রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে বিক্ষোভ © টিডিসি ফটো
জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবন ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া বিতর্কিত রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজহারকে পুনরায় কলেজে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
আজ রবিবার (১৪ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলেজের প্রধান ফটক বন্ধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ‘এক, দুই, তিন, চার, আজহার তুই গদি ছাড়’ এবং ‘দুর্নীতি না শিক্ষা, শিক্ষা শিক্ষা’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজহার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছেন। জুলাই আন্দোলনের সময় এবং তারও আগে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং শিক্ষার্থীবিরোধী কর্মকাণ্ডের নানা অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবন ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। আন্দোলন থেকে সরে আসতে শিক্ষার্থীদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপও প্রয়োগ করা হয়। তবে এসব চাপ উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যান এবং নিজেদের অবস্থানে অটল থাকেন।
আরও পড়ুন: দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, ১৮ জুলাই শিক্ষার্থীরা কলেজে আসার খবর পাওয়ার পর কলেজের গেইট বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের চাপে গেইট খুলে দেওয়া হলেও প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজহার শিক্ষকদের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পানি দিতে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, পরে ক্যান্টিনের গেইটেও তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের সহায়তা না পায়।
এছাড়া প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বা কোনো কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে শোকজ নোটিশ দেওয়ার ভয় দেখানো হতো বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করা, ভীতি প্রদর্শন, শোকজের হুমকি এবং নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সমালোচনামূলক প্রতিবেদন সরিয়ে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডের কারণে আজহারের নাম রাজউকের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
জুলাই আন্দোলনের পর তাকে কলেজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রায় আট মাস পর পুনরায় তাকে কলেজে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের প্রিন্সিপালের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।