কেয়ামতের দিন যাদের সঙ্গে আল্লাহ কথা বলবেন না

১০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৭ AM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো/এআই

ইসলামী আকিদা অনুযায়ী ঈমানের পূর্বশর্ত কেয়ামত দিবসে বিশ্বাস। সেই দিনে সমগ্র মানবজাতি মহান আল্লাহর দরবারে হাশরের ময়দানে একত্রিত হবে যেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষ নিজের আপনজনকেও ভুলে যাবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, মানুষ সেদিন নিজের সন্তান, পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজন থেকে পালিয়ে বেড়াবে (সুরা আবাসা ৩৪–৩৭)। এমন ভয়াবহ দিন যেদিন আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ একমাত্র কামনা করবে মানুষ। তবে রাসূল (সা.) কিছু মানুষের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন যাদের সঙ্গে আল্লাহ কেয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না।

সহিহ মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ একাধিক হাদিসগ্রন্থে এসেছে হজরত আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন: ’তিন ব্যক্তির সঙ্গে কেয়ামতের দিন আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না; বরং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’

১. টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী ব্যক্তি: হাদিসে এসেছে, ওই ব্যক্তির দিকে আল্লাহ দৃষ্টি দিবেন না এমনকি তাকে পবিত্রও করবেন না যে ব্যক্তি টাকনুর নিচে কাপড় পরিধান করে।  আরেক হাদিসে বলা হয়েছে, ’লুঙ্গির যে অংশ টাখনুর নিচে থাকবে, তা আগুনে ঝলবে। (সহিহ বুখারি)

ইসলামিক স্কলার শায়েখ আহমাদুল্লাহ বলেন, যেসব কাপড় উপর থেকে নিচের দিকে আসে যেমন লুঙ্গি, প্যান্ট, পাজামা ইত্যাদি এসব কাপড় টাকনুর নিচে পরিধানকারী ব্যক্তির সাথে আল্লাহ কথা বলবেন না। 

২. মিথ্যাবাদী বিক্রেতা: যে ব্যক্তি ব্যবসার স্বার্থে মিথ্যা শপথ করে, সে শুধু প্রতারণাই করে না, বরং আল্লাহর নামে মিথ্যা বলে। রাসুল (সা.) বলেন, মিথ্যা শপথ করে পণ্য বিক্রি করায় সাহায্য করলেও তা বরকত নষ্ট করে দেয়।’ (সহিহ মুসলিম)

এ ধরনের ব্যবসায়ীর জন্য কেয়ামতের দিনে কঠোর শাস্তির কথা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। এবিষয়ে শায়েখ আহমাদুল্লাহ বলেন, ওই ব্যবসায়ীর দিকে আল্লাহ নজর দিবেন না যে তার পণ্য বিক্রির জন্য মিথ্যা শপথ করে। 

৩. দান করে খোঁটা দেওয়া ব্যক্তি: যে ব্যক্তি কাউকে সাহায্য বা দান করে পরে তা নিয়ে অপমান বা খোঁটা দেয়, তার আমল নষ্ট হয়ে যায়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, ’হে ঈমানদারগণ! তোমরা খোঁটা ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের দান-সদকা নষ্ট করো না।’ (সুরা বাকারা ২৬৪)

এ ধরনের আচরণ মানবিকতা ও ইখলাসের পরিপন্থী, যা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত অপছন্দনীয়। এমন ব্যক্তিকে আল্লাহ কেয়ামত দিবসে পবিত্র করবেন না।

‘আল্লাহ কথা বলবেন না’-এর তাৎপর্য: ইসলামী ব্যাখ্যা অনুযায়ী এর অর্থ আল্লাহর বিশেষ রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়া, সম্মান ও মর্যাদা হারানো, গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়ার সুযোগ না পাওয়া (তওবা ছাড়া), কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হওয়া ইত্যাদি। এর সবই আখিরাতের সবচেয়ে ভয়াবহ বঞ্চনাগুলোর একটি।

যশোরে এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক
  • ৩০ এপ্রিল ২০২৬
বিশেষ সংকেত দিয়ে ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি, সাবেক এফবিআই পরিচা…
  • ৩০ এপ্রিল ২০২৬
সরকারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বিরোধীদল বিরোধীতা করবে না : না…
  • ৩০ এপ্রিল ২০২৬
অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধের নোটিশ, একদিন পর প্রত্য…
  • ৩০ এপ্রিল ২০২৬
বিরোধী দলের আপত্তি থাকলেও কণ্ঠভোটে দুই বিল পাস
  • ৩০ এপ্রিল ২০২৬
খালেদা জিয়া, প্রধানমন্ত্রীর ছবি টাঙিয়ে অশ্লীল নৃত্য হলে ব্য…
  • ৩০ এপ্রিল ২০২৬