প্রতীকী ছবি © টিডিসি সম্পাদিত
দেশের ১৬টি নিবন্ধিত ইন্ডাস্ট্রি স্কিল কাউন্সিলের (আইএসসি) মধ্যে বর্তমানে ছয়টিতেই পরিচালনা পর্ষদ নেই। এতে এসব খাত থেকে জনবল চাহিদা না আসায় নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন ও নতুন কোনো প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে না। তবে এসব খাতে পুরোনো কারিকুলামে কিছু প্রশিক্ষণ পরিচালিত হলেও প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের চাকরির সঙ্গে যুক্ত করার যে ভূমিকা আইএসসির থাকার কথা, তাও বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলে জানিয়েছে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)।
এনএসডিএ'র নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সচিব ড. নাজনীন কাওসার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে চৌধুরী বলেন, দেশের দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে শিল্পখাতের চাহিদার ওপর নির্ভরশীল। প্রথমে সংশ্লিষ্ট আইএসসি নিজ নিজ খাতে কী ধরনের দক্ষ জনবল প্রয়োজন, তার চাহিদা নির্ধারণ করে এনএসডিএর কাছে পাঠায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রশিক্ষণের কারিকুলাম তৈরি হয় এবং স্কিলস ট্রেনিং প্রোভাইডারদের (এসটিপি) মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়। প্রশিক্ষণ শেষে এনএসডিএ কর্তৃক জাতীয় দক্ষতা সনদ প্রদান করা হয়। এই সনদপ্রাপ্তদের চাকরিতে যুক্ত করার দায়িত্বও থাকে সংশ্লিষ্ট আইএসসির।
তবে বর্তমানে ছয়টি আইএসসি কার্যত নিষ্কৃয় থাকায় এসব খাত থেকে কোনো জনবল চাহিদাপত্রই এনএসডিএর কাছে জমা পড়ছে না। ফলে এসব খাতের জন্য নতুন কারিকুলাম তৈরি হচ্ছে না, প্রশিক্ষণও পরিচালিত হচ্ছে না। একই সঙ্গে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আওতায় কর্মসংস্থানের যে সংযোগ তৈরির কথা, তাও হচ্ছে না।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অনেক আইএসসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং বেশ কয়েকটি পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে পড়ে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সব আইএসসিকে দ্রুত পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের নির্দেশ দেন। তবে এখন পর্যন্ত ১৬টির মধ্যে মাত্র ১০টির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন সম্ভব হয়েছে—নাজনীন কাওসার চৌধুরী, নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সচিব, এনএসডিএ
এসব আইএসসি অকার্যকর থাকার কারণ হিসেবে নাজনীন কাওসার চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অনেক আইএসসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং বেশ কয়েকটি পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে পড়ে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সব আইএসসিকে দ্রুত পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের নির্দেশ দেন। তবে এখন পর্যন্ত ১৬টির মধ্যে মাত্র ১০টির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন সম্ভব হয়েছে।
এনএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পুনর্গঠিত আইএসসিগুলো হলো—আইসিটি (৩০ আগস্ট ২০২৫), অ্যাগ্রো-ফুড(৩০ এপ্রিল ২০২৫) , ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি (১৯ এপ্রিল ২০২৬), কনস্ট্রাকশন (২ জুন ২০২৫), লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং (৪ এপ্রিল ২০২৬), ফার্নিচার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫), সিরামিক (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫), অ্যাগ্রিকালচার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫), প্লাস্টিকস (৮ জানুয়ারি ২০২৬) এবং ইনফরমাল সেক্টর (১৯ এপ্রিল ২০২৬)।
অন্যদিকে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ক্রিয়েটিভ মিডিয়া, পাট, ওষুধশিল্প এবং লজিস্টিকস আইএসসি এখনও নিষ্ক্রিয় রয়েছে।
এনএসডিএ জানায়, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ক্রিয়েটিভ মিডিয়া, পাট এবং ওষুধশিল্প খাতের নিজস্ব উদ্যোগে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন না হওয়ায় এগুলো অকার্যকর রয়েছে। আর লজিস্টিকস আইএসসির নিবন্ধন এখনও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ওই কাউন্সিলের পরিচালনা পর্ষদের পাঁচ সদস্য ঋণখেলাপির মামলার সঙ্গে যুক্ত। তাই তাদের অপসারণ করে গঠনতন্ত্র সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণের বিষয়ে ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য পণ্য ও বাজার—উভয় ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য আনা জরুরি। এর জন্য আধুনিক প্রযুক্তি এবং তা পরিচালনায় সক্ষম দক্ষ জনবল প্রয়োজন।
তিনি বলেন, চামড়া, পাট ও ফার্নিচারের মতো যেসব খাতে রপ্তানি বহুমুখীকরণের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব খাতেই দক্ষ জনবলের চাহিদা সবচেয়ে কম।
উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতে বর্তমানে মাত্র সাতটি করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) উদ্যোগ সক্রিয় রয়েছে এবং ২০১৯ সালের পর এ খাতে কার্যত নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, বেসরকারি খাত যদি তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা যথাযথভাবে পালন না করে, তাহলে দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার চাহিদা অংশই সক্রিয় হবে না। আর চাহিদা না থাকলে সরবরাহ ব্যবস্থাও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে না। শুধু দক্ষ জনবলের সংকটের জন্য সরকারকে দায়ী করলে সমস্যার সমাধান হবে না; বেসরকারি খাতকেও দক্ষ জনবল গড়ে তোলার উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।