জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট © টিডিসি ফটো
মহাখালীস্থ জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রিএজেন্ট ইউনিট এক সময় ছিল দেশের সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও গবেষণাগারের নির্ভরযোগ্য রিএজেন্ট সরবরাহ কেন্দ্র। এখান থেকেই নিয়মিতভাবে পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কেমিক্যাল, সল্যুশন ও স্টেইন সরবরাহ করা হতো সারা দেশে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে বাহিরের প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগাযোগ প্রায় বন্ধসহ আগ্রহও কমে গেছে।
জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট রিএজেন্ট ইউনিটের এক কর্মকর্তা বলেন, এই ইউনিটে রক্ত পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রোডাক্ট উৎপাদন করা হয়। এক সময় এ পণ্যের চাহিদা ছিল অনেক বেশি। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ করা হতো এবং সরাসরি রিএজেন্ট সংগ্রহের জন্য লোকজন আসতেন। তবে বর্তমানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। এখন আর তেমন কেউ বাহির থেকে আসে না। বলতে গেলে যোগাযোগও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। চাহিদাও আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। যদিও আশপাশের কিছু প্রতিষ্ঠান এখনও মাঝে মাঝে প্রয়োজন অনুযায়ী রিএজেন্ট সংগ্রহ করে থাকেন।
আরও পড়ুন: ‘পদত্যাগের ভাবনার’ মতো সংকটে কীভাবে পড়লেন অধ্যাপক ইউনূস?
প্রতিষ্ঠানসূত্রে জানা যায়, ডায়াগনস্টিক রিএজেন্ট ইউনিট থেকে সাধারণত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রিএজেন্ট সরবরাহ করা হয়। এর আওতায় সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং গবেষণাগারে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় রিএজেন্টসমূহ নিয়মিতভাবে সরবরাহ করা হয়। উৎপাদিত প্রতিটি দ্রব্যের গুণগত মান নির্ধারিত পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা ও নিশ্চিত করা হয়। যাতে চিকিৎসা পরীক্ষার নির্ভুলতা বজায় থাকে। এছাড়াও, হেমাটোলজি, ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি ও মাইক্রোবায়োলজির বিভিন্ন পরীক্ষায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের স্টেইন ও সল্যুশন এই বিভাগে প্রস্তুত করা হয়।
সূত্র আরও জানায়, ডায়াগনস্টিক রিএজেন্ট ইউনিট থেকে বর্তমানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক রিএজেন্ট ও কিট উৎপাদন করা হয়। যা দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, ল্যাবরেটরি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই পণ্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: ক্রিস্টাল ভায়োলেট রঞ্জক (৫০০ মিলিলিটার), বেসিক ফিউচসিন রঞ্জক (৫০০ মিলিলিটার), কারবোল ফিউচসিন রঞ্জক (৫০০ মিলিলিটার), গ্রাম আয়োডিন সল্যুশন (৫০০ মিলিলিটার), লুগলের আয়োডিন (১০০ মিলিলিটার), লিশম্যান স্টেইন (১০০ মিলিলিটার), এবং গিমসা স্টেইন (১ কিট)। এছাড়াও এখানে তৈরি হচ্ছে রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিলিরুবিন টেস্ট কিট (১ কিট), ক্রিয়াটিনিন টেস্ট কিট (১ কিট) এবং ইডিটিএ (EDTA) ভায়াল (১ ভায়াল)। এসব উপকরণ মাননিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হয় যা রোগ নির্ণয়ের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মো. মমিনুর রহমান বলেন, ‘ইতিপূর্বে এখানকার বিভিন্ন ইউনিট সরকারিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান কয়েকটি বিভাগের কাজ সীমিত আকারে চলছে। তবে এ সমস্যার সমাধানে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি অচিরেই এর একটি ইতিবাচক সমাধান হবে।’