনডেড টেসটিস এসব বিষয়ে জনসচেতনতা জরুরি। একটা ক্রনিক এডিনোটনসিলাইটিসের বাচ্চা এটা-সেটা করছে, হোমিওপ্যাথি খাচ্ছে, কিন্তু মাসের পর মাস তার ঘুমের হ্যাম্পার হচ্ছে, খেতে সমস্যা হচ্ছে, মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে, পরীক্ষায় খারাপ করছে— অথচ একটা কমন সার্জিক্যাল চিকিৎসাতেই এটা ভাল হয় এ বিষয়ে কে বুঝাবে সবাইকে।

ইরানে দেখেছি গ্রামাঞ্চলে সপ্তাহে একদিন ইউনিয়ন লেভেলের দায়িত্বরত চিকিৎসক তার টিম নিয়ে বের হয় সরকারি গাড়ি নিয়ে। যত দুর্গম জায়গা হোক এই সাপ্তাহিক একদিনের গ্রাম ঘুরার প্রোগ্রাম থাকতেই হবে। এই গ্রাম ট্যুরের মুল উদ্দেশ্য থাকে স্ক্রিনিং, প্রিভেনশন ও ফলো আপ। স্যানিটেশন, ফুড এন্ড নিউট্রিশন এগুলোও দেখা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা পর্যায়ে এই স্টেপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের দেশে যাদের কম্যুনিটি হেলথ ওয়ার্কার ও প্যারামেডিক হবার কথা ছিল তারা সদর হাসপাতালে ও উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সিতে বসে মেডিকেল অফিসার হয়ে রোগীর প্রেসক্রিপশন করে‌।‌ আর চিকিৎসক তো ব্যস্ত কবে উপজেলা নামের জাহান্নাম থেকে উঠে শহরে যাবে সে নিয়ে। আর গ্রামবাসীর টার্গেট থাকে ফ্রি গ্যাসের ঔষধ, ভিটামিন ক্যালসিয়াম বড়ি পাওয়া।

ডা. উমাইর চৌধুরী
রেসিডেন্ট প্রশিক্ষণার্থী, শিশু সার্জারি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
এমবিবিএস, শিরাজ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি, ইরান

সারাদেশে স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেট স্থাপনে কড়া নির্দেশ মন…
  • ০৮ মে ২০২৬
ডাকসুর বিক্ষোভের পর সিন্ডিকেটে শনিবারের বাস চালুর সিদ্ধান্ত
  • ০৮ মে ২০২৬
জুয়ার টাকা জোগাড় করতে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাক…
  • ০৮ মে ২০২৬
অ্যাপ বানিয়ে কল ডিটেইলস-ব্যাংক অ্যাকাউন্ট-মামলাসহ সংবেদনশীল…
  • ০৮ মে ২০২৬
চবি শাখার কমিটি দেবে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি!
  • ০৮ মে ২০২৬
ঈদ-উল আজহার ছুটি নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিল মন্ত্রিসভা
  • ০৭ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9