আইসিডিডিআর,বি © সংগৃহীত
দেশে স্বাস্থ্য ও জীববিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)। বিশ্বখ্যাত স্প্রিঞ্জার নেচারের ‘নেচার ইনডেক্স’-এর সর্বশেষ হালনাগাদকৃত তালিকায় এই তথ্য উঠে এসেছে। এতে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর), বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) মতো প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও স্থান পেয়েছে।
জানা গেছে, গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মাত্র ১৪৫টি অত্যন্ত উচ্চমানের এবং মর্যাদাপূর্ণ পিওর সায়েন্স ও মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র ও বিজ্ঞানীদের অবদানের ওপর ভিত্তি করে এই সূচক বা র্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে। নেচার ইনডেক্সের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো একটি গবেষণাপত্রে একাধিক দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা গবেষক যুক্ত থাকলে সেই আর্টিকেলের মোট ক্রেডিট লেখকদের অবদান অনুযায়ী ভগ্নাংশে ভাগ হয়ে যায়, যাকে ‘শেয়ার স্কোর’ বলা হয়। এই শেয়ার স্কোরের ওপর ভিত্তি করেই মূলত চূড়ান্ত র্যাংকিং বা পজিশন নির্ধারিত হয়।
গবেষণাভিত্তিক এই তালিকায় বাংলাদেশের মোট ৫১টি প্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণাক্ষেত্রের পাশাপাশি খাত হিসেবেও কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এনজিও খাতের প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইসিডিডিআর,বি স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান— ৫টির মধ্যে এই চারটি বিষয়ের ওপরই অবদান রেখেছে। সার্বিকভাবে আইসিডিডিআর,বির গবেষণাপত্রের সংখ্যা (কাউন্ট) ৩৭টি। প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ার স্কোর ৬.৩৯। এর মধ্যে জীববিজ্ঞান বিষয়ক ১৫টি গবেষণাপত্রে ২.৩১, রসায়নের একটিতে ০.০৪, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞানের তিনটিতে ১.০০ এবং স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের ২৮টিতে ৪.০৫ শেয়ার স্কোর পেয়েছে। এ নিয়ে বিশ্বে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান এক হাজার ৪৩৬।
সরকারি প্রতিষ্ঠান
সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে জীববিজ্ঞান, রসায়ন, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান এবং স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিষয়ক একটি গবেষণাপত্র স্থান পেয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ার স্কোর ০.১৫। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি গবেষণাপত্র দিয়ে ০.০৯ শেয়ার স্কোর এই তালিকায় রয়েছে। তবে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম) একটি গবেষণাপত্র নিয়ে এই তালিকায় থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির কোনো শেয়ার স্কোর নেই।
গবেষণায় বেহালপ্রায় একাডেমিক খাত
তালিকার ক্ষেত্রে দেশের ৩৪টি একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণাপ্রবন্ধ স্থান পেয়েছে ২৭টি প্রতিষ্ঠানের। এর মধ্যে একমাত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) রয়েছে ষষ্ঠ অবস্থানে। প্রতিষ্ঠানটি ৪টি গবেষণাপত্র নিয়ে শেয়ার স্কোর অর্জন করেছে ০.১৩। এই তালিকায় বেসরকারি হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ এবং তাইরুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল একটি করে প্রবন্ধ নিয়ে ০.০০ শেয়ার স্কোর পেয়ে যথাক্রমে ২৫ ও ৩৪ অবস্থানে রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতের হালচাল
স্বাস্থ্যসেবা খাতের ১০টি প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় রয়েছে। এর শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটির গবেষকদের একটি আন্তর্জাতিকমানের গবেষণাপত্র এই তালিকায় স্থান পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে সামগ্রিক তালিকায় এই প্রতিষ্ঠানটি ৬ হাজার ৪৫ ও স্বাস্থ্যসেবায় এক হাজার ৭৯৬-এ স্থান পেয়েছে। আর বাংলাদেশে এটি স্বাস্থ্যসেবায় প্রথম হলেও সামগ্রিকভাবে ১৪তম প্রতিষ্ঠান।
তালিকায় ০.০৬ শেয়ার স্কোর নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং লুথেরান এইড টু মেডিসিন ইন বাংলাদেশ (ল্যাম্ব)। তবে গবেষণাপত্রের সংখ্যার (Count) দিক থেকে ২টির অবদানের কারণে ল্যাম্ব এগিয়ে থাকলেও যৌথ অংশীদারিত্বের ভগ্নাংশ বা শেয়ার স্কোরের সমতার কারণে তারা যৌথ অবস্থানে রয়েছে।
শীর্ষ ১০-এর তালিকায় থাকা বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— শেয়ার স্কোর ০.০৩ নিয়ে ৪র্থ স্থানে জাতীয় হৃদরোগ ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট, শেয়ার স্কোর ০.০২ নিয়ে ৫ম স্থানে যৌথভাবে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল এবং মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার, শেয়ার স্কোর ০.০৩ নিয়ে ৬ষ্ঠ স্থানে ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ অ্যান্ড শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন হাসপাতাল, শেয়ার স্কোর ০.০২ নিয়ে ৭ম স্থানে আজগর আলী হাসপাতাল, শেয়ার স্কোর ০.০২ নিয়ে ৮ম স্থানে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস) এবং শেয়ার স্কোর ০.০২ নিয়ে ৯ম ও ১০ম স্থানে যথাক্রমে নিউরোজেন হেলথকেয়ার এবং তাইরুন্নেসা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
জীববিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা দেখতে এখানে ক্লিক করুন
স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা দেখতে এখানে ক্লিক করুন