একাদশে ভর্তি: বরিশাল বিভাগের সেরা ২০ কলেজ

১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৯ PM , আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৯ PM
বরিশাল বিভাগের শীর্ষ কলেজ

বরিশাল বিভাগের শীর্ষ কলেজ © টিডিসি সম্পাদিত

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থাকে একাদশ শ্রেণিতে কোন কলেজে আবেদন করবেন? কোন কলেজ ফলাফল ও শিক্ষার মানে সেরা, কোন কলেজে ভর্তির বেশি সুযোগ ভর্তির সুযোগ বেশি থাকবে? এই সিদ্ধান্তকে সহজ করতে আজ আমরা বরিশাল বিভাগের সেরা কিছু কলেজ সম্পর্কে জানবো। 

শিক্ষাবিষয়ক অনলাইন প্ল্যাটফর্‌ম ‘সহপাঠী’ বরিশাল বিভাগের শীর্ষ ২০টি কলেজের তালিকায় সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরেছে। এতে ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব ফলাফলে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা, উত্তীর্ণের সংখ্যা, জিপিএ ৫ অর্জন এবং ফলাফলের ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সরকারি, বেসরকারি ও ক্যান্টনমেন্ট পরিচালিত বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী ও পরিচিত কলেজ রয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক কার্যক্রম, ঐতিহ্য, শিক্ষার পরিবেশ ও সামগ্রিক সুনামের বিবেচনায় বরিশাল বিভাগের উল্লেখযোগ্য কলেজের তালিকা নিচে দেওয়া হলো।

১. বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ
১৯৫৭ সালে ‘দি উইমেন্স কলেজ বরিশাল’ নামে মহাবিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘জ্ঞান শৃঙ্খলা -পবিত্রতা’র আর্দশ বাস্তবায়নের অভিপ্রায়ে স্থানীয় বিদ্বৎসমাজ ও তৎকালীন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দের সার্বিক সহায়তায় ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষ থেকেই শুরু করা হয় এর শিক্ষাকার্যক্রম্। অতঃপর ১৯৭৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জাতীয়করণ হলে এর ‘বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ’।

২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১৭টি পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৬ হাজার ১৮২ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন পাস এবং ১ হাজার ৭৯৮ জন অকৃতকার্য হন। জিপিএ-৫ অর্জন করেন ৪ হাজার ১৩ জন। কলেজটির গড় পাসের হার প্রায় ৮৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

২. বেতাগী সরকারি কলেজ
বেতাগী সরকারি কলেজ বাংলাদেশের বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কলেজটি ১৯৭২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, ১৯৮৫ সালে বি.এ(পাস) কোর্স খোলা হয়। ১ জানুয়ারি ১৯৮০ তারিখে কলেজটিকে প্রথম এমপিওভুক্ত করা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজটি উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি পর্যায়ের সার্টিফিকেট প্রদান করে। 

প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফলে সরকারি বেতাগী ডিগ্রি কলেজ থেকে মোট ৭ হাজার ৪১১ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ৫ হাজার ৭৪৬ জন পাস এবং ১ হাজার ৬৬৫ জন অকৃতকার্য হন। এ সময়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৯২ জন। কলেজটির গড় পাসের হার প্রায় ৭৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

৩. সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ
বরিশাল শহরের কেন্দ্রস্থলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ। কলেজটি ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৮৬ সালে জাতীয়করণ করা হয়। মনোরম পরিবেশ, আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণাগার, কম্পিউটার ল্যাব, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, খেলার মাঠ ও ছাত্রাবাস প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। 

২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফলে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ থেকে মোট ১৫ হাজার ২০৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ হাজার ৩৬৯ জন পাস এবং ১ হাজার ৮৩৯ জন অকৃতকার্য হন। এ সময়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ১৬৩ জন। কলেজটির গড় পাসের হার প্রায় ৮৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।

৪. বরিশাল ক্যাডেট কলেজ
বরিশাল ক্যাডেট কলেজ বাংলাদেশের সপ্তম ক্যাডেট কলেজ। ১৯৮১ সালে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এর নাম ছিল বরিশাল রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ

২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৬টি প্রকাশিত ফলাফলে বরিশাল ক্যাডেট কলেজের মোট ৮০২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন এবং প্রত্যেকেই পাস করেন। অর্থাৎ এ সময়ে কলেজটির পাসের হার শতভাগ। তাঁদের মধ্যে ৭৪১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেন, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৯২ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

৫. অমৃতলাল দে মহাবিদ্যালয়
অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয় ১৯৯২ সালে অমৃত লাল দে' তার নিজ নামে 'কর্মই ধর্ম' স্লোগান নিয়ে বরিশাল নগরীর হাসপাতাল রোডে এক একর জমির উপর এ কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি শ্রেণীতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা - তিনটি শাখায় পাঠদান করা হয়। এর উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ও স্নাতক শিক্ষা কার্যক্রম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত।

