উচ্ছেদ ও পুনঃখনন, হারানো নাব্যতা ফিরছে গলাচিপার রতনদী খালে

রতনদী খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে

রতনদী খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে © টিডিসি

একসময় রতনদী খাল ছিল গলাচিপার জনপদের প্রাণ। ভোর হলেই সারি সারি নৌকা ভিড়ত ঘাটে, ট্রলার আসত বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মালামাল নিয়ে, চলত যাত্রী পরিবহন। খালের স্বচ্ছ পানিতে স্নান করত শিশুরা, গৃহস্থালির কাজ সারতেন নারীরা। সেই ঐতিহ্যবাহী রতনদী খাল আজ আবার জেগে উঠছে। উচ্ছেদ ও পুনঃখননের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট। গলাচিপা পৌর এলাকার খেয়াঘাট থেকে কলেজপাড়া পর্যন্ত খালের দুই পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে দখল করে গড়ে তোলা দোকানঘর, টিনশেড ও অন্যান্য স্থাপনা অপসারণ করা শুরু হয়েছে। বহুদিনের দখলদারিত্বের অবসানে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয়রা।

ঠিকাদার সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা-উলানিয়া সংযোগে প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ এ খাল পুনঃখনন ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সরকারের চলমান খাল খনন কর্মসূচির আওতায় ধাপে ধাপে পুরো খাল পুনরুদ্ধার করা হবে। ইতোমধ্যে থানাসংলগ্ন এলাকায় দুই কপাটবিশিষ্ট একটি স্লুইসগেট নির্মাণ শেষ পর্যায়ে। খাল খননকাজের প্রায় ৪০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। উচ্ছেদ কার্যক্রম শেষ হলে দুই পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা খালপাড়কে দেবে নতুন নান্দনিকতা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে খালের দুই পাড় দখল করে গড়ে ওঠে বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ময়লা-আবর্জনা ফেলা, অপরিকল্পিত ভরাট ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নাব্যতা হারায় খালটি। বর্ষা এলেই পৌর এলাকায় সৃষ্টি হতো তীব্র জলাবদ্ধতা। কালের পরিক্রমায় বন্ধ হয়ে যায় নৌচলাচল, হারিয়ে গেছে খালের ঐতিহ্য।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, রতনদী খাল ছিল এই অঞ্চলের বাণিজ্যের পথ। গলাচিপা থেকে মালামাল নিয়ে নৌকা যেত উলানিয়া বন্দরে। আমতলী উপজেলার গাজীপুর, কলাপাড়া উপজেলার লোকজন ব্যবসার উদ্দেশ্যে বরিশালের পিরোজপুরের আটঘর কুরিয়ানা থেকে আসত পেয়ারা ও বিভিন্ন এলাকা থেকে ভাসমান নৌকা ও ট্রলার আসত বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে বেচাকেনা হতো। গলাচিপায় একসময় শনিবার হাট বসত এবং ঘটঘট শব্দ হতো। নৌকা ও ট্রলার চলাচল ছিল নিয়মিত দৃশ্য। এখন যদি খাল দখল মুক্ত ও খনন করে পুরোনো রুপে ফিরিয়ে আনা যায় তবে আবারও নৌকা চলাচল শুরু হবে, শহরের জলাবদ্ধতা কমে আসবে। জোয়ার ভাটায় স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার কাটবে শিশুরা। তাহলেই এই উদ্যোগ সফল হবে।

তবে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভও রয়েছে, খালটি পুনরুদ্ধারের নামে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান করা হলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। তাই এবার যাতে দখলমুক্ত করে পরিকল্পিত উন্নয়নের দাবি তার তাদের।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার সাজন বসাক জানান, জনস্বার্থে খালের দুই পাশের সব অবৈধ স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। খাল দখলমুক্ত ও পুনঃখনন সম্পন্ন হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার আলামিন জানান, ২০২৪ সালে কাজ শুরু হলেও বিভিন্ন জটিলতায় অগ্রগতি ধীর ছিল। তবে প্রশাসনিক সহযোগিতা পাওয়ায় এখন দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। খাল পুনরুদ্ধার শুধু জলাবদ্ধতা নিরসনই নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও নগর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে। ওয়াকওয়ে নির্মাণ হলে এটি হয়ে উঠতে পারে স্থানীয়দের অবসরযাপনের স্থান। পাশাপাশি সচল হবে সেচব্যবস্থা।

দীর্ঘদিনের অবহেলার পর রতনদী খালকে ঘিরে নতুন আশার আলো দেখছেন গলাচিপার বাসিন্দারা। প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগ ও নাগরিক সচেতন মানুষের সহোযোগিতা অব্যাহত থাকলে, হয়তো আবারও প্রাণ ফিরে পাবে খাল, ফিরবে গলাচিপার ঐতিহ্য ও স্বস্তি।

নিজ কক্ষে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই শিক্ষিকা…
  • ০৪ মার্চ ২০২৬
১৬ মার্চ অফিস করেই শুরু হচ্ছে ঈদ ছুটি
  • ০৪ মার্চ ২০২৬
ব্র্যাকের কর্মসূচি পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইম…
  • ০৪ মার্চ ২০২৬
সেমিফাইনাল বৃষ্টিতে ভেসে গেলে ফাইনালে খেলবে যারা
  • ০৪ মার্চ ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকার গলা কাটলেন কর্মচারী, ছুরি চালালেন ন…
  • ০৪ মার্চ ২০২৬
মার্কিন এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি ইরানের
  • ০৪ মার্চ ২০২৬