বেতন বন্ধের নির্দেশের পরও চার মাসের এমপিও ছাড়

১৫ আগস্ট ২০১৮, ১২:০০ PM
শিক্ষা মন্ত্রণালয়

শিক্ষা মন্ত্রণালয় © ফাইল ফটো

১৩ বছরে দাখিলে ১৮ জন আর আলিম পরীক্ষায় পাস করেছে ১১ জন।  কিন্তু এজন্য কোনও জবাবদিহি করতে হয়নি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার লেমুয়া চন্দ্রকান্দ্রা আলিম মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে।  যেনতেনভাবে প্রতিষ্ঠান চালিয়েই ১৩ বছর বেতন-ভাতা পেয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।  শুধু তাই নয়, গত ২৭ মার্চ বেতন বন্ধের নির্দেশের পরেও জুলাই মাস পর্যন্ত আরও চার মাসের এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) ছাড় করা হয়েছে।  সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, ‘ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন বন্ধ করতে গত ২৯ মার্চ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে।  বেতন বন্ধ করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)।’ এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, আগামী এমপিও বৈঠকে তা বাতিল করা হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রী এবং ফলাফলের হিসেবে খুঁজতে গিয়ে লেমুয়া চন্দ্রকান্দ্রা আলিম মাদরাসার সার্বিক চিত্র উঠে আসে।  ২০০৫ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১৩ বছরে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মোট ৬০ জন।  এর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১৫ জন।  ২০১১ সালে কেউ পাস করেনি।  আলিম পরীক্ষায় ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট অংশ নিয়েছে ২৮ জন।  এর মধ্যে পাস করেছে ১১ জন।  ২০১০ সালে আলিম পরীক্ষায় কেউ পাস করেনি।

এ অবস্থায় বাতিল হয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান অনুমোদন ও একাডেমিক স্বীকৃতি।  মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) বন্ধেরও নির্দেশ দেওয়া হয় মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডকে।  কিন্তু গত জুলাই মাস পর্যন্ত এমপিও বন্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।  মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো আবদুল খালেক স্বাক্ষরিত আদেশে গত ২৭ মার্চ মাদরাসাটির এমপিও বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে গত বছরের ২৭ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাদরাসাটির একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিলের নির্দেশ দেয়। কিন্তু একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিল করেনি বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড।  এরপর গত ২৭ মার্চ শিক্ষা বোর্ডকে আবার চিঠি দেয় কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ।  কোন কোন মাদরাসায় কাম্য সংখ্যক শিক্ষার্থী বা কাম্য ফলের ঘাটতি রয়েছে বা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে তার একটি তালিকা প্রতিবেদনসহ ২৭ মার্চের মধ্যে পাঠাতে বলা হয় চিঠিতে।  কিন্তু মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কোনও জবাব না দিয়েই গত ৯ এপ্রিল দেশের ২০৭টি মাদরাসাকে শোকজ করে।

চিঠির জবাব না পেয়ে গত ৮ মে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডকে আবারও চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়।  ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘কোন কোন মাদ্রাসায় কাম্য সংখ্যক শিক্ষার্থী বা কাম্য ফলের ঘাটতি রয়েছে বা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে তার তালিকা প্রতিবেদনসহ ২৭ মার্চের মধ্যে পাঠাতে বলা হলেও আজ পর্যন্ত প্রতিবেন ও তালিকা পাঠানো হয়নি।’ এই চিঠির পর পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ২৮ মে ২০২টি মাদরাসার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড।  এছাড়া আরও ৯৬টি মাদরাসাকে শোকজ করা হয়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কয়েক মাসে এত কিছু ঘটে গেলেও লেমুয়া চন্দ্রকান্দা মাদরাসাটির শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ হয়নি আজ পর্যন্ত।  গত ২৭ মার্চ বেতন বন্ধের নির্দেশের পরও গত জুলাই মাস পর্যন্ত আরও চার মাসের বেতন ছাড় করা হয়েছে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করছে না বাংলাদেশ 
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র বিএনপির দুগ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজার-৪ ভোটের আমেজ শুরু, আলোচনায় বিএনপি-জামায়াত প্রার্থী
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
বিদ্রোহী প্রার্থীকে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর থানা কমিটিও স…
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
ময়মনসিংহে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির তিন নেতা বহিষ্কার
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬
নির্বাচন উপলক্ষে শ্রমিকদের টানা তিনদিনের সাধারণ ছুটি
  • ২২ জানুয়ারি ২০২৬