চিকিৎসক মারুফুর রহমান অপু
কানাডা প্রবাসী চিকিৎসক ও গবেষক ডা. মো. মারুফুর রহমান অপু © টিডিসি সম্পাদিত
কানাডা প্রবাসী চিকিৎসক ও গবেষক ডা. মো. মারুফুর রহমান অপু বলেছেন, ‘টিকাবিভাগের নিজস্ব অফিশিয়াল হিসাব অনুযায়ী হামের টিকাসহ অন্যান্য টিকা সম্পন্নের হার ৮০-৯০ শতাংশের আশেপাশে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুসারে আরও বেশি (৯৩ শতাংশ), কেননা সরকারি হিসাবে অনেক সময় তথ্য ইনকমপ্লিট থাকে। সুতরাং মন্ত্রীর কথা মোটেও সত্য নয়। তাহলে এমন অপতথ্য দিয়ে তার মুখ থেকে পূর্বেকার মন্ত্রীদের মতো অসংলগ্ন হাস্যকর কথা কে বের করাল?’
রবিবার (২৯ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে মারুফুর রহমান অপু লিখেছেন, ‘হাম নিয়ে তোলপাড় সারাদেশ। কার ঘাড়ে দোষ চাপানো যায়, তাই নিয়ে ব্যস্ত রাজনীতিবিদেরা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী গতকাল বলেছিলেন, রাজশাহী মেডিকেলের পরিচালককে ফাঁসি দেয়া উচিত, সে কেন ভেন্টিলেটরের সমস্যার কথা মন্ত্রীকে জানায়নি ইত্যাদি।’
তিনি বলেন, ‘আমি গতকালই এ ব্যাপারে লিখেছি যে, কত ধরনের জানার সুযোগ ও লোক আছে, কিন্তু সমাধান হয় না। আজ মন্ত্রী আরেকটি মন্তব্যে বলেছেন গত ৮ বছরে নাকি হামের টিকা দেয়া হয়নি। ব্যাপারটা অদ্ভুত মনে হলো কেননা ভ্যাক্সিনেশনে বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে রোল মডেল মানা হয় লো-মিডল ইনকাম দেশগুলোর মাঝে। ৮ বছর হামের টিকা দেয়া না হলে ভয়াবহ বিপদ হিসেবে দেশি-বিদেশি সকল মিডিয়ায় প্রচার হতো।’ এ কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকা বিভাগের (ইপিআই) নিজস্ব ড্যাশবোর্ডে নজর দেন বলে জানান তিনি।
ইপিআইয়ের নিজস্ব তথ্যে আরও ভয়ংকর একটি ব্যাপার চোখে পড়লো উল্লেখ করে মারুফুর রহমান অপু বলেন, ‘বিগত বছরগুলোয় শতকরা ৮০-৯০ ভাগ টিকা প্রদান হলেও ২০২৫ সালে এ হার নেমে এসেছে ৬০ শতাংশের নিচে। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক এর কাছাকাছি শিশু টিকা পায়নি গত বছর।’
তিনি বলেন, ‘ধরে নিচ্ছি এখানে ডাটা ইনকমপ্লিট, বিশ্বাস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব ধরলে (২০২৫ সালের হিসাব এখনো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে আসে নি) আনুমানিক ৭০ শতাংশে পৌঁছাবে। আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ কম। সংখ্যা হিসেবে এটি অনেক বড় সংখ্যা। সুতরাং হাম ছড়ানো অস্বাভাবিক না।’
আরও পড়ুন: ট্রেন্ড বদলে সময়ের আগেই আক্রমণে হাম, এক হাসপাতালেই মৃত্যু ২২ জনের
কোভিডের দুই বছরেও টিকাদানের হার ৯০ শতাংশের বেশি ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ইপিআই ড্যাশবোর্ডে আরও দেখুন, গত বছর ১৩.২ শতাংশ মানুষকে বিসিজি (যক্ষ্মা) টিকা দেয়া হয়নি, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক অনেক বেশি। তাহলে দেখা যাচ্ছে, টিকাদানে সবচেয়ে বড় গাফিলতি হয়েছে গত বছরেই।
মারুফুর রহমান অপু বলেন, ইন্টেরিম সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক পরিচালকের অধীনে। মন্ত্রী মহোদয় তাদের কে কি কিছু বলবেন? কাউকে ফাঁসিতে চড়াবেন? কোন অনুসন্ধানী সাংবাদিক কি জেরা করবেন যে, কার ব্যর্থতায়, কোন ব্যর্থতায় এই কাণ্ড হলো?
পোস্টে সংযোজন দিয়ে মারুফুর রহমান অপু বলেন, টিকাকার্যক্রম সংশ্লিষ্ট অনেকে জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ড্যাশবোর্ডের তথ্য অসম্পূর্ণ, ডাটা ইনকমপ্লিট, অনেক যায়গায় ট্যালি ছাড়াই টিকা দেয়া হয়েছে। এগুলোও একাউন্টেবিলিটির ব্যর্থতা। ট্যালি ছাড়া টিকা দেয়া হলে বা ডাটা ইনকমপ্লিট থাকলে আসলেই কতজন টকা পেয়েছে, তা বলা সম্ভব নয়। দিন শেষে তার ভুক্তভোগী সাধারন মানুষই হবে।