ডা. হোসেন ইমাম © সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার আলোচিত চিকিৎসক ডা. হোসেন ইমামের বিরুদ্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশের পর এবার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক অভিযোগনামায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে সই করেছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
ডা. হোসেন ইমাম কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও)। সরকারি কর্মচারী হয়েও নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ায় গত ১১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি তাকে শোকজ করে।
এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ১৬ থেকে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে সিভিল সার্জন অফিসের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ মতে, ২৪ অক্টোবর সিভিল সার্জন অফিসের অধীন ১১৭টি পদে নিয়োগ পরীক্ষার আগের রাতে, নিয়োগ কমিটির ৩ সদস্যকে অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করে প্রশ্ন বাইরে নেন ডা. হোসেন ইমাম ও তার ভাই উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) হাসান ইমাম। এরপর তারা নিজেদের মালিকানাধীন নিউ সান ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বাড়িতে পরীক্ষার্থীদের নিয়ে যান। সেখানে জনপ্রতি ১৩ থেকে ১৬ লাখ টাকা নিয়ে গোপনে তাদের প্রস্তুতির ব্যবস্থা করা হয়।
এ ঘটনায় ওই সময়ই হোসেন ইমামের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা হয়। পরে দুদক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তদন্তে নেমে অপকর্মের প্রমাণ পায় বলে কর্মকর্তারা জানান।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় মামলার অভিযোগনামায় বলা হয়েছে, আপনার বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ১১-২০ গ্রেডের শূন্য পদসমূহে জনবল নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে অন্যায়ভাবে লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় এবং এই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। আপনার এসব কার্যকলাপ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ২(খ) মোতাবেক অসদাচরণ হিসেবে গণ্য।
এতে আরও বলা হয়, আপনাকে বিধি মোতাবেক অসদাচরণের জন্য দায়ী সাব্যস্ত করা হলে কেন এক বা একাধিক গুরুতর দণ্ড বিধিমালার অধীনে চাকরি হতে বরখাস্তকরণ অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না, সে বিষয়ে এ নোটিশ প্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।