প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
তেল-ঝাল-মশলা এড়িয়ে চলছেন, রাতে খাচ্ছেন একদম হালকা খাবার, তবুও কি পিছু ছাড়ছে না গ্যাস-অম্বলের সমস্যা? রাতে খেয়ে শুতে গেলেই গলা-বুক জ্বালা কিংবা সকালে উঠে পেট ব্যথার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। অনেকেই ভাবেন, এক গ্লাস জল বা হজমের ওষুধেই মিলবে মুক্তি। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু ওষুধে নয়, বরং সমাধান লুকিয়ে আছে আপনার রাতের কিছু অভ্যাসে।
বিশেষ করে, রাতে খাওয়ার পর ধূমপানের অভ্যাস শরীরের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনছে। এটি কেবল ফুসফুসেরই ক্ষতি করছে না, বরং সরাসরি আপনার পাকস্থলীর কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। জীবনযাত্রার সামান্য কিছু পরিবর্তন আর রাতের ছোট পাঁচটি অভ্যাসই পারে আপনাকে এই অস্বস্তিকর বদহজম থেকে মুক্তি দিতে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, সুস্থ থাকতে রাতে খাওয়ার পর কোন নিয়মগুলো মানা জরুরি।
১) খেয়ে ওঠার আধ ঘণ্টা পরে এক গ্লাস জল খেতে হবে। খাবার খাওয়ার সময়ে জল খাবেন না কিন্তু। অনেকেরই খেতে বসে পিপাসা পায়। সে ক্ষেত্রে খেতে বসার আধ ঘণ্টা আগে জল খেয়ে নেবেন।
২) রাতে খেয়ে উঠে অন্তত ১৫-২০ মিনিটের মতো হাঁটতে হবে। ছাদে, বারান্দায় বা ঘরের ভিতরেও হাঁটতে পারেন। এক জায়গায় বসে না থাকলেই হল। এতে হজম যেমন ভাল হবে, তেমনই রক্তে শর্করাও জমতে পারবে না।
৩) খেয়ে উঠেই ঘুমোতে যাবেন না। ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নিতে হবে। কেউ যদি ১১টায় ঘুমোতে যান, তাঁকে ৮টায় খেয়ে নিতে হবে। সেই জন্য দুপুরের খাওয়া সারতে হবে বেলা ১২টার মধ্যে।
৪) রাতের খাবার হতে হবে সবচেয়ে হালকা। বেশি ভারী খাবার রাতে এড়িয়ে যাওয়া ভাল। সূর্যাস্তের আগে হজমশক্তি ভাল থাকে। সে কারণেই ভারী খাবার খেয়ে নিতে বলা হয় সন্ধে নামার আগেই।
৫) রাতে খাওয়ার পর অনেকেরই ধূমপান করার অভ্যাস আছে। অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকলে ধূমপানের কারণে এই সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। সিগারেটের ধোঁয়া শুধু পরিপাকের কাজে ব্যাঘাত ঘটায় না, বরং ধূমপান খাদ্যনালির সেই পেশিগুলিকেও শিথিল করে দেয়, যা পাকস্থলীর অ্যাসিডকে তার নির্দিষ্ট স্থানে ধরে রাখে, ফলে সমস্যা আরও বাড়ে।