ওয়াশরুমের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিপাকে তিতুমীরের নারী শিক্ষার্থীরা

১২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫১ PM
অপরিচ্ছন্ন ওয়াশরুম

অপরিচ্ছন্ন ওয়াশরুম © সংগৃহীত

সরকারি তিতুমীর কলেজের ওয়াশরুমগুলোয় দীর্ঘদিন ধরে অপরিচ্ছন্নতা, পানির সংকট, নষ্ট কল ও দরজা, সিটকিনি না থাকা, পর্যাপ্ত আলোর অভাব ও দুর্গন্ধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে পিরিয়ডের সময় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে গিয়ে বাড়তি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

সরেজমিন কলেজের কয়েকটি ওয়াশরুম ঘুরে দেখা যায়, কোথাও মেঝেতে জমে আছে ময়লা ও পানি, কোথাও ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গন্ধ। কয়েকটি ওয়াশরুমের দরজা, কল, পানির লাইন ও অন্যান্য সরঞ্জাম নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও আবার পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নেই। ফলে নিয়মিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে অস্বস্তিকর ও অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওয়াশরুমে পর্যাপ্ত পানি না থাকা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবস্থা না থাকায় পিরিয়ডের সময় তাদের বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয়। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ ওয়াশরুমের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মাসিক স্বাস্থ্যবিধির ব্যবস্থা থাকা জরুরি বলে মনে করেন তারা।

এদিকে কলেজের কয়েক হাজার নারী শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র একটি কমনরুম। ক্লাসের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়া, অপেক্ষা করা কিংবা অসুস্থতা বা পিরিয়ডের মাসিকের সময় কিছুক্ষণ স্বস্তিতে থাকার জন্য কমনরুমটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেখানে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা নেই। অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর কারণে অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে বসার জায়গাও পাওয়া যায় না।

কমনরুমের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত না হওয়ায় পরিবেশ নোংরা হয়ে পড়ে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। প্রয়োজনীয় আসবাব ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিও রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

আরও পড়ুন: জুলাই চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে ঢাবি শিক্ষকদের তালিকা করলো কারা?

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহমিদা মুনিয়া বলেন, ‘ক্লাসের ফাঁকে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার জন্য কমনরুমে আসি। কিন্তু পর্যাপ্ত বসার জায়গা না থাকায় এখানে সময় কাটানো অনেকটা কষ্টকর হয়ে পড়ে। এতজন নারী শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র একটি কমনরুম থাকা হতাশাজনক। অন্তত প্রতিটি বিল্ডিংয়ে একটি করে মেয়েদের কমনরুম থাকা প্রয়োজন।’

রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান মিতু বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়াশরুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এখানে ওয়াশরুম আছে ঠিকই, কিন্তু কোথাও সিটকিনি নেই, কোথাও পানি নেই, আবার অনেক সময় ওয়াশরুম পরিষ্কারও থাকে না। এছাড়া স্যানিটারি ন্যাপকিনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।’

এ বিষয়ে কমনরুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শাহানাজ পারভিন বলেন, ‘আমাদের কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। অধিক শিক্ষার্থী ব্যবহার করার ফলে মূলত ওয়াশরুমগুলো নোংরা হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলব, তারা যেন নিজ দায়িত্বে ওয়াশরুমে স্যান্ডেল ব্যবহার করে এবং পর্যাপ্ত পানি ব্যবহার করে। আর কোনো সরঞ্জামের প্রয়োজন হলে আমরা কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা ব্যবস্থা করে দেয়।’

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ছদরুদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মেয়েদের ওয়াশরুমের দায়িত্বে আমরা দুজন শিক্ষিকা ও দুজন শিক্ষককে উপদেষ্টা হিসেবে রেখেছি। এখানে ১৭০ জন কর্মচারী রয়েছে। প্রত্যেকে যদি নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে, তাহলে এসব সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরপর থেকে এ ধরনের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাবে। তিনি কোনো পদক্ষেপ না নিলে আমি ব্যবস্থা নেব।’

সারা দেশে দিন এলপিজি বিক্রি বন্ধের ঘোষণা
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬
বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করতে শাবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতির ‘স…
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬
কোহলির অবসরে তিক্ততার ইঙ্গিত, আলোচনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬
ইসলামী আন্দোলন নেতার আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬
এনটিআরসিএর নিয়োগ: দুই বিষয়ের বাংলা পরীক্ষা ১৫ নম্বরে
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬
বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে দুই সন্তানের জননীর অনশন
  • ১২ অক্টোবর ২০২৬