নিয়োগকালীন বিধি উপেক্ষা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অধিকার বঞ্চিত করা যাবে না: হাইকোর্ট

১০ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪২ PM
হাইকোর্ট

হাইকোর্ট © সংগৃহীত

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সময়কার বিধিমালা উপেক্ষা করে পরবর্তীতে জারি করা কোনো শর্ত বা বিধি প্রয়োগ করে শিক্ষক-কর্মচারীদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মো. আবু হানিফ ও অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য শীর্ষক মামলায় জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে গত ৩০ জুন বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি উর্মি রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। সোমবার (১০ আগস্ট) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। রায়ের মূল অংশ লিখেছেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি উর্মি রহমান।

মামলার পটভূমি

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রবিধান (রেগুলেশন ২০১৫) অনুসরণ করে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রোজি মোজাম্মেল মহিলা কলেজে অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান, ইংরেজি ও সমাজকল্যাণ বিভাগে প্রভাষক (তৃতীয় শিক্ষক) পদে মো. আবু হানিফসহ চারজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় এবং পরদিন ৩০ ডিসেম্বর তারা নিজ নিজ পদে যোগদান করেন।

পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১৯ এপ্রিল কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের এনটিআরসিএ পরিপত্র জারির আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত এবং ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) প্রকাশিত ৭২৬ জন শিক্ষকের তালিকায় এই চার শিক্ষকের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে অনলাইন প্রক্রিয়ায় তাদের এমপিও আবেদন ‘এনটিআরসিএ সনদ নেই’ এমন কারণ দেখিয়ে নামঞ্জুর করা হয়।

এরপর ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন চার শিক্ষক। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রুল জারি করেন।

নিয়োগকালীন বিধির প্রাধান্য

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, প্রশাসনিক প্রয়োজনে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ চাকরির বিধিমালা পরিবর্তন বা পরিমার্জন করতে পারে। তবে পরবর্তীতে করা এমন কোনো পরিবর্তন আগে থেকেই চাকরিতে যোগদানকারী কর্মচারীর অর্জিত অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে না।

আদালত বলেন, ২০১৫ সালে চার শিক্ষককে নিয়োগের সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় এনটিআরসিএ সনদের কোনো শর্ত ছিল না। ডিগ্রি (পাস) পর্যায়ের কলেজ শিক্ষকদের জন্য এনটিআরসিএ সনদের বাধ্যবাধকতা ২০১৯ সালের প্রবিধানে প্রথম যুক্ত হয়।

ফলে নিয়োগের সময় যে বিধিমালা কার্যকর ছিল, পরবর্তীতে জারি করা বিধিমালার শর্ত দেখিয়ে ওই শিক্ষকদের অধিকার খর্ব করা যায় না বলে মত দেন হাইকোর্ট।

রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে তৃতীয় শিক্ষক পদটি জনবল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত নয় বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে আদালত এ দাবিও গ্রহণ করেননি।

রায়ে আদালত বলেন, সরকার নিজেই একাধিক পরিপত্রের মাধ্যমে তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিও সুবিধার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে তৃতীয় শিক্ষক পদটি জনবল কাঠামোতে নেই এমন দাবির কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

এমপিও যত সিদ্ধান্ত

রায়ে হাইকোর্ট আরও বলেন, এমপিও মঞ্জুর করা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত যদি যুক্তিসঙ্গত আইনগত ভিত্তি ছাড়া খেয়ালখুশিমতো বা স্বেচ্ছাচারীভাবে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে তা সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে বিচারযোগ্য বিষয় হতে পারে।

আদালত মনে করেন, নিয়োগের সময় কোনো শর্ত না থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীতে জারি করা বিধির ভিত্তিতে চার শিক্ষকের এমপিও আবেদন বাতিল করা আইনসঙ্গত হয়নি।

চূড়ান্ত রায়ে হাইকোর্ট এনটিআরসিএ সনদ না থাকার অজুহাতে চার প্রভাষকের এমপিও আবেদন প্রত্যাখ্যানের অনলাইন সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে রিটকারী চার শিক্ষকের নাম এমপিও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে প্রযোজ্য সব বকেয়াসহ আর্থিক সুবিধা চার রিটকারীকে পরিশোধ করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রিটকারীদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আতাউর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম অলি ও মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান।

এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণ কীভাবে, নতুন নিয়ম জানাল বোর্ড
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
৩১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে চার প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ট্রাম্প ‘হেরে গেছেন’: মার্কিন সিনেটর মা…
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে বম্বে সুইটস, আবেদন ৭ সেপ্টেম্বর পর্য…
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
মেধার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা হয়েছে: উপদেষ্টা মাহ্দী …
  • ১০ আগস্ট ২০২৬