গরমে রক্তচাপ ওঠানামা: কারণ, নিয়ন্ত্রণ ও করণীয় জানালেন চিকিৎসক

০৫ জুন ২০২৬, ০১:৫৪ PM , আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬, ০২:১৪ PM
তীব্র গরমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সতর্কতা

তীব্র গরমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সতর্কতা © এআই সৃষ্ট ছবি

গরমের সময় অনেকের রক্তচাপ স্বাভাবিকের তুলনায় ওঠানামা করছে। কারও ক্ষেত্রে হঠাৎ বেড়ে যাচ্ছে, আবার কারও ক্ষেত্রে কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাদের মধ্যে এই পরিবর্তন আরও বেশি দেখা যায়। গরম আবহাওয়ায় শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম বের হওয়া, পানি ও লবণের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে রক্তচাপের ওপর প্রভাব ফেলে।

রক্তচাপ কেন বাড়ে

গরমে রক্তচাপ বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ আছে, তারা ঠিকমতো ওষুধ গ্রহণ না করলে বা নিয়ম না মানলে তাদের ব্লাড প্রেসার আগের তুলনায় বেড়ে যেতে পারে। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত গরমে রক্তচাপ বাড়তে পারে। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ডিহাইড্রেশন বা পানি শূন্যতা। গরমে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যায়, ফলে রক্তের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এছাড়া হিট স্ট্রেস, শরীরে ইলেকট্রোলাইট ইমব্যালেন্স বা লবণের ঘাটতি, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, কিডনি রোগ ও হৃদরোগও রক্তচাপ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

‘যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তারা নিয়মিত ওষুধ সেবন না করলে বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী না চললে তাদের রক্তচাপ আরও বাড়তে পারে। তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত গরমে রক্তচাপ বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা এ ক্ষেত্রে অন্যতম কারণ। গরমে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যাওয়ার ফলে এ সমস্যা দেখা দেয়।—ডা. রিনীতা ব্যানার্জী, সহকারী অধ্যাপক, বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দিনাজপুর

রক্তচাপ বেড়েছে বুঝবেন যেভাবে

অনেকের ক্ষেত্রে কোনো উপসর্গ না থাকলেও কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড় করা, শ্বাসকষ্ট অনুভব করা, ঝাপসা দেখা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, নাক দিয়ে রক্ত পড়া (কিছু ক্ষেত্রে), তবে এসব লক্ষণ না থাকলেও রক্তচাপ বেশি থাকতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

আরও পড়ুন : ঢাকা দক্ষিণের ৬৩ ওয়ার্ড ডেঙ্গু ঝুঁকিতে, চরম ঝুঁকিপূর্ণ ২৭টি

রক্তচাপ বেড়ে গেলে কী করা উচিত—রক্তচাপ বেড়ে গেলে প্রথমেই রোগীকে গরম পরিবেশ থেকে সরিয়ে ঠান্ডা জায়গায় রাখতে হবে। তাকে বিশ্রাম দিতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি খাওয়াতে হবে।অনেক সময় বিশ্রাম ও ঘুমের মাধ্যমে অবস্থার উন্নতি হয়। তবে এরপরও যদি রক্তচাপ না কমে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কোন খাবার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে— রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তেল-চর্বিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এর পরিবর্তে ফ্রেশ ভেজিটেবলস, ফলমূল এবং পর্যাপ্ত পানি খেতে হবে। ভাত, রুটি, শর্করা ও চর্বিজাতীয় খাবার কমিয়ে আনা ভালো।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার দৈনন্দিন উপায়—লবণ কম খাওয়া, প্রতিদিন ৩০–৪০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম, নিয়মিত ঘুম ও বিশ্রাম, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, অতিরিক্ত গরম এড়িয়ে চলা, মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা, নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা, ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য এড়িয়ে চলা। 

বিশেষ সতর্কতা—রক্তচাপের ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ করা যাবে না, হঠাৎ মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড় বা অস্বস্তি হলে অবহেলা করা যাবে না, শরীরকে পানিশূন্য হতে দেওয়া যাবে না, দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

আরও পড়ুন : মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ শিশুর অস্ত্রোপচার করা সেই অধ্যাপককে সরিয়ে প্রধান হলেন ৮ ব্যাচ জুনিয়র ড্যাব নেতা

এ বিষয়ে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী অধ্যাপক (প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ) ডা. রিনীতা ব্যানার্জী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তারা নিয়মিত ওষুধ সেবন না করলে বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী না চললে তাদের রক্তচাপ আরও বাড়তে পারে। তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত গরমে রক্তচাপ বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা এ ক্ষেত্রে অন্যতম কারণ। গরমে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যাওয়ার ফলে এ সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া হিট স্ট্রোক, শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা, লবণের ঘাটতি, উদ্বেগ, মানসিক চাপ, কিডনি রোগ ও হৃদরোগও রক্তচাপ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘রক্তচাপ বেড়ে গেলে প্রথমেই আক্রান্ত ব্যক্তিকে গরম পরিবেশ থেকে সরিয়ে ঠান্ডা স্থানে নিতে হবে। এরপর তাকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করাতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্রাম বা কিছুটা ঘুম শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সহায়তা করে। তবে এরপরও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না এলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।’

খাদ্যাভ্যাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। খাদ্যতালিকায় বেশি করে তাজা শাকসবজি, ফলমূল ও পর্যাপ্ত পানি রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভাত, রুটি, অতিরিক্ত শর্করা ও চর্বিযুক্ত খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।’

প্রসঙ্গত, বিশ্বজুড়ে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ উচ্চ রক্তচাপ। তবে সুখবর হলো, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল জেতে না বিশ্বকাপ, আর্জেন্টিনা ক…
  • ০৫ জুন ২০২৬
‘হঠাৎ দেখি ব্রেক ফেল, মুহূর্তেই নদীতে বাস’
  • ০৫ জুন ২০২৬
হাদি হত্যায় মামলার বাদী জাবের কেন? আপত্তি তুললেন বোন মাসুমা…
  • ০৫ জুন ২০২৬
বিএনপির বিরুদ্ধে অতীতে বিষাদগার করিনি, দাবি রাশেদের
  • ০৫ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপ ফুটবল দেখা যাবে বাংলাদেশের যেসব চ্যানেলে
  • ০৫ জুন ২০২৬
আজ ছায়া বাজেট উপস্থাপন করবে এনসিপি
  • ০৫ জুন ২০২৬