২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফলে আমৃতলাল দে কলেজ থেকে মোট ১৪ হাজার ৩২০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ হাজার ৪৫৭ জন পাস এবং ৮৬৩ জন ফেল করেন। এ সময়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেন ২ হাজার ৭৭২ জন। কলেজটির গড় পাসের হার প্রায় ৯৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ, যা তালিকাভুক্ত কলেজগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।

৬. গুটিয়া আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজ
গুটিয়া আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজ ১৯৯৮ সনের ৯ জানুয়ারী তৎকালীন বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব জনাব মো. সিরাজ উদ্দিন আহমেদ এ কলেজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন। 

গুটিয়া আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৬ হাজার ৩২২ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ৫ হাজার ৫৭৩ জন পাস এবং ৭৪৯ জন ফেল করেন। জিপিএ-৫ অর্জন করেন ৪৫১ জন। এ সময়ে কলেজটির গড় পাসের হার প্রায় ৮৮ দশমিক ১৫ শতাংশ।

৭. ভোলা সরকারি কলেজ
দেশের বৃহত্তম দ্বীপ ভোলার অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের লক্ষ্যে তৎকালীন জেলা প্রশাসক জনাব আব্দুল আজীজ এবং কয়েকজন বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তির উদ্যোগে ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে একাদশ বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগ নিয়ে বেসরকারি রূপে ভোলা কলেজ যাত্রা শুরু করে। ১৯৭৯ সালের ৭ই মে কলেজটিকে জাতীয়করণ করা হয়।

ভোলা সরকারি কলেজ থেকে ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৬টি প্রকাশিত ফলাফলে মোট ৭ হাজার ৬৯৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ৬ হাজার ৭৩৯ জন উত্তীর্ণ এবং ৯৫৬ জন অকৃতকার্য হন। এ সময়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ১১০ জন। কলেজটির গড় পাসের হার প্রায় ৮৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

৮.পিরোজপুর সরকারি মহিলা কলেজ 
পিরোজপুর সরকারি মহিলা কলেজ একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কলেজটি ১৯৭৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৫ সালে বি.এ(পাস) কোর্স ও ২০১৩ সালে স্নাতক শ্রেনী খোলা হয়।

২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, পিরোজপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে মোট ৮ হাজার ২১৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ২৭৬ জন উত্তীর্ণ এবং ৯৩৯ জন অকৃতকার্য হন। এ সময়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেন ৮১৭ জন শিক্ষার্থী। দীর্ঘ সময়ের ফলাফলে কলেজটির গড় পাসের হার দাঁড়ায় প্রায় ৮৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

৯. সরকারি বরিশাল কলেজ
বরিশাল শহরের পরিচিত সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সরকারি বরিশাল কলেজ অন্যতম। সময়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিতে আধুনিক ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিবেশ গড়ে উঠেছে। একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমও কলেজটির শিক্ষাব্যবস্থার অংশ।

১০.বেগম রহিমা ইসলাম মহিলা কলেজ
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার শশীভূষণ এলাকায় অবস্থিত বেগম রহিমা ইসলাম কলেজ। এটি একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় এলাকার শিক্ষা প্রসারে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

২০১২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফলে বেগম রহিমা ইসলাম মহিলা কলেজ থেকে মোট ৪ হাজার ৮৪২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে ৪ হাজার ১৮২ জন পাস এবং ৬৬০ জন ফেল করেন। এ সময়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৫৬ জন। কলেজটির গড় পাসের হার প্রায় ৮৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

১১. মাহিলারা ডিগ্রি কলেজ
বরিশাল জেলার অন্তর্গত গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের মাহিলাড়াবাজারের কাছে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পশ্চিম পার্শ্বে কলেজের অবস্থান। ১৯৮৬ সালে মাহিলাড়া এলাকার নাম অনুসারে মাহিলাড়া মহাবিদ্যালয় নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন কলেজ ঘর টি টিন দিয়ে তৈরি ছিল। ১৯৯৯ সালে তৎকালীন জাতীয় সংসদের মাননীয় চীপ হুইপ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ হাল নিজ হাতে নেন। এবং কলেজটি কে স্নাতক স্তরে উপনীত করা সহ একাধীক ভবন নির্মান করেন। এরপর থেকে কলেজে শিক্ষার্থীদের গুণগত ফলাফল অর্জন করতে থাকে তারই ধারাবাহিকতায় কলেজটি আজ বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান। 

