আবু সাঈদ ও মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম © সংগৃহীত
আজ (১৬ জুলাই) জুলাই শহীদ দিবস। ২০২৪ সালের এই দিনে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তার মৃত্যু দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয় এবং আন্দোলন নতুন মোড় নেয়।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে উত্তাল ছিল দেশ। বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতও ছড়িয়ে পড়ে। রংপুরে আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ।
নিরস্ত্র অবস্থায় বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের সেই দৃশ্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার আগে তার দাঁড়িয়ে থাকার ছবি আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়। সেই সময় আন্দোলনকারীদের মুখে উচ্চারিত হয়, 'বুকের ভেতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর।'
আবু সাঈদের মৃত্যুর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। একই দিনে চট্টগ্রামে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন কলেজশিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় আরও কয়েকজন প্রাণ হারান। একদিনে ছয়জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন নতুন গতি পায় এবং তা দ্রুত সারা দেশে বিস্তৃত হয়। সেদিন বিভিন্ন এলাকায় গুলিতে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এরপর কোটা সংস্কার আন্দোলন ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়।
আরও পড়ুন : এক দশক লুকিয়ে থাকার পর মিলল নতুন গ্রহ
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে ১৯৮৭ সালে তৎকালীন এরশাদবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত নূর হোসেনের ঘটনা যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, তেমনি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আবু সাঈদের মৃত্যুকেও অনেকে সেই ধারাবাহিকতার একটি স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে দেখেন। তাঁর মৃত্যু আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করেছিল বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা এখনও স্বজন হারানোর বেদনা বহন করছেন। তাদের প্রত্যাশা, শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন হবে এবং বিচার, জবাবদিহি ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।