সুপ্রিম কোর্ট © সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা নিয়ে আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) চূড়ান্ত আদেশ দেবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চে যমুনা ব্যাংকের করা একটি আপিল আবেদনের ওপর এই রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসলাম চৌধুরীর আইনজীবী মো. মজিবুর রহমান।
এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে ব্যাংকের করা আপিল আবেদনের ওপর দীর্ঘ শুনানি শেষ হয়। ঋণখেলাপির অভিযোগ থাকার পরও আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ব্যাংকের করা রিট হাইকোর্ট খারিজ করে দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে আপিল বিভাগে আবেদন জানায়।
আরও পড়ুন: বহিষ্কার হলেন নওগাঁ জেলা বিএনপির নেতা
নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির শেষ দিন গত ১৮ জানুয়ারি আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার সময় নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ তাকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ না করলে জনরোষ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, আসলাম চৌধুরীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তবে এই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আনোয়ার ছিদ্দিকের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির দাবি করেন যে, আসলাম চৌধুরী একজন দণ্ডিত ব্যক্তি এবং তার প্রার্থিতা বহাল রাখা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
আসলাম চৌধুরীর হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, তার সম্পদের তুলনায় ঋণের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি। তার মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা হলেও ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকায়, যা সম্পদের তুলনায় ২৪ দশমিক ২৫ গুণ বেশি। এর মধ্যে পাঁচটি ব্যাংক ও অন্যান্য খাতে নিজস্ব ঋণ ৩৫৪ কোটি টাকা এবং জামিনদার হিসেবে ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা ও পরিচালক হিসেবে ২৮৫ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। যদিও হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ঋণের বড় একটি অংশই তিনি জামিনদার ও পরিচালক হওয়ার সুবাদে পেয়েছেন। মজার বিষয় হলো, ঋণের বোঝা বেশি থাকলেও চট্টগ্রামের অন্যান্য প্রার্থীদের চেয়ে তার কাছে নগদ অর্থের পরিমাণও সবচেয়ে বেশি, যার পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি টাকা। আজকের এই আদেশের মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে যে আসলাম চৌধুরী নির্বাচনী মাঠে থাকতে পারবেন কি না।