রামেক হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ১২ শিশুর মৃত্যু

২৯ মার্চ ২০২৬, ০৫:১০ PM
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ © টিডিসি

রাজশাহী বিভাগে অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হামের প্রাদুর্ভাব বর্তমানে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনা জেলায় সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত সাম্প্রতিক এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই বিভাগে সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনার প্রায় ২৯ শতাংশই হাম পজিটিভ। এই ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের ফলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওপর রোগীর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে, যা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং এই দুই জেলার পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি খারাপ। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে বিভাগের সব জেলা সদর ও উপজেলা হাসপাতালগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে আক্রান্ত রোগীদের আলাদা বা আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পাবনা সদর হাসপাতালে বর্তমানে ২০ জন হামের রোগী বিশেষায়িত ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। সংক্রমণের সঠিক পরিসংখ্যান সংগ্রহের কাজ চলছে, যা নিয়মিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে।

তবে হাসপাতালের সার্বিক অব্যবস্থাপনা ও আইসোলেশন সংকটের বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলামের বক্তব্য নিতে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শঙ্কর কে বিশ্বাস জানান, একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠকের পর ২৪ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আইসোলেশন কর্নার করা হয়েছে। যদিও সরেজমিনে অনেক রোগীকে সাধারণ ওয়ার্ডের বারান্দায় চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।

চলতি মাসে রামেক হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৯ জন শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে এবং বাকিরা আইসিইউর অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলো থেকে নিয়মিতভাবে শিশুদের আইসিইউতে নেওয়ার সুপারিশ করা হলেও শয্যা সংকটের কারণে অনেক শিশুর জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় গত তিন মাসে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং জেলা হাসপাতালটিতে বিপুলসংখ্যক শিশু চিকিৎসাধীন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর চাপের একটি প্রধান কারণ হলো কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরের মতো দূরবর্তী এলাকা থেকে উন্নত চিকিৎসার আশায় রোগীদের এখানে আসা। তবে ছোঁয়াচে রোগী হওয়া সত্ত্বেও যথাযথ আইসোলেশনের অভাবে সাধারণ রোগীদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন যে, ঠান্ডা বা নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে আসার পর তাদের সন্তানরা অন্য রোগীদের সংস্পর্শে এসে হামে আক্রান্ত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজশাহীতে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শিশু হাসপাতালটি জনবল সংকটের কারণে কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকা এবং সংক্রামক ব্যাধি (আইডি) হাসপাতালের সক্ষমতা না থাকা এই স্বাস্থ্য সংকটের অন্যতম কারণ। বর্তমানে আইডি হাসপাতালটি প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সুবিধার অভাবে সংক্রামক রোগীদের সেবা দিতে পারছে না। ফলে সব ধরনের সংক্রামক রোগীকে রামেক হাসপাতালেই পাঠাতে হচ্ছে। এদিকে অপারেশন প্ল্যানে পরিবর্তন ও নির্বাচনের কারণে জাতীয় পর্যায়ে হাম-রুবেলা (এমআর) ক্যাম্পেইন বিলম্বিত হওয়াকেও এই প্রাদুর্ভাবের পেছনে একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইবিতে অস্ত্র-রামদা হাতে মহড়া, শনাক্ত ১৯ জনই বিএনপি-ছাত্রদল-…
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রানওয়ে থেকে ছিটকে গেল বিমান, নিহত ৫
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পে স্কেল বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত বিশেষ সুবিধা বহাল দাবি, কী …
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বললে ৬১ লাখ টাকা জরিমানা!
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চ্যাম্পিয়নস লিগের আগে বড় সুখবর পেল রিয়াল মাদ্রিদ
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লড়াই করে শেষ ওভারে হারল বাংলাদেশ
  • ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9