রামেক ছাত্রদলের কমিটি
২০২৪ সালে মদ-গাঁজা ও কনডমসহ ধরা পড়েন বর্তমান রামেক ছাত্রদলের সহ-সভাপতি, পাশে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদকের আক্ষেপের স্ক্রিনশট © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংসদ। এতে হোস্টেল কক্ষে মদ ও গাঁজা সেবন এবং জন্মনিয়ন্ত্রক সামগ্রীসহ ধরা পড়ে সিট বাতিল ও বহিষ্কারের শিকার ইন্টার্ন চিকিৎসক সহ-সভাপতি পদ পেয়েছেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় আক্ষেপ করা ছাত্রলীগ কর্মী হয়েছেন সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।
গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) ৪৬ সদস্যের নতুন এই কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এতে ডা. আমরি মিমকে সভাপতি ও মো. রিমন আলীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
এদিকে কমিটি ঘোষণার পর এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সহ-সভাপতি মো. মিজানুর রহমান এবং সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফা হানিফকে নিয়ে বিতর্ক থামছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন হোস্টেলে এক অভিযানে মাদকদ্রব্য ও জন্মনিয়ন্ত্রক সামগ্রীসহ ধরা পড়েন মো. মিজানুর রহমান। তিনি সর্বশেষ রামেক ছাত্রলীগের উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ছিলেন। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের তৎকালীন সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মিজানকে দেয়া এক চিঠিতে তার সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান। একই সঙ্গে ৬ মাসের জন্য তার ইন্টার্নশিপও স্থগিত হয়।
চিঠিতে বলা হয়, গত ২৭ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে এই হাসপাতালের শহীদ জামিল আখতার রতন ইন্টার্ন হোস্টেলের ৩০০১ নম্বর রুম থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ অনুভূত হলে তৃতীয় তলার তৎকালীন অবস্থানরত সকল ইন্টার্ন চিকিৎসক ৩০০১ নম্বর রুমে প্রবেশ করলে সেখানে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় এবং মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় আপনাকে পাওয়া যায়।
এতে বলা হয়, পরবর্তীতে ৩০০১ নম্বর রুম থেকে গাজা ভর্তি সিগারেট বিদেশি মদের বোতল জন্মনিয়ন্ত্রক কনডম ও অন্যান্য অপ্রত্যাশিত জিনিসপত্র পরিলক্ষিত হলে তখন বিক্ষুব্ধ ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ঘটনাটি এই হাসপাতালের পরিচালক মহোদয়কে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং আপনাকে (ডা. মো. মিজানুর রহমান) এ ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে আপনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এরপর পরিচালকের কার্যালয়ের ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে আপনাকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছিল। উক্ত কৈফিয়তে যে, জবাব আপনি প্রদান করেছেন, তা মোটেই সন্তোষজনক নয়। তদন্ত কমিটির উৎঘাটিত তথ্যের ভিত্তিতে আপনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও ডিসিপ্লিনারী কমিটির সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ইন্টার্নি ডাক্তার (শৃংখলা ও আচরণ) বিধিমালা ১৯৯৮ অনুযায়ী বর্ণিত শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো।
এদিকে রামেক ছাত্রদলের নতুন কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত আবু হানিফা হানিফের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় সহানুভূতিশীল মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। তিনিও ওই সময় ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পলায়নের পর বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের প্রসঙ্গে একটি গ্রুপ চ্যাটে তিনি ‘আমাদের সব পার্টি অফিস শেষ করে দিছে’ বলে মন্তব্য করেন।
এসব বিষয়ে জানতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ডা. আমরি মিমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।