রাজশাহী মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের (চুক্তিভিত্তিক) অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক। তিনি রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ছয়টি পদ দখল করে আছেন। এ কারণে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়টির অঘোষিত উপাচার্য মনে করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সূত্র জানায়, উপাচার্যের পরে বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান দুটি দপ্তর হলো কলেজ পরিদর্শক এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সরকারি-বেসরকারি নার্সিং কলেজ, হেলথ টেকনোলজি এবং মেডিকেল কলেজ মিলে ৬০টির মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। আরো ১১টি প্রতিষ্ঠান অধিভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানের অধিভুক্তি, নবায়ন, কেন্দ্র প্রদান, শিক্ষার্থী নিবন্ধন, চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়া এবং ফলাফল দেওয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ কলেজ পরিদর্শক এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে হয়। এ রকম গুরুত্বপূর্ণ দুটি দপ্তরের প্রধানের অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন ডা. জাওয়াদুল হক। এছাড়া তার মূল কর্মস্থল হলো রাজশাহী মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ। সেখান থেকে গত নভেম্বরে অবসরে যাওয়ার পর গত ৬ জানুয়ারি তিনি দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান।
বর্তমানে ওই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তিনি। এর পাশাপাশি বেসরকারি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এমপিএইচ ডিপার্টমেন্টের কোর্সের কো-অর্ডিনেটরও তিনি। সেই সঙ্গে শুরু থেকে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, জনবল নিয়োগ কমিটির সদস্য এবং সংবিধি কমিটিরও সদস্য জাওয়াদুল। এর মধ্যে একটি পদ থেকে অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা নেন।
সূত্র আরও জানায়, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মাসুম হাবিব বার্ধক্যজনিত নানান অসুখজনিত সমস্যায় দেশে করোনাভাইরাস ছড়ানোর পর থেকে অফিস করেননি। কোনোমতে বাসা থেকে ফাইলপত্র স্বাক্ষর করতেন। গত সেপ্টেম্বরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে সব কিছু থমকে গেছে। এর মধ্যে নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা না করে উপাচার্য তার আস্থাভাজন ডা. জাওয়াদুল হককে কলেজ পরিদর্শকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন।
এরপর একজন দক্ষ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে কৌশলে সরিয়ে দিয়ে ওই পদেরও অতিরিক্ত দায়িত্বে বসান জাওয়াদকে। তার পর থেকে জাওয়াদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এখন ডা. জাওয়াদুলই রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অঘোষিত উপাচার্য। তার মর্জিতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজকর্ম। উপাচার্যের অসুস্থতা এবং একজন ভাড়াটিয়া ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ সব পদ দখল করে রাখায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কাজই সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে না।
জানা যায়, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুতে তাকে একা গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ডিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে নার্সিং অনুষদের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি করা হয়। ২০১৮ সালের প্রথম বর্ষ নার্সিং চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন এবং মৌখিক ও ব্যাবহারিক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে রাজশাহী নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ এবং ডা. জাওয়াদুলের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করছে। এসব নিয়ে পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি এবং বহু সমালোচনার মুখে দুটি ডিনের দায়িত্ব থেকে তাকে সরানো হয়। তবে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পরবর্তী সময়ে আবারও তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ দুটি দপ্তরের প্রধানের অতিরিক্ত দায়িত্বে বসানো হয়।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, আমি এখন মূলত রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিক্ষক। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাদের চাহিদার কারণেই করতে হচ্ছে। এতে কোনো অনিয়ম হয়নি। আমি আমার দায়িত্ব সঠিক মতোই পালন করছি।