স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীর চিঠি

৬ বছর ধরে পড়ে আছে তিন তলা ট্রমা সেন্টার, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ২২ লাখ

১৫ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৩ PM
ভৈরব ট্রমা সেন্টার

ভৈরব ট্রমা সেন্টার © সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রতিষ্ঠার ৬ বছরেও প্রশাসনিক অনুমোদন না মেলায় কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টার, হয়নি নিয়োগও। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে নির্মিত এই অবকাঠামো দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের কোনো কাজেই আসতে পারছে না। অর্থ মন্ত্রণালয় চাহিদা চেয়ে চিঠি দিলেও সাড়া দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ অবস্থায় শূন্য উপকারে ভবনের বিদ্যুৎ বিল ছাড়িয়েছে ২২ লাখ টাকা।

সম্প্রতি এই ভবনের বিদ্যুৎ বিল সমন্বয় ও দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদনের মাধ্যমে ট্রমা সেন্টার চালুর দাবি জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে চিঠি দিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ তলা বিশিষ্ট ২০ শয্যার বিশেষায়িত ট্রমা হাসপাতাল সেন্টার নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নির্মাণ শেষ হয় ২০২০ সালে। ভবন নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। তবে হাসপাতালটিতে ভবন নির্মাণ করা হলেও প্রশাসনিক অনুমোদন ও জনবল নিয়োগ করা হয়নি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে বিষয়টি উল্লেখ করে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম লিখেছেন, আমার নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জ-৬ এর অন্তর্গত ভৈরব উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে নির্মিত বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টার অদ্যাবধি চালু না হওয়ায় এর সেবা থেকে জনসাধারণ বঞ্চিত হচ্ছেন। ২০২০ সালে ট্রমা সেন্টারের অবকাঠামো নির্মাণশেষে স্বাস্থ্য বিভাগের নিকট হস্তান্তর করা হলেও অদ্যাবধি এর প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া যায়নি এবং কোনো জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও লিখেছেন, রেল, সড়ক ও নদীপথের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ভৈরব একটি জনবহল ও ব্যস্ত জনপদ হওয়ায় এখানে ট্রমা সেন্টার চালু করা হলে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপকৃত হবেন। সেবা কার্যক্রম চালু না হলেও ট্রমা সেন্টারের জন্য প্রতি মাসে বিপুল অংকের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে এর বিদ্যুৎ বিল প্রায় ২২ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমন্বয় করা প্রয়োজন। এমতাবস্থায় বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত জনবল নিয়োগপূর্বক এর সেবা কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ আকারে চালুর লক্ষ্যে সদয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

আরও পড়ুন: জুনের মধ্যেই ই-হেলথ কার্ড চালুর আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট ভৈরবসহ ৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ট্রমা সেন্টার কার্যক্রম চালুর জন্য তথ্য চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। সেখানে প্রস্তাবিত ট্রমা সেন্টারগুলোর পার্শ্ববর্তী ট্রমা সেন্টারের তালিকা ও দূরত্ব এবং মহাসড়ক হতে ট্রমা সেন্টারগুলোর দূরত্ব, প্রস্তাবিত শয্যার বিপরীতে পদ সৃজন, Medical and Surgical Requirement (MSR), পথ্য ও অন্যান্য খাতসমূহে রাজস্বখাতে বাৎসরিক ব্যয় সংক্রান্ত বিস্তারিত আর্থিক সংশ্লেষ এবং ট্রমা সেন্টারগুলোর ভবন হস্তান্তর/গ্রহণ সম্পর্কিত তথ্যসহ প্রস্তাবের সাথে প্রেরিত অন্যান্য কাগজপত্র চাওয়া হয়।

এই চিঠির পর ১৮ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট তথ্য চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে চিঠি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো তথ্য না পেয়ে গত বছরের ২০ অক্টোবর পুনরায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানা যায়নি। ভৈরব ছাড়া অপর ট্রমা সেন্টারগুলো হল— জাজিরা, শ্রীনগর, আটঘরিয়া, উল্লাপাড়া, শেরুপুর ও ছাতক।

ব্যাংক এশিয়ায় চাকরি, আবেদন শেষ ১২ এপ্রিল
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬
ইরান থেকে বিধ্বস্ত এফ-১৫ বিমানের দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধার করল …
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬
মহাসড়ক অবরোধ করে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, দীর্ঘ যানজট
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রভাষক নিয়োগ দেবে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়, আবেদন ২২ এপ্রিল …
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬
আজ থেকে নতুন সময়সূচিতে চলবে ব্যাংক-অফিস
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬
রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের পুকুরে বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে নেমে শিক…
  • ০৫ এপ্রিল ২০২৬