গরমে দেহ ও মনকে সতেজ রাখবে তরমুজ

স্বাস্থ্য ও জীবন
তরমুজ বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে  © প্রতীকী ছবি

গ্রীষ্মের দাবদাহে উত্তাপ্ত দেশ। সারাদিনের কাঠফাটা রোদে দেহ সহসাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এমন দিনেই আবার চলছে মুসলিম বিশ্বের আত্মসংযমের মাস পবিত্র মাহে রমজান। সারাদিন না খেয়ে থাকার কারণে দেহে পানির অভাব দেখা দেয়। ফলে দেহ অনেকটা নিস্তেজ হয়ে যায়। তাই দেহকে সতেজ করতে ইফতারের খাদ্য তালিকায় মৌসুমী বিভিন্ন ফলমূলের পাশাপাশি তরমুজ রাখা যেতে পারে। কারণ বিভিন্ন ফাস্টফুড জাতীয় খাবারের চেয়ে তরমুজ অধিক স্বাস্থ্যসম্মত। যা সারাদিনের ক্লান্তিভাব দূর করে দেহ ও মনকে সতেজ করবে।

জানা যায়, চার হাজার বছর আগে উত্তর-পূর্ব আফ্রিকায় তরমুজ চাষাবাদ শুরু হয়। উপরে সবুজ ভিতরে টকটকে লাল এই ফলের নানাবিধ গুণে পরবর্তীতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। এই সুস্বাদু ফলের প্রায় ৯২ শতাংশই পানি। যা শরীদের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। তরমুজে রয়েছে নানা প্রকার অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। বিশেষ করে অধিক পরিমাণে রয়েছে লাইকোপিন, অ্যাসকর্বিক এসিড আর সাইট্রুলিন। এছাড়া তরমুজ ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো নানা পুষ্টিগণে সমৃদ্ধ।

আরও পড়ুন: ডাবের পানির স্বাস্থ্য উপকারিতা

গবেষণার তথ্যমতে, এক কাপ (১৫২ গ্রাম) তরমুজে রয়েছে ৪৬ ক্যালোরি ,১১.৫ গ্রাম শর্করা, ০.৬ গ্রাম ফাইবার, ৯.৪ গ্রাম চিনি, ০.৯ গ্রাম প্রোটিন, ০.২ গ্রাম চর্বি এবং ভিটামিন এ দৈনিক মূল্যের (DV) ৫%, ভিটামিন সি ১৪%, পটাসিয়াম ৪%, ম্যাগনেসিয়াম ৪%।

গবেষণা বলছে, তরমুজে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও নানা পুষ্টি উপাদান মানুষকে হার্টের সমস্যা থেকে শুরু করে ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ সহায়তা করতে পারে। তাছাড়া তরমুজ সিট্রুলাইনের একটি সমৃদ্ধ উৎস। যেখানে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড ব্যায়ামের কর্মক্ষমতা উন্নত করতে সহায়তা করে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজের ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, অ্যামাইনো অ্যাসিড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও লাইকোপেন খাবারের পাশাপাশি রূপচর্চার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত উপকারী। এ পর্যায়ে তরমুজের নানান উপকারিতা তুলে ধরা হলো-

১) তরমুজে থাকা লাইকোপেন প্রোস্টেট ও কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। কারণ লাইকোপেন ইনসুলিনের মতো গ্রোথ ফ্যাক্টর (এজিএফ) রক্তের মাত্রা কমিয়ে কাজ করে বলে বিশ্বাস করা হয়। তাছাড়া এটি এমন একটি হরমোন, যা কোষ বিভাজনকে নিরুৎসাহিত করে। কারণ দেহে কোষ বিভাজন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে গেলেই ক্যান্সারের সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন: রসুনের স্বাস্থ্য উপকারিতা ও অপকারিতা

২) তরমুজে থাকা লাইকোপিন এবং সিট্রুলাইন রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্টের রক্ত সঞ্চালন ও কোলস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে, তরমুজে থাকা লাইকোপেন উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায়তা করে। এছাড়া তরমুজে থাকা সিট্রুলাইন অ্যামিনো অ্যাসিড শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডের মাত্রা বাড়াতে পারে। যা দেহের রক্তনালীকে প্রসারিত করার মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে।

৩) তরমুজে থাকা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, অ্যামাইনো অ্যাসিড, পটাশিয়াম, মিনারেল ব্যায়ামের পর পেশিতে শক্তি যোগাতে উপকারী। তাই ব্যায়ামের পর এক ফালি তরমুজ খাদ্য তালিকায় রাখা যেতেই পারে।

৪) তরমুজে থাকা ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে এবং ভিটামিন সি ও বি সিক্স রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং চুল ও ত্বকে শক্তি সঞ্চার করতে সহায়ক।

৫) তরমুজের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মস্তিষ্ক ও শরীর ঠান্ডা রেখে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি ও উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায়তা করে। তাই এ গরমে নিয়মিত তরমুজ খেলে এসব স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমবে বলে ধারণা করা হয়।

আরও পড়ুন: এলাচের পুষ্টি উপাদান ও উপকারিতা

৬) তরমুজের ৯২ শতাংশই পানি। তাই এটি পানিশূন্যতা দূর করার পাশাপাশি হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। এমনকি শরীরের দূষিত পদার্থ বের করে দিয়ে ত্বকও ভালো রাখে। কারণ তরমুজে থাকা লাইকোপেন ও বিটা ক্যারোটিন ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর করে। এছাড়া ভিটামিন এ ত্বকের ক্ষয় কমিয়ে নতুন কোষ জন্মাতে সাহায়তা করে। তাই ত্বকের যত্নে প্রতিদিন এক চামচ তরমুজের রস ও টক দই মিশিয়ে মুখ, হাত-পা, গলায় লাগিয়ে ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। তাহলে ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর হওয়ার পাশাপাশি দেহের শুষ্ক এবং মলিন ত্বকও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।


x