ক্যানসার প্রতিরোধে নতুন এমআরএনএ ভ্যাকসিনে আশার আলো দেখছেন গবেষকরা

২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪০ PM , আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৩ PM
দীর্ঘ অস্থিরতার পর এমআরএনএ ভ্যাকসিনে ক্যানসার প্রতিরোধে আশার আলো দেখছেন গবেষকরা

দীর্ঘ অস্থিরতার পর এমআরএনএ ভ্যাকসিনে ক্যানসার প্রতিরোধে আশার আলো দেখছেন গবেষকরা © টিডিসি

এক বছরের নানা অনিশ্চয়তা ও বিতর্কের পর আবারও আশাব্যঞ্জক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছেন ক্যানসার গবেষকরা। বিশেষ করে এমআরএনএ (mRNA) প্রযুক্তিনির্ভর ভ্যাকসিন ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন তারা। এটি মূলত ডিএনএ থেকে তথ্য বহন করে কোষকে প্রোটিন তৈরি করতে নির্দেশ দেয়। কোভিড-১৯ মহামারির সময় বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায় এমআরএনএ। তবে এর আগেই ক্যানসার গবেষণায় এই প্রযুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ চলছিল।

হঠাৎ বদলে যাওয়া এক জীবন
নিউইয়র্কের ওশেনসাইডে বসবাসকারী ভিটা সারা ব্লেখনারের জীবন বদলে যায় ২০২০ সালের ৭ মার্চ। সেদিন হঠাৎ তীব্র পিঠের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গেলে পরীক্ষায় ধরা পড়ে অগ্ন্যাশয়ে টিউমার। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। আমি তো ধূমপান বা মদ কিছুই করি না। তবুও আমার এটা কেনো হলো?

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার অত্যন্ত মারাত্মক। পরিসংখ্যান বলছে, আক্রান্তদের প্রতি চারজনের একজন এক বছরের বেশি বাঁচেন না, আর দুই বছর বাঁচেন মাত্র প্রতি দশজনের একজন।

কঠিন প্রতিপক্ষ: ক্যানসার
গবেষকদের মতে, ক্যানসারের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন তৈরি করা ভাইরাসের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন। কারণ ভাইরাস বাইরের শত্রু হলেও ক্যানসার তৈরি হয় শরীরের নিজস্ব কোষ থেকেই। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষকরা লক্ষ্য করেন, কিছু রোগীর শরীরে শক্তিশালী টি-সেল প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, যা ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে। তবে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হওয়ায় কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরি করতে হলে সেটিকে ব্যক্তিভিত্তিক হতে হয়।

ব্যক্তিগত ভ্যাকসিনের পথে
ব্লেখনার চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্কের একটি বিশেষায়িত ক্যানসার কেন্দ্রে যোগ দেন এবং একটি পরীক্ষামূলক এমআরএনএ ভ্যাকসিন ট্রায়ালে অংশ নেন। প্রথমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার টিউমার অপসারণ করা হয়। এরপর সেই টিউমারের নমুনা জার্মানিতে পাঠিয়ে তার জন্য আলাদা করে মেসেঞ্জার আরএনএ ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। দুই মাসের মধ্যে সেই ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়।

চিকিৎসার অংশ হিসেবে তিনি ইমিউনোথেরাপি ও কেমোথেরাপিও নেন, যদিও কেমোথেরাপির তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে তা বন্ধ করতে হয়। পরে 
চিকিৎসার ছয় বছরেরও বেশি সময় পর ব্লেখনার এখন সম্পূর্ণ ক্যানসারমুক্ত।

একই ট্রায়ালে অংশ নেওয়া ১৬ জন রোগীর মধ্যে ৮ জনের শরীরে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, এবং তাদের মধ্যে ৭ জন এখনো জীবিত। এই ফলাফল একটি আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জ
কোভিড-পরবর্তী সময়ে এমআরএনএ প্রযুক্তি নিয়ে নানা রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। এর ফলে গবেষণা তহবিল কমে যায় এবং কিছু প্রকল্প বাতিলও করা হয়। পাশাপাশি ভ্যাকসিন নিয়ে জনমনে সন্দেহও বাড়ে। তবে গবেষকদের মতে, এসব বাধা সত্ত্বেও প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা এখনো অত্যন্ত শক্তিশালী।

নতুন দিগন্তের সন্ধানে
বর্তমানে এমআরএনএ ভ্যাকসিন নিয়ে দুই ধরনের গবেষণা চলছে—রোগীভিত্তিক ব্যক্তিগত ভ্যাকসিন ও সবার জন্য ব্যবহারযোগ্য সাধারণ ভ্যাকসিন। এছাড়া নতুন ধারণা হিসেবে এমআরএনএ ভ্যাকসিন দিয়ে পুরো ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করার দিকেও কাজ চলছে। অন্যদিকে, মেলানোমা ক্যানসারে পরিচালিত একটি যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারে পাঁচ বছরে মৃত্যুহার প্রায় ৪৯ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
গবেষকদের বিশ্বাস, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ভ্যাকসিন তৈরি করা সম্ভব হবে এবং ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যাবে। এটি বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারে প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে। তাদের মতে, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ক্যানসার চিকিৎসার ধরণই বদলে দিতে পারে।

বিশ্বজুড়ে এই প্রযুক্তির ২০০ কোটিরও বেশি ডোজ প্রয়োগের পরও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রমাণ মেলেনি। বর্তমানে সুস্থ জীবনযাপন করছেন ভিটা ব্লেখনার। তার ভাষায়, পাঁচ বছর পার হওয়ার পর বুঝলাম আমি ভালো আছি। এখন প্রতিদিনই আমার কাছে একেকটা উপহার। [সূত্র: সিএনএন]

এসএসসি পরীক্ষার হলে সিলিং ফ্যান পড়ে শিক্ষার্থী আহত
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
বিএনপি নেতার সঙ্গে মারামারি করা সেই শিক্ষিকা বরখাস্ত
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
নার্সিংয়ের ডিজির দায়িত্বে অতিরিক্ত সচিব দিল আফরোজা
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
রোটারি পিস ফেলোশিপে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ইউরোপ-আমেরিকা-জাপান-অ…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের ঘরে ফেরার আহ্বান প্রতিমন্ত্…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
খুবি ও আয়ারল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্টুডেন্ট রিসার্…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