কণ্ঠনালির ক্যান্সার © গুগল
দীর্ঘদিন ধরে কণ্ঠস্বর ভেঙে থাকা, কথা বলার সময় কথার পরিবর্তন কিংবা খাবার গিলতে অসুবিধা- এসব সমস্যাকে অনেকেই সাধারণ গলার সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন। তবে এমন উপসর্গ কখনো কখনো কণ্ঠনালির ক্যান্সারের লক্ষণও হতে পারে। বিশেষ করে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের অভ্যাস থাকলে এসব বিষয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি।
কণ্ঠনালির ক্যান্সারকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ল্যারিঞ্জিয়াল ক্যান্সার বলা হয়। কণ্ঠনালি বা স্বরযন্ত্রে থাকা স্বরতন্ত্রী বাতাসের প্রবাহে কম্পিত হয়ে মানুষের কণ্ঠস্বর তৈরি করে। এই অংশের কোষে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি থেকে ক্যানসার সৃষ্টি হতে পারে।
কেন হয় এ ক্যান্সার?
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার কণ্ঠনালির ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণও এ ঝুঁকি বাড়ায়। তামাক ও অ্যালকোহল একসঙ্গে ব্যবহারের ফলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক গবেষকগোষ্ঠী ‘ইনহ্যান্স কনসোর্টিয়াম’-এর একটি গবেষণায় তামাক ও অ্যালকোহল ব্যবহারের সঙ্গে মাথা ও ঘাড়ের বিভিন্ন ক্যান্সারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়। এতে কণ্ঠনালির ক্যান্সারের ২ হাজার ৯৫৯ জন রোগীসহ মোট ১৩ হাজার ১৩০ জনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গবেষণায় দেখা যায়, তামাক ও অ্যালকোহল ব্যবহারের সম্মিলিত প্রভাব কণ্ঠনালির ক্যান্সারের ঝুঁকির সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্পর্কিত। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত কণ্ঠনালির ক্যান্সারের প্রায় ৮৯ শতাংশের সঙ্গে তামাক ও অ্যালকোহল ব্যবহারের সম্পর্ক ছিল।
কী কী লক্ষণ দেখা দেয়?
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের (এনসিআই) তথ্য অনুযায়ী, কণ্ঠনালির ক্যান্সারের অবস্থানভেদে উপসর্গের পার্থক্য হতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলো মধ্যে, দীর্ঘদিন ধরে কণ্ঠস্বর ভেঙে থাকা বা পরিবর্তন হওয়া, গলাব্যথা কিংবা দীর্ঘস্থায়ী কাশি, খাবার বা পানি গিলতে অসুবিধা কিংবা ব্যথা, কানে ব্যথা হওয়া, গলা বা ঘাড়ে চাকা কিংবা ফোলাভাব দেখা দেওয়া, শ্বাস নিতে বা কথা বলতে অসুবিধা এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়া।
আরও খবর: শিক্ষাখাতে কর্মসংস্থানের হার: ৩০ শতাংশের বৃত্ত ভাঙতে পারছে না নারীরা
এসব উপসর্গ দেখা দিলেই ক্যান্সার হয়েছে, এমন নয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরণের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কীভাবে শনাক্ত ও চিকিৎসা করা হয়
কণ্ঠনালির ক্যান্সার শনাক্ত করতে চিকিৎসক প্রথমে রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন। এরপর ল্যারিঙ্গোস্কোপির মাধ্যমে কণ্ঠনালির ভেতরের অংশ দেখা হয়। সন্দেহজনক টিস্যু পাওয়া গেলে বায়োপসি করে পরীক্ষাগারে ক্যান্সার নিশ্চিত করা হয়। রোগের বিস্তার নির্ধারণে প্রয়োজনে সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা পিইটি স্ক্যান করা হয়।
রোগের পর্যায়, টিউমারের অবস্থান ও রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপি ব্যবহার করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে ইমিউনোথেরাপিও দেওয়া হতে পারে।
প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে অস্ত্রোপচার বা রেডিওথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে রোগ বেশি ছড়িয়ে পড়লে একাধিক পদ্ধতির সমন্বয়ে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। কণ্ঠনালির সম্পূর্ণ অংশ অপসারণ করতে হলে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার ক্ষমতা হারাতে পারেন রোগী। সে ক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতিতে কথা বলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রতিরোধে করণীয়
কণ্ঠনালির ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য পরিহার করতে হবে। অ্যালকোহল গ্রহণ থেকেও বিরত থাকা উচিত। দীর্ঘদিন কণ্ঠস্বর পরিবর্তন, গলাব্যথা কিংবা খাবার গিলতে সমস্যা হলে অবহেলা না করে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। সময়মতো রোগ এটি বোঝা গেলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।