নূর আহমেদ আনোয়ারী ও শাহাজাহান চৌধুরী © সংগৃহীত
ঘনিয়ে আসছে জাতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে ছড়িয়ে পড়েছে ভোটের আমেজ। বিভিন্ন এলাকায় অলিগলি ও পাড়া-মহল্লায় প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। সভা, গণসংযোগ ও মতবিনিময়ে মুখর হয়ে উঠছে পুরো জনপদ।এই আসনে বিভিন্ন দল থেকে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হলেও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহাজাহান চৌধুরী ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নূর আহমেদ আনোয়ারী।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া–টেকনাফে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৮ জন। এর মধ্যে উখিয়ায় পুরুষ ভোটার ৮৯ হাজার ১০৮ জন, নারী ভোটার ৮৩ হাজার ৭৯৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন। টেকনাফে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩ হাজার ৬৯৮ জন, নারী ভোটার ৯৯ হাজার ৮০ জন এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন।
বর্তমানে প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্ধারিত ভোটের দিনে বিজয় নিশ্চিত করতে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। তবে রোহিঙ্গা-অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি নিয়ে আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন একাধিক প্রার্থী।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহাজাহান চৌধুরী বলেন, ‘আমি একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। অতীতেও মানুষের জন্য কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকব। ভোটকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।’
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নূর আহমেদ আনোয়ারী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারে, তবে উখিয়া-টেকনাফের মানুষ দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে বিবেচনায় নেবে।
তিনি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এখনো শতভাগ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হয়নি।’
নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, ‘আমরা একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও
গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। মানুষের সহযোগিতা পেলে অতীতের চেয়ে আরও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হবে।’
সর্বশেষ নির্বাচনকে সামনে রেখে উখিয়া-টেকনাফে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়লেও ভোটারদের প্রত্যাশা—শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। প্রার্থী, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে—এমন আশাই এখন এই জনপদের মানুষের।