স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনকালে অনুপস্থিতি-বিলম্ব
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতাল © সংগৃহীত
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের পরিদর্শনকালে বিলম্বে উপস্থিতির জন্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (এনআইএমএইচ) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান ও উপ-পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলীকে সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে বিলম্বে উপস্থিতি ও পরিদর্শনের দিন অনুপস্থিতির জন্য আরও ৫৫ জন চিকিৎসককে সতর্ক করা হয়েছে।
গত ১৯ থেকে ২৫ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের শৃঙ্খলা অনুবিভাগ থেকে সিনিয়র সহকারী সচিব সাদিয়া আফরিন স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের এই সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। সতর্কবার্তা পাওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে ৪৯ জন বিলম্ব এবং ৮ জনকে অনুপস্থিতির কারণে সতর্ক করা হয়েছে। পুনরাবৃত্তি হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।
জানা গেছে, চলতি বছরের ৮ মার্চ সকাল ৯টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হঠাৎ হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা হাসপাতালে অবস্থান করেন তারা। ওই দিন এসব কর্মকর্তা বিলম্বে উপস্থিত হন। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের রোগীদের বিছানায় ছারপোকা, ডাক্তারদের সময়মত উপস্থিতি না হওয়া ও খাবারের মানসহ নানা অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ওই সময় প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছিলেন, দেশের সর্বোচ্চ মানসিক হাসপাতাল হওয়ার পরও লিডারশিপ সঙ্কট আছে এখানে। অব্যবস্থাপনা আছে। দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য বলেছি। স্বাস্থ্য খাতে নানান চ্যালেঞ্জ থাকলেও কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনায় ছাড় না দেওয়ার কথা জানান তিনি।
এ ঘটনায় বিলম্বে উপস্থিতির কারণে সতর্কবার্তা পাওয়া অপর চিকিৎসকরা হলেন—সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. ফারজানা ওমর তানজু, ডা. সামিয়া তাসমীন আনিকা, ডা. শাফেয়ী আলম, সহকারী অধ্যাপক ডা. নাদিয়া আফরোজ, মেডিকেল অফিসার ডা. নিশাত আনজুম, মেডিকেল অফিসার (ল্যাব মেডিসিন) ডা. সিফাত-ই-মাহবুব, এমডি রেসিডেন্ট ডা. সাফায়েত হোসাইন মীর, ডা. ওয়াহিদা আক্তার, এমডি রেসিডেন্ট (সাইকিয়াট্রি) ডা. সিফাত বিনতে আলমগীর, মেডিকেল অফিসার ডা. সুমাইয়া বিনতে জলিল, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডা. মো. সোলায়মান হোসেন, রেসিডেন্ট (সাইকিয়াট্রি) ডা. জেবুন নাহার, সহকারী অধ্যাপক (অ্যাডাল্ট সাইকিয়াট্রি) ডা. মোহাম্মদ জোবায়ের মিয়া, সহযোগী অধ্যাপক (ফরেনসিক সাইকিয়াট্রি) ডা. মোহাম্মদ মুনতাসীর মারুফ, সহকারী রেজিস্ট্রার (সাইকিয়াট্রি) ডা. মোহাম্মদ শাহাদত হোসাইন, সহকারী অধ্যাপক (চাইল্ড অ্যাডলসেন্ট অ্যান্ড ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রি বিভাগ) ডা. সাদিয়া আফরিন, সহকারী রেজিস্ট্রার (সাইকিয়াট্রি) ডা. গোলাম মোস্তফা, সহযোগী অধ্যাপক (সাইকিয়াট্রি) ডা. জিনাত তে লায়লা, অধ্যাপক (অ্যাডাল্ট সাইকিয়াট্রি) ডা. মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, সহকারী অধ্যাপক (ফিজিওলজি) ডা. তানিয়া আলম, সহযোগী অধ্যাপক (অ্যানাটমি) ডা. তাহমিনা ইসলাম, রেজিস্ট্রার (সাইকিয়াট্রি) ডা. মাহফুজা ইয়াসমিন, রেজিস্ট্রার ডা. শারমিন সুলতানা, সিনিয়র অকুপেশনাল থেরাপিস্ট ডা. মো. আবদুল্লাহ, সহকারী অধ্যাপক (রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং) ডা. ফারজনা আক্তার, সহকারী অধ্যাপক ডা. শাফিয়া খানম, এফসিপিএস ট্রেইনি ডা. মোহসেনা রহমান, মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিয়া শারমিন, সিনিয়র ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডা. মো. তৈয়বুর রহমান, রেজিস্ট্রার (সাইকিয়াট্রি) ডা. মোসা. রাবেয়া, সহকারী রেজিস্ট্রার (সাইকিয়াট্রি) ডা. মোহতাশাম হাসান, সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শুব্ধদেব সরকার, ডা. মো. আসিফ-আল-নাঈম, সহকারী অধ্যাপক (চাইল্ড, অ্যাডলোসেন্ট অ্যান্ড ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রি) ডা. মুহাম্মদ শিবলি সাদিক, সহকারী অধ্যাপক (রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং) ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ সাজ্জাদ জালাল, সাইকিয়াট্রি সোশ্যাল ওয়ার্কার ডা. মো. জামাল হোসেন, রেডিসেন্ট (সাইকিয়াট্রি) ডা. রেবেকা ইয়াসমিন, মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা রহমান, রেসিডেন্ট (সাইকিয়াট্রি) ডা. কনক চন্দ্র রায়, রেসিডেন্ট ডা. জয়দীপ গোস্বামী, রেসিডেন্ট (সাইকিয়াট্রি) ডা. সাদিয়া সুলতানা, মেডিকেল অফিসার ডা. আফরোজা আক্তার, ডা. সাকিলা রহমান, আউটডোর মেডিকেল অফিসার ডা. চ্যোচ্যো ন্যান্সি, সহকারী অধ্যাপক ডা. আফরোজা রহমান লোপা এবং ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. রহিমা ফেরদৌস।
ঘটনার দিন অনুপস্থিতির কারণে সতর্কবার্তা পাওয়া ৮ চিকিৎসক হলেন—রেজিস্ট্রার (সাইকিয়াট্রি) ডা. ফাতেমা তুজ জোহরা জ্যোতি, ওএসডি ডা. সানজিদা আক্তার, ডা. আবদুল কাদের, ডা. আসাদুল বারী চৌধুরী অমি, ডা. রাহাত ফাহমিদা আলম, ডা. সৌরভ হোসেন,ডা. তানজিলা রহমান যুথী, ডা. সুতপা বনিক।
মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ৮ মার্চ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় আপনি বিলম্বে উপস্থিত হন/উপস্থিত হননি। এতে প্রত্যাশিত স্বাস্থ্য সেবা বিঘ্নিত হয়েছে বিধায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুসারে অসদাচরণের সামিল। প্রথমবার অপরাধ বিবেচনায় আপনাকে নির্দেশক্রমে সতর্ক করা হলো। ভবিষ্যতে এ ধরণের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে আপনার বিরুদ্ধে বিধি-মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।