কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল © টিডিসি ফটো
বাংলাদেশে কুষ্ঠ রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছে কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। একটি ৩০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসা—এই তিনটি স্তরে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে এখানে মোট ৬০ জন জনবল কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে ৫ জন চিকিৎসক এবং ৫৫ জন বিভিন্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা ও সহায়ক কর্মী হিসেবে নিযুক্ত আছেন। প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং ১৮ থেকে ২০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকেন।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা বলেন, এখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রোগী ভর্তি হওয়ার পর থেকে শুরু করে ওষুধ দেওয়া, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসার প্রতিটি ধাপ ফ্রি অফ কষ্ট সম্পন্ন করা হয়। এখানে কুষ্ঠ রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্লাইড স্ক্রিনিং, সিবিসি (CBC), এবং ইএসআর (ESR) টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষাই বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। এ ধরনের সেবা অবহেলিত ও আর্থিকভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য এক বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করছে।
আরও পড়ুন: ছাত্র ইউনিয়ন নেতার বিরুদ্ধে থানায় জিডি করলেন আবরার ফাইয়াজ
তিনি বলেন, এখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে অনেকে বিকলাঙ্গ অবস্থায় আসেন। দীর্ঘদিন চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেকের হাত-পা বেঁকে যায়। শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় বোধশক্তিও থাকে না। তাদের জন্য প্রতিদিন ড্রেসিং ও পর্যবেক্ষণের কাজ পরিচালনা করেন অভিজ্ঞ ডাক্তাররা। দুর্দশাগ্রস্ত ও অবহেলিত এই রোগীদের অনেক সময় পরিবারের সদস্যরাও গ্রহণ করতে চান না। কিন্তু এই হাসপাতাল তাদের প্রতি মানবিক দায়িত্ব পালন করে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, কুষ্ঠ রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা যায় চামড়ার লালচে ভাব, পশম উঠে যাওয়া, ও বোধশক্তির হ্রাস। এটি একটি ধীর সংক্রামক ও চর্ম সংক্রান্ত রোগ। সাধারণত প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীকে কিছুটা সুস্থ করতে ২ সপ্তাহের মতো সময় লাগে। তবে অনেক সময় ঘা শুকিয়ে গেলেও বোধশক্তি আর ফিরে আসে না। যার ফলে ইঁদুর কামড় দিলেও অনেক রোগী তা বুঝতে পারেন না। এজন্য তাদের সতর্ক ও সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সূত্র আরও জানায়, রোগীদের সচেতন করতে জেলা ভিত্তিক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। যেখানে সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন এনজিও একযোগে কাজ করে। এই উদ্যোগ কুষ্ঠ নির্মূলে দেশের জন্য একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।