বাংলাদেশি নন, অনুমতি না মেলায় কাজ বন্ধ ড. বিজন কুমারের

৩১ আগস্ট ২০২০, ০৯:২৮ PM

© ফাইল ফটো

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান বিজ্ঞানী এবং করোনা শনাক্ত করার ‌কিটের আবিস্কারক ড. বিজন কুমার শীল প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের কাজ থেকে বিরত আছেন। নাগরিকত্ব এবং ভিসা জটিলতায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক হলেও আগেই বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে দিয়ে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন।

এতদিন বাংলাদেশে তার কাজ করতে অসুবিধা না হলেও জুলাইয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগ বলে দিয়েছে, বিদেশি নাগরিক হিসেবে কাজের অনুমতি না নিয়ে তিনি কাজ করতে পারবেন না। ড. বিজন গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে টুরিস্ট ভিসায় আসেন। সেই ভিসার মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হলেও বলে দেয়া হয়েছে যে, এখানে কাজ করতে হলে অনুমোদন লাগবে।

ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এরইমধ্যে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপটমেন্ট অথরিটির (বিআইডিএ) কাছে তার কাজের অনুমোদন চেয়েছে। বিআইডিএ জানিয়েছেন, ‘অনুমোদনের বিষয়টি কোন পর্যায়ে আছে তা জানানো সম্ভব নয়। এটি একজন ব্যক্তির গোপন তথ্য।’

ড. বিজন কুমার জানান, তিনি বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে গিয়ে ২০০২ সালে সেখানকার সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। ওই দেশের নিয়ম অনুযায়ী সেখানকার সিভিল সার্ভিসে চাকরি করতে হলে সে দেশের নাগরিক হতে হয়। আর সিংগাপুরে দ্বৈত নাগরিকত্বের বিধান নেই। ফলে তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে হয়।

তিনি গত জানুয়ারি মাসে যখন বাংলাদেশে আসেন তখন টুরিস্ট ভিসায় আসেন। এক বছরের এই ভিসা তার আগেই নেয়া ছিলো। যার মেয়াদ জুলাই মাসে শেষ হলে তিনি আরও এক বছরের টুরিস্ট ভিসা পান। কিন্তু এবার শর্ত দেয়া হয়েছে যে বাংলাদেশে কোনো প্রতিষ্ঠানে তিনি কাজ করতে পারবেন না।

ড. বিজন জানান, ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আমার জন্য বিদেশি হিসেবে কাজ করার অনুমতির আবেদন আগেই করা হয়েছে। কিন্তু সেই অনুমতি এখনো না দেয়ায় আমি এখনো টুরিস্ট ভিসায়ই আছি।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তার ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করেছি। সে বাংলাদেশের একজন কৃতি বিজ্ঞানী। তাকে আমরা সারাজীবন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে রাখতে চাই। কিছু লোক নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার ধারণা এটা ঠিক হয়ে যাবে।’

ড. বিজন কুমার বলেন, ‘আমি জুলাই থেকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সব ধরনের কাজ থেকে বিরত আছি। যেহেতু টুরিস্ট ভিসার শর্ত হলো আমি এখানে কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে সরকারের ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কাজ করতে পারবনা। তাই কাজ করছিনা।’

বিদেশি পাসপোর্টধারীদের বাংলাদেশে কাজের অনুমতি দেয়ার জন্য কাজ করে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিআইডিএ)। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আরিফুল হক জানান, ‘আবেদনটি আমাদের এখানে বিবেচনাধীন আছে। কিন্তু বিষয়টি ব্যক্তিগত, তাই কোনো তথ্য দেয়া যাবেনা।’

প্রতিবছর গড়ে ১০ হাজারেরও বেশি বিদেশি নাগরিক বাংলাদেশে কাজের অনুমতি চেয়ে বিআইডিএতে আবেদন করেন। সাধারণত নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষই এই আবেদন করে থাকে। ১০ ধরনের কাগজপত্র জমা দিতে হয় আবেদনের সঙ্গে।

আরিফুল হক জানান, ‘কাগজপত্র ঠিক থাকলে এক-দুই দিনের মধ্যেই আমরা অনুমোদন দিই।’ কিন্তু ড. বিজন কুমার শীলের পক্ষে আবেদন করা হয়েছে গত মার্চ মাসে। এখনো অনুমোদন মেলেনি। তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। তার কাগজপত্র ঠিক থাকলে অনুমতি পেয়ে যাবেন।

ড. বিজন কুমার শীলের জন্ম ১৯৬১ সালে নাটোরে। তিনি বনপাড়া সেন্ট জোসেফ স্কুল থেকে এসএসসি ও পাবনা অ্যাডওয়ার্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন৷ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভেটেরেনারি মেডিসিনে মাস্টার্স করা বিজন কুমার ডক্টরেট করেছেন ইংল্যান্ডের সারে ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৯১ সালে। সেখানে তিনি ১০ বছর কাজ করেন।

২০০২ সাল থেকে তিনি সিংগাপুরের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল এনভায়রোনমেন্ট এজেন্সিতে কাজ শুরু করেন। সার্স ভাইরাস পরীক্ষার কিটের পেটেন্ট ড. বিজন কুমারের নিজের। তিনি সিংগাপুরের ন্যাশনাল এনভায়োরোমেন্ট এজেন্সিতে চাকরিরত অবস্থায় ২০০৩ সালে এই কিট আবিস্কার করেন।

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি ভাইরোলজি বিভাগে চেয়ারপার্সন হিসেবে যোগ দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালের প্রধান বিজ্ঞানী হিসেবেও যোগ দেন।

ড. বিজন বলেন, ‘আমি দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে দেশে এসেছি। তারাই বিবেচনা করবে আমি কিছু করেছি কিনা। আমাকে কাজের অনুমতি না দিলে আমি সিঙ্গাপুরে ফিরে যাব।’

তিনি এখন সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব ছেড়ে ফের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নেবেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, ‘সে সিদ্ধান্ত আমি এখনো নেইনি। এখনো সেটা ভাবার সময় আসেনি।’ তিনি এখন তার আগের গবেষণার বিষয় নিয়ে ব্যক্তি পর্যায়ে লেখালেখি করছেন। আর নিজে থেকে নতুন একটি গবেষণায় হাত দিয়েছেন বলে জানান।

বিদ্যালয়টি ফিরল শিক্ষামন্ত্রীর নামে
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩২ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে করতে এমপির বক্তব্যের সময় শেষ
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
সুশাসন নিশ্চিতে নিরপেক্ষ প্রশাসনের বিকল্প নেই
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন সরকারি…
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
এনএসইউতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা স…
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