মো. আতাউর রহমান খান © সংগৃহীত
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে গত ২৫ মে পদোন্নতি দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। তবে নিয়োগের প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো পদায়নকৃত কর্মস্থলে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটির পর গত সোমবার প্রথম কার্যদিবসে মো. আতাউর রহমান খান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেন। পরে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের দপ্তরে গিয়ে যোগদানপত্র জমা দিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গত ২৫ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আতাউর রহমান খানকে অবমুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে তার অনুবিভাগে অন্য এক অতিরিক্ত সচিবকে পদায়ন করা হয়। এ অবস্থায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুর রহিম খান বর্তমানে সচিবের রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে রুটিন দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা নীতিগত ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমাবদ্ধ থাকায় বাজেট-সংশ্লিষ্ট কিছু জরুরি কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নতুন বাণিজ্য সচিবের নিয়োগের পর বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর বিষয়ে বিভ্রান্তিকর বা অসম্পূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হয়ে থাকতে পারে। এ কারণে যোগদানপত্র গ্রহণে বিলম্ব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আলোচনা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান গত ১৭ এপ্রিল রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর শূন্য হওয়া পদে নিয়োগ নিয়ে প্রশাসন ক্যাডারের কয়েকজন কর্মকর্তা আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে সরকার মো. আতাউর রহমান খানকে বাণিজ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আতাউর রহমান খান মূলত বিলুপ্ত ইকোনমিক ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন। ২০১৮ সালে ইকোনমিক ক্যাডার প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে একীভূত হয়। কর্মজীবনে তিনি পরিকল্পনা কমিশন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বাণিজ্য-সংক্রান্ত কাজে তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা সীমিত বলে কিছু কর্মকর্তার আপত্তির কথা জানা গেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, “সচিব পদে যোগদান প্রক্রিয়ায় অতীতেও এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত সময় লেগেছে। সেই বিবেচনায় এক সপ্তাহের বিলম্ব অস্বাভাবিক নয়। নতুন সচিব ইতোমধ্যে যোগদানপত্র জমা দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তিনি যে কোনো সময় দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন।”