খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি সম্পাদিত
প্রতিষ্ঠার ছয় বছর পার হলেও শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (খুমেবি)। নিজস্ব ক্যাম্পাসের অভাব ও উন্নয়নকাজে দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে চালুর প্রস্তাবে ঐকমত্য জানিয়েছেন বিভাগের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও প্রবীণ চিকিৎসকরা। প্রস্তাবটির বাস্তবতা যাচাই করে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দলও।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রস্তাবটির বাস্তবতা যাচাইয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মঈনুল ইসলামের নেতৃত্বে খুলনা আসা প্রতিনিধি দলকে দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। প্রতিনিধি দল হাসপাতালটি ঘুরে দেখেন এবং মন্ত্রণালয়ে দ্রুত প্রতিবেদন প্রদানের আশ্বাস দেন। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সংসদে আইন পাশের মধ্য দিয়ে খুলনায় ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’ যাত্রা শুরু করে। ২০২৫ সালে অন্তবর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে এর নাম পরিবর্তন করে রাখে ‘খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’। ২০২১ সালেই নিরালা আবাসিক এলাকার একটি ভবনের ৬টি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী প্রশাসনিক কার্যালয় স্থাপন করা হয়। বছরে ভবনের ভাড়া প্রায় ৩৬ লাখ টাকা। সেখানে উপাচার্যসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ৪২ জন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য ২০২৪ সালের ৯ মে একনেকে ১ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়। দুই বছর অতিবাহিত হলেও ক্যাম্পাসের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। পরে গত জুন মাসে বিশেষায়িত হাসপাতালে অস্থায়ী ক্যাম্পাস চালুর প্রস্তাব পাঠান উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন। প্রস্তাবের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল অনুবিভাগ) এ এন এম মঈনুল ইসলাম গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগ পরিদর্শন করে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলেন, সেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন এবং অস্থায়ী প্রশাসনিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য সম্ভাব্য বিভিন্ন অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন খুমেবি উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন। তিনি খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালকে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহারের পক্ষে বিস্তারিত যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও গতিশীল হবে এবং চিকিৎসা শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন বলেন, জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ করে ভবন নির্মাণ এবং সেখানে স্থানান্তর হতে সময় লাগবে ৭/৮ বছর। এই দীর্ঘ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম বন্ধ থাকতে পারে না। এজন্য বড় কোনো হাসপাতালে অস্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য জায়গা খোঁজা শুরু করি। খুলনার জেলা প্রশাসক এই কাজে সহযোগিতা করেন। বেশ কয়েকটি স্থান দেখে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে অস্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরির জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। প্রস্তাবের বাস্তবতা যাচাইয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা খুলনায় এসেছেন।
একই ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে অংশীজনেরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। তারা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে সরকারের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন এবং বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপনের জন্য অতিরিক্ত সচিবের কাছে অনুরোধ জানান।
খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ডা. আবু জাফর মো. ছালেহ বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম দুটোকেই আমরা সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিতে চাচ্ছি। এতে মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। চলতি বছর থেকেই মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফল পাবে।
সভায় মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলাম, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা: শেখ মো. মোশাররফ হোসেন, খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ আবু শাহিন, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুনসহ স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।