চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত © সংগৃহীত
বিশিষ্ট ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ নকল করে ডিপফেক ভিডিও বানিয়ে প্রতারণার অভিযোগের মামলায় ১০ যুবককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন , গতকাল আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল সোমবার জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং তাদের পক্ষে আইনজীবী শরীফ আহমেদ শুনানিতে অংশ নেবেন। এর আগে গতকাল শনিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে এই আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন মো. সারাফাত হোসেন (২৪), মো. শাফায়েত হোসেন শুভ (২১), শাহাদাত তৌফিক (২১), মো. ইমাম হোসেন বিজয় (২১), মো. রফিকুল হাসান (২১), মিনহাজুর রহমান শাহেদ (১৯), তৌকি তাজওয়ার ইলহাম (২১), অমিদ হাসান (২১), মো. আব্দুল্লাহ ফাহিম (২১) এবং মো. ইমরান (২৪)। তারা বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হলেও চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে এ কার্যক্রম চালাতেন।
জানা যায়, ২৩ এপ্রিল রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় বিলাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পল্টন থানা এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বায়েজিদ বোস্তামি থানা যৌথ অভিযান চালিয়ে শেরশাহ কলোনি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে। মামলার অভিযোগে বলা হয়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আজহারীর ভিডিও ও কণ্ঠ সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে তার মতো করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করত। এসব ভিডিও ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট পণ্যের প্রচারণা চালানো হতো। প্রতারকরা ‘আজহারী শপ’, ‘ডক্টর সেবা’, ‘হালাল শপ’সহ অন্তত ২৪টি ভুয়া ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট পরিচালনা করত। পরে কুরিয়ার সার্ভিসের
মাধ্যমে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য পাঠিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করত তারা।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আজহারী দেশের বাইরে অবস্থান করার সুযোগ নিয়ে তার জনপ্রিয়তা ও মানুষের ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে চক্রটি এই প্রতারণা চালিয়ে আসছিল।