প্রতীকী ছবি © এআাই তৈরি
বাড়ির কাছাকাছি বদলি হতে চেয়েছিলেন এক মাদ্রাসা শিক্ষক। কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিএমই) প্রকাশিত শূন্য পদের তালিকায় আশপাশের কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। পরে নিজ উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে একটি প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদের সন্ধান পান। তবে তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির নাম না থাকায় সেখানে ম্যানুয়াল বা হার্ডকপিতে আবেদন করার পর সেটি গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমার বাড়ির কাছাকাছি কোনো প্রতিষ্ঠানেই শূন্য পদ পেলাম না অধিদপ্তরের তালিকায়। কিন্তু আমার বদলি হওয়াটা খুবই প্রয়োজন। জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। প্রতিদিন দূর-দূরান্তে যাতায়াতের কষ্ট আর করতে চাই না। কিন্তু বদলির এমন সুন্দর সুযোগ পেয়েও কাছাকাছি কোনো প্রতিষ্ঠানে পদ শূন্য না থাকায় বেশ হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম।’
কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানের নাম তালিকায় না থাকায় কোথায় শূন্য পদ রয়েছে, তা খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়েছিল ওই শিক্ষকের জন্য।
তার ভাষ্য, ‘কোথায় শূন্য পদ আছে সেটি বের করা বেশ কঠিন কাজ। কিন্তু অনেক বছর যেহেতু শিক্ষকতা করছি, আশপাশের প্রতিষ্ঠানগুলোর খোঁজখবরও জানা ছিল। তবুও প্রথমে আমার জেলার প্রতিষ্ঠানগুলোতে কল করতে শুরু করলাম। নানাভাবে খোঁজও নিলাম। পরে সুবিধামতো এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠান পেয়েও গেলাম। সেখানে বদলির জন্য হার্ডকপি জমা দিয়ে আবেদন করেছি।
আবেদন করার পর ওই শিক্ষকের দুশ্চিন্তাও ভর করেছে। তিনি বলেন, ‘অধিদপ্তরের প্রকাশিত শূন্য পদের তালিকায় যেহেতু এই প্রতিষ্ঠানের নাম নেই, সেক্ষেত্রে আবেদন করাটা ঠিক হলো কি না বুঝতে পারছি না।’
এই শিক্ষকের মতো বদলিপ্রত্যাশীদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, প্রকাশিত শূন্য পদের তালিকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম বা পদ না থাকলেও সেখানে বাস্তবে শূন্য পদ থাকলে ওই পদের বিপরীতে আবেদন করা যাবে।
পরে আবেদন যাচাইয়ের সময় মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (মেমিস) তথ্য যাচাই করে সংশ্লিষ্ট পদটি প্রকৃতপক্ষে শূন্য কি না নিশ্চিত করা হবে। পদটি শূন্য থাকার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেলে তা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বদলির ব্যবস্থা করা হবে।
শূন্য পদ প্রকাশিত তালিকায় না থাকার বিষয়ে অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এই তালিকাটি আমরা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) থেকে নিয়েছি। তালিকা নেওয়ার পর কোনো শিক্ষক হয়তো অবসরে গেছেন, চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, চাকরিচ্যুত হয়েছেন কিংবা মারা গেছেন। এসব কারণে পরবর্তীতে কোনো পদ শূন্য হয়ে গেলেও তা প্রকাশিত তালিকায় দেখা যাচ্ছে না। ফলে বদলিপ্রত্যাশীদের জন্য তালিকার বাইরে থাকা প্রকৃত শূন্য পদে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদ থাকার দাবির ভিত্তিতে আবেদন করলেই যে বদলি নিশ্চিত হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এমপিও শিট দেখে পদটি আসলেই শূন্য কি না, সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে হবে। এরপর সব নিশ্চিত হওয়া গেলে বদলির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এদিকে, বেসরকারি মাদ্রাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির জন্য প্রায় ৪২ হাজার শূন্য পদের তালিকা প্রকাশ করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। গত ৩০ আগস্ট থেকে বদলির আবেদন শুরু হয়েছে। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিক্ষকরা আবেদন করতে পারবেন।