প্রোবায়োটিক-সমৃদ্ধ খাবার © এআই সম্পাদিত ছবি
বর্ষাকালে আর্দ্রতা বৃদ্ধি, খাদ্য দূষণ এবং পানিবাহিত জীবাণুর কারণে হজমের সমস্যা, পেটের সংক্রমণ ও পেট ফাঁপার মতো নানা জটিলতা বেড়ে যায়। এ সময় অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রোবায়োটিক-সমৃদ্ধ খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসব খাবারে থাকা উপকারী জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে, হজমশক্তি উন্নত করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করে।
অনেকের ধারণা, সব ব্যাকটেরিয়াই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তবে বাস্তবে কিছু ব্যাকটেরিয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। প্রোবায়োটিক হলো এমনই এক ধরনের জীবন্ত অণুজীব, যা খাবার বা সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে অন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বর্ষাকালে খাদ্যতালিকায় যেসব প্রোবায়োটিক-সমৃদ্ধ খাবার রাখা যেতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে :
টকদই: ঘরে তৈরি টকদই উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভালো উৎস। এটি হজমে সহায়তা করে এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ঘোল: দই থেকে তৈরি ঘোল সহজে হজম হয়। এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করতে সহায়ক হলেও অতিরিক্ত লবণ মিশিয়ে খাওয়া উচিত নয়।
কেফির: গাঁজানো দুধ থেকে তৈরি এই পানীয়তে বিভিন্ন ধরনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ও ইস্ট থাকে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও হজমশক্তি উন্নত করতে সহায়ক।
ইডলি ও দোসা: গাঁজানো চাল ও ডালের মিশ্রণে তৈরি ইডলি ও দোসায় উপকারী অণুজীব থাকে। হালকা ও সহজপাচ্য হওয়ায় বর্ষাকালে এগুলো ভালো খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
ফার্মেন্টেড সবজি: প্রাকৃতিকভাবে গাঁজানো গাজর, শসাসহ বিভিন্ন সবজি অন্ত্রের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়ার উৎস হতে পারে। তবে এগুলো অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে দূষণের ঝুঁকি না থাকে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, শুধু প্রোবায়োটিক নয়, অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধির জন্য আঁশসমৃদ্ধ ফল, শাক-সবজি, গোটা শস্য ও ডালজাতীয় খাবারও নিয়মিত খাওয়া উচিত। পাশাপাশি বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি পান, খাবার তৈরিতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বর্ষাকালে বাসি বা খোলা খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সুষম খাদ্যাভ্যাস, প্রোবায়োটিক-সমৃদ্ধ খাবার এবং খাদ্য নিরাপত্তার নিয়ম মেনে চললে বর্ষাকালে পেটের নানা সমস্যা থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকা সম্ভব।