২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত ফলাফলে মাহিলারা ডিগ্রি কলেজ থেকে মোট ৮ হাজার ৪৭৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ৭ হাজার ৩০৭ জন পাস করেন এবং ১ হাজার ১৬৮ জন অকৃতকার্য হন। এ সময়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৮১ জন। কলেজটির এ সময়ের গড় পাসের হার প্রায় ৮৬ দশমিক ২২ শতাংশ।

১২. সরকারি পটুয়াখালী কলেজ
পটুয়াখালী সরকারী কলেজ বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার একটি শীর্ষস্থানীয় এবং ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৯৫৭ সালে পটুয়াখালী কলেজের যাত্রা শুরু হয়। সৈয়দ আহমেদ আলীকে পটুয়াখালী কলেজে প্রথম অধ্যক্ষ নিয়োগ করা হয়। উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার সুযোগের পাশাপাশি একাডেমিক কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলার জন্যও প্রতিষ্ঠানটির পরিচিতি রয়েছে।

১৩. পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ
পটুয়াখালী জেলার একটি শীর্ষস্থানীয় এবং ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এটি। ১৯৬৬ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে নারী শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রেখে আসছে। ছাত্রীদের উপযোগী শিক্ষার পরিবেশ, নিয়মিত পাঠদান এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম কলেজটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

১৪.  সরকারি বাকেরগঞ্জ কলেজ
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার অন্যতম পরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি বাকেরগঞ্জ কলেজ। উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কলেজটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কর্মকাণ্ডও পরিচালিত হয়। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় কলেজটির নাম রয়েছে।

১৫. সরকারি ব্রজমোহন কলেজ
১৮৮৯ সালে সমাজহিতৈষী নেতার হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো ব্রজমোহন কলেজ (বিএম কলেজ)। কীর্তনখোলা নদীর তীরে বরিশাল শহরের গর্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।

১৬. ভোলা সরকারি মহিলা কলেজ
ভোলা সরকারি মহিলা কলেজ বাংলাদেশের ভোলা জেলার ভোলা সদর উপজেলার অন্তর্গত একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজটি উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট, ডিগ্রি ও কিছু স্নাতক পর্যায়ের সার্টিফিকেট প্রদান করে।

১৭. সরকারি ফজলুল হক কলেজ
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখারে অবস্থিত সরকারি ফজলুল হক কলেজ দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শের-ই-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ১৯৪০ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। চাখারকে শিক্ষা ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে।  

১৮. বরগুনা সরকারি কলেজ 
বরগুনা সরকারি কলেজ বাংলাদেশের বরগুনা জেলার বরগুনা সদর উপজেলার অন্তর্গত একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত কলেজটি উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট দেওয়ার পাশাপাশি ডিগ্রি ও স্নাতক পর্যায়ের সার্টিফিকেটও দিয়ে থাকে।

১৯. সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজ
মাদারীপুর জেলার অন্যতম পুরোনো ও পরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৪৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৭৯ সালে জাতীয়করণ করা হয়। দীর্ঘ ইতিহাস ও শিক্ষা কার্যক্রমের কারণে কলেজটি মাদারীপুর জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

২০. আমতলী সরকারি কলেজ 
আমতলী সরকারি কলেজ ১৯৬৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।  এটি পূর্বে আমতলী ডিগ্রি কলেজ নামে পারিচিত ছিল। ১৯৭২ সালে বি.এ(পাস) কোর্স ও ২০০২ সালে স্নাতক শ্রেনী খোলা হয়। ১ জুলাই ১৯৬৯ তারিখে কলেজটিকে প্রথম এমপিওভুক্ত করা হয়। ২০১৬ সালে কলেজটিকে জাতীয়করণ করা হয়েছে। কলেজটিতে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিক এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক কোর্সের পাশাপাশি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিক এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কোর্সের পাঠদান করা হয়।

এছাড়াও বরিশাল বিভাগের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে আরও বেশ কিছু কলেজ। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি শাহবাজপুর কলেজ, ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজ, বাউফল কলেজসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার আরও অনেক ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব কলেজ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে অবদান রেখে চলেছে।

ভূমিকম্পে দুই শতাধিক মৃত্যু, ৩ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করল ক…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
৬ জেলায় রাতের মধ্যেই বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
অস্ট্রিয়ায় স্কলারশিপে স্নাতকোত্তরের সুযোগ নারী শিক্ষার্থী…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
ঝাড়খণ্ডে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বল প্রয়োগ
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
জুলাই শহীদ ডা. কবিরুলের কন্যা এসএসসি উত্তীর্ণ, শুভেচ্ছা জান…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
সাবেক ছাত্রদল নেতাকে পেটালেন ইউএনও, থামালেন এসিল্যান্ড
  • ১২ আগস্ট ২০২৬