ঢামেক অধ্যাপক ডা. শহীদুল ইসলাম আকন, সাবেক মুমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ও এনডিএফের লোগো (বাম থেকে) © টিডিসি সম্পাদিত
মুগদা মেডিকেল কলেজের (মুমেক) সাবেক অধ্যক্ষ শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের স্পাইন সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. শহীদুল ইসলাম আকনকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) ও বদলির প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)। একই সঙ্গে তাদের ‘হয়রানিমূলক’ বদলি আদেশ বাতিলসহ ৪ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এনডিএফের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম ও জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বকাউল এক যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে আহত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মানবিক দায়িত্ব পালনকারী এবং পেশাগত সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অযৌক্তিক বদলি, ওএসডি ও প্রশাসনিক হয়রানিমূলক পদক্ষেপের ঘটনায় ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বিশেষভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্পাইন সার্জারির অধ্যাপক ডা. শহীদুল ইসলাম আকন এবং বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ গভীরভাবে উদ্বেগজনক।
এনডিএফ মনে করে, জুলাই আন্দোলনের সংকটময় সময়ে আহত মানুষের চিকিৎসায় এগিয়ে আসা চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক আচরণ শুধু ব্যক্তি-অবমাননা নয়, বরং এটি স্বাস্থ্যখাতে ভয়, অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি করছে। অভিজ্ঞ ও সিনিয়র চিকিৎসকদের যত্রতত্র বদলি ও ওএসডি করার ফলে হাসপাতালের সেবা, বিশেষায়িত চিকিৎসা, মেডিকেল শিক্ষা ও রোগীদের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংগঠনটি আরও মনে করে, সরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে নির্লজ্জ দলীয়করণের প্রবণতা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ভয়াবহ হুমকি। পেশাগত যোগ্যতা, সততা ও মানবিক অবদানের পরিবর্তে দলীয় বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়া হলে তা দেশের চিকিৎসা ও শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে।
এনডিএফের ৪ দাবি
১. অধ্যাপক ডা. শহীদুল ইসলাম আকন ও অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে গৃহীত অযৌক্তিক বদলি, ওএসডি ও প্রশাসনিক হয়রানিমূলক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
২. সিনিয়র চিকিৎসকদের পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগততা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে।
৩. স্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে দলীয়করণ বন্ধ করে পেশাদারিত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৪. চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এনডিএফ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনতিবিলম্বে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার (১৩ এপ্রিল) মুগদা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমানকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ওএসডি করে মাতুয়াইল মা ও শিশু স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে সংযুক্ত করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এর আগে গত ৩০ মার্চ তাকে মুমেক থেকে ঢাকা মেডিকেলের পেডিয়াট্রিক্স বিভাগে বদলি করা হয়েছিল। অভিযোগ, তিনি ১ এপ্রিল ঢামেকে যোগদান করলেও তার যোগদানপত্র গ্রহণ না করে ১৩ দিন পর মাতুয়াইলে বদলি করা হয়েছে।
একই দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের স্পাইন সার্জারির অধ্যাপক ডা. শহীদুল ইসলাম আকনকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ওএসডি করে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে। অধ্যাপক ডা. আকন ঢাকা মেডিকেলের ডা. ফজলে রাব্বি হলের সহকারী প্রভোস্ট ছিলেন।